ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করার নিয়ম ২০২২ । পুনরায় বাইক চালিয়ে পরীক্ষা দিতে হবে কিনা

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করার নিয়ম ২০২২ । পুনরায় বাইক চালিয়ে পরীক্ষা দিতে হবে কিনা

ড্রাইভিং লাইসেন্স ছাড়া বাইক নিয়ে রাস্তায় গেলেই ৫০০০ টাকা জরিমানা হবে – মেয়াদ উত্তীর্ণ লাইসেন্স দিয়ে ১৫ দিন বাইক চালানো যায়– ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করার নিয়ম ২০২২

ড্রাইভিং লাইসেন্স কিভাবে নবায়ন (Renew) করবেন- আমরা দৈনন্দিন জীবনে যারা বাইক রাইড করি তাদের ক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স অনেক গুরুত্বপুর্ন বিষয়। মোটরবাইক চালানোর ক্ষেত্রে ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকা আইনত দন্ডনীয় অপরাধ, লাইসেন্স ছাড়া বাইক চালালেই ৫০০০ টাকার মামলা খাবেন। আমাদের যাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স আছে তাদের সকলের একটি নির্দিষ্ট মেয়াদ অর্থাৎ ১০ বছরের জন্য লাইসেন্স করা আছে।

বাংলাদেশের সড়ক আইন ২০১৮ অনুযায়ী মোটরসাইকেলের ড্রাইভিং লাইসেন্স এর মেয়াদ ১০ বছর হয়ে থাকে। এই ১০ বছর অতিক্রান্ত হওয়ার পর আমাদের লাইসেন্সটি আবার নবায়ন বা হালনাগাদ করতে হয় যেটাকে আমরা ইংরেজিতে Driving License Renew বলে থাকি। আজকে আমরা আপনাদের সাথে আলোচনা করবো কিভাবে রিনিউ করবেন এবং কি কি কাগজপত্র জমা দিতে হবে এবং কত টাকা ব্যয় হবে। বাইকের ট্যাক্স টোকেন নবায়ন পদ্ধতি ২০২২ । ঘরে বসে বিকাশে বিআরটিএ ট্যাক্স টোকেন নবায়ন করুন

যদি সময় মত নবায়ন না করি? – ড্রাইভিং লাইসেন্স মোটরবাইক চালানোর জন্য অত্যাবশ্যকীয় বিষয় তাই এর নবায়ন করা খুবই জরুরী। আমাদের ড্রাইভিং লাইসেন্স এর মেয়াদ যদি শেষ হয়ে যায় এবং তা যদি নবায়ন করা না হয় তাহলে প্রতি বছর আপনাকে ২৩০ টাকা করে জরিমানা বাবদ দিতে হবে। এদিকে লাইসেন্স এর মেয়াদ শেষ হওয়ার দিন থেকে ১৫ দিন পর্যন্ত আপনার সুযোগ থাকবে নবায়নের জন্য। এক্ষেত্রে কোন প্রকার জরিমানা গুনতে হবে না। ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে জরিমানা কত ২০২২ । বাইকের ড্রাইভিং লাইসেন্স না থাকলে বড় জরিমানার সম্মুখীন হবেন

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করার নিয়ম টা কি? / অপেশাদারদেরও কি পুনরায় ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষা দিতে হয়? নাকি শুধু পেশাদারদের লাইসেন্স নবায়নে পুনরায় পরীক্ষা দিতে হয়?

সংশোধিত অর্গানোগ্রাম অনুযায়ী বর্তমানে বিআরটিএ’র মোট বিভাগীয় অফিস ৭টি এবং সার্কেল অফিস ৬২টি। এর মধ্যে জেলা সার্কেল ৫৭টি এবং মেট্রো সার্কেল ৫টি। বাংলাদেশের ৬৪টি জেলার মধ্যে বর্তমানে ৫৭টি জেলায় বিআরটিএ’র পূর্নাঙ্গ সার্কেল অফিস অছে। অবশিষ্ট ০৭টি জেলায় পাশবর্তী জেলা সার্কেল অফিসের সহকারী পরিচালক(ইঞ্জি:) কর্তৃক বিআরটিএ সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম সম্পাদন করা হয়। বিভাগীয় অফিসের প্রধান হচ্ছেন উপপরিচালক(ইঞ্জি:) এবং সার্কেল অফিসের প্রধান হচ্ছেন সহকারী পরিচালক(ইঞ্জি:)।

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করার নিয়ম ২০২২ । পুনরায় ড্রাইভিং প্র্যাকটিক্যাল পরীক্ষা দিতে হবে কিনা

লাইসেন্স নবায়নের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: ১। নির্ধারিত ফরমে আবেদন। ২। রেজিষ্টার্ড ডাক্তার কর্তৃক মেডিকেল সার্টিফিকেট। ৩। ন্যাশনাল আইডি কার্ড এর সত্যায়িত ফটোকপি। ৪। শিক্ষাগত যোগ্যাতার সনদ। ৫। নির্ধারিত ফী জমাদানের রশিদ। ৬। পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স-এর জন্য পুলিশি তদন্ত প্রতিবেদন। ৭। সদ্য তোলা ১ কপি পাসপোর্ট ও ১কপি স্ট্যাম্প সাইজ ছবি।

মোটরগাড়ি ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করার নিয়ম ২০২২ । যেভাবে যে কোন ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন করবেন।

  • ধাপ ১। ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সমূহ যেমন- ড্রাইভিং লাইসেন্স এর ফটোকপি, জাতীয় পরিচয় প্ত্র ( NID ) এর ফটোকপি, নাগরিক সনদ পত্র ( সিটি কর্পোরেশন এলাকায় ওয়ার্ড কাউন্সিলর কার্যলয় থেকে সংগ্রহ করতে হবে ) ফটোকপি ও সত্যায়িত, পাসপোর্ট সাইজের ছবি ৪ কপি, আসল ড্রাইভিং লাইসেন্স কার্ড সহ ব্যাংক ডিপোজিট দেওয়ার জন্য আপনাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স এর ফটোকপি নিয়ে বিআরটিএ অফিসের নবায়ন অফিসার এর কাছ থেকে সত্যায়িত করিয়ে নিতে হবে যা ব্যাংকে টাকা জমা দেওয়ার সময় ব্যাংক ডিপোজিট ফরম এর সাথে জমা দিতে হবে । ব্যাংক ডিপোজিট এর পরিমাণ ২৪২৭ টাকা। এই টাকা জমা দেওয়ার পর ব্যাংক রিসিপট পেপার সংগ্রহ করে যত্ন সহকারে রাখতে হবে।
  • ধাপ ২।  এখানে আপনাকে ২ ধরনের ফরম পূরণ করতে হবে- ১। নবায়ন ফরম ২। মেডিকেল ফরম। নবায়ন ফরমঃ নবায়ন ফরম পূরণের ক্ষেত্রে লক্ষ্যনীয় বিষয়গুলো হল- যদি আপনি বিবাহিত হন সেক্ষেত্রে আপনার স্ত্রী র নাম ও মোবাইল নাম্বার / স্বামীর নাম ও মোবাইল নাম্বার দিতে হবে। যদি অবিবাহিত হন সেক্ষেত্রে আপনার পিতার নাম অথবা মাতার নাম দিতে হবে। এই ফরম আপনি চাইলে অনলাইনে পূরণ করতে পারবেন। ২। মেডিকেল ফরমঃ মেডিকেল ফরম এর চেক আপ লিস্ট অনুযায়ী সকল বিষয় চেক করে ফরমটি একজন এমবিবিএস ডাক্তার দ্বারা মেডিকেল টেস্ট করিয়ে তা সত্যায়িত করিয়ে নিয়ে জমা দিতে হবে। এই ফরমটি আপনি বিআরটিএ এর আশেপাশে ফটোকপির দোকানগুলোতে পেয়ে যাবেন। এই দুইটি ফরমে ১ কপি করে ছবি সত্যায়িত করে নিতে হবে। এরপরে নবায়ন ফরম ও মেডিকেল ফরম পূরণ করে জাতীয় পরিচয় পত্রের ফটোকপি, ড্রাইভিং লাইসেন্স এর ফটোকপি, ব্যাংক স্লিপ ফটোকপি, নাগরিক সনদ পত্রের ফটোকপি, মেডিক্যাল সার্টিফিকেট এর আসল কপি সব কিছু একত্রে করে জমা দিতে হবে। পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর ক্ষেত্রে- উপরের সকল ডকুমেন্টস এর সাথে পুলিশ তদন্তের প্রতিবেদন সত্যায়িত করতে হবে। এক্ষেত্রে ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজ ও ১ কপি স্ট্যাম্প সাইজের ছবি এবং পুনরায় ব্যবহারিক পরিক্ষা দিতে হবে। আপনার যদি সকল ডকুমেন্টস একদম ঠিক থাকে তাহলে সেদিন অথবা পরের দিন আপনি একটা ডুপ্লিকেট ড্রাইভিং লাইসেন্স পাবেন যা দিয়ে আপনি আপনার বায়োমেট্রিক এসএমএস না আসা পর্যন্ত অস্থায়ীভাবে মোটরসাইকেল চালাতে পারবেন।
  • ধাপ ৩। বায়োমেট্রিক এসএম এস আসলে বা আপনাকে কোন নির্দিষ্ট তারিখ দেওয়া থাকলে সেই তারিখ অনুযায়ী সেখানে গিয়ে আপনার ফিঙ্গার প্রিন্ট ও ছবি তুলে আসতে হবে। সেদিনই আপনি একটা কম্পিউটার কপি পাবেন।
  • ধাপ ৪। ফিঙ্গার প্রিন্ট ও ছবি তোলার ৩ মাস পর সেই কম্পিউটার কপি নিয়ে যেয়ে আপনি আপনার ড্রাইভিং লাইসেন্স এর স্মার্ট কার্ড সংগ্রহ করতে পারবেন। যদি এখন কোন কোন ক্ষেত্রে ২ বছর পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে।

ড্রাইভিং লাইসেন্স কি একই অফিস হতে নবায়ন করতে হবে?

না। আপনি সার্কেল অফিসের বিআরটিএ যে কোন অফিস হতে নবায়ন করতে পারবেন। গ্রাহককে প্রথমে নির্ধারিত ফি ( মেয়াদোত্তীর্ণের ১৫ দিনের মধ্যে হলে ২৪২৭/- টাকা ও মেয়াদোত্তীর্ণের ১৫ দিন পরে প্রতি বছর ২০০/- টাকা জরিমানাসহ) জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিআরটিএর নির্দিষ্ট সার্কেল অফিসে আবেদন করতে হবে। আবেদনপত্র ও সংযুক্ত কাগজপত্র সঠিক পাওয়া গেলে একইদিনে গ্রাহকের বায়োমেট্রিক্স (ডিজিটাল ছবি, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও আঙ্গুলের ছাপ) গ্রহণ করা হয়। স্মার্ট কার্ড wপ্রন্টিং সম্পন্ন হলে গ্রাহককে এসএমএস এর মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়।

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়নে পেশাদার ও অপেশাদার কি একই প্রক্রিয়া?

হ্যাঁ। মোটামুটি একই প্রক্রিয়া শুধুমাত্র অপেশাদারদেরকে ড্রাইভিং লাইসেন্স পরীক্ষার পুনরায় দিতে হয় না। এক্ষেত্রে পেশাদারদের প্রতিবারই লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে পরীক্ষা দিতে হয়। পেশাদার ড্রাইভিং লাইসেন্সধারীদেরকে পুনরায় একটি ব্যবহারিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে হবে। পরীক্ষায় উত্ত্তীর্ণ হওয়ার পর নির্ধারিত ফি ( মেয়াদোত্তীর্ণের ১৫ দিনের মধ্যে হলে ১৫৬৫/- টাকা ও মেয়াদোত্তীর্ণের ১৫ দিন পরে প্রতি বছর ২০০/- টাকা জরিমানাসহ ) জমা দিয়ে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ বিআরটিএর নির্দিষ্ট সার্কেল অফিসে আবেদন করতে হবে। গ্রাহকের বায়োমেট্রিক্স (ডিজিটাল ছবি, ডিজিটাল স্বাক্ষর ও আঙ্গুলের ছাপ) গ্রহণের জন্য গ্রাহককে নির্দিষ্ট সার্কেল অফিসে উপস্থিত হতে হয়। স্মার্ট কার্ড wপ্রন্টিং-এর সমস্ত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে গ্রাহককে এসএমএস এর মাধ্যমে জানিয়ে দেয়া হয়।

বি:দ্র: ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন ফি এখন বিকাশেও পরিশোধ করা যায়।

 

ড্রাইভিং লাইসেন্স নবায়ন (Renew) পদ্ধতি ২০২২

(Visited 1,210 times, 1 visits today)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *