পার্ট টাইম কাজ করে আয়

Blogging or YouTube Income । ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য অনলাইনে আয় করার উপায় ২০২২

আপনি হয়তো পড়াশুনা করছেন পাশাপাশি টিউশনি করে বেড়াচ্ছেন। হ্যাঁ এতে হয়তো আপনার হাত খরচ হয়ে যাচ্ছে। পড়াশুনার পাশাপাশি আপনি কোন কোচিং সেন্টারের টিচার হিসাবে কর্মরত রয়েছেন, মাস শেষে যা পাচ্ছেন তা আপনার পরাশুনার খরচ, হাত খরচ এবং পোশাকসহ ইত্যাদি খরচ কোনভাবে মেটাতে পারছেন না। দিন দিন দৈননন্দিন খরচ বেড়েই চলেছে কিন্তু আপনার টিউশনির মাইনে বা শিক্ষকতার বেতন কোনক্রমেই সেভাবে বাড়ছে না। আমি তাদের পরামর্শ দিব আপনি অতিমাত্রায় টিউশনির প্রতি ঝুকে পড়লে আপনার পড়াশুনার ক্ষতি হবে। তাই তাই পরাশুনার পাশাপাশি আপনি ব্লগিং বা ইউটিউবিং করতে পারেন তাতে করে আপনি ক্রমবর্ধমান আয় আসবে এবং নিয়মিত পরিশ্রমের পাশাপাশি পরাশুনা শেষে ভাল একটি ক্যারিয়ারও পেতে পারেন। আমি হলফ করে বলতে পারি কোন ছাত্র/ছাত্রী যদি পরাশুনার পাশাপাশি ৪-৬ বছর ব্লগিং বা ইউটিউবিং করতে থাকে তবে স্টুডেন্ট লাইফ শেষে তার ভাল একটি অনলাইন ক্যারিয়ার দাড়িয়ে যেতে পারেন।

ব্লগিং বা ইউটিউবিং তো আমি বুঝিনা কিভাবে শুরু করবো?

ইন্টারনেট এখন জ্ঞানের সাগর বলতে পারেন। আপনি ইন্টারনেটে খুজে পাবেন না এমন স্কিল খুব কমই পাবেন। আপনি যদি একটি ল্যাপটপ বা কম্পিউটার বা মোবাইল যোগার করতে পারেন এবং সাথে এই ইন্টারনেট কানেকশন বা মোবাইল ডাটা তাতেই আপনার যোগার যথেষ্ট। কেউ পড়াশুনার করেন অথচ একটি মোবাইল তার কাছে নেই এ কথা বললে অন্য কোন বিশ্বাস করতে পারে কিন্তু আমি করছি না। আপনার মোবাইল-ই হতে পারে আপনার জন্য এটি লার্নিং পয়েন্ট। শিক্ষা ও প্র্যাকটিসের জন্য একটি মোবাইলই যথেষ্ট। যদি কিছু কাজ হয়তো আপনি মোবাইল দিয়ে করতে পারবেন না কিন্তু প্রাথমিক লার্নিং ও কিছু আর্নিং আপনি মোবাইল দিয়েই শুরু করতে পারেন। শুধু গুগল সার্চ এবং ইউটিউবে কিছু খুজতে হয় কিভাবে সেটিই শিখে নিন তা আপনার জন্য যথেষ্ট। আরও দেখুন: ফ্রিল্যান্সিং কি? এটি কিভাবে করতে হয়?

মোবাইল দিয়েই কি ব্লগিং বা ইউটিউবিং করা যাবে?

আপনার যদি একটি স্মার্টফোন থাকে তবে আপনি ব্লগিং বা ইউটিউবিং করতে পারবেন। যদি আপনি শুধুমাত্র আর্টিকেল রাইটিং করতে পারেন তবে আপনি শুধু আপনার লেখা বিক্রি করেই কিছু অর্থ উপার্জন করতে পারেন। এখন প্রশ্ন হলো কি নিয়ে লিখবো? আপনার যেটিতে ইন্টারেস্ট আছে সেটি নিয়েই লেখালেখি করতে পারেন। যেমন-ধরুন আজ আপনি অনলাইনে কোন এটি বিষয় নিয়ে রিসার্চ করেছেন তা নিয়েই লিখতে পারেন। “স্লো কম্পিউটার কিভাবে ফাস্ট করে” এটি বিষয়ে যদি আপনি বিভিন্ন টেক সাইটে পড়াশুনা করে শিখেছেন সেটি নিয়েই লিখতে পারেন। কপি বা হুবহু লেখা কোন ক্রমেই ক্রিয়েটিভিটি হতে পারে না। কপি বা চুরি অবশ্যই আপনি বেশিদূর আগাতে পারবেন না। তাই ফ্রেস এবং আপনার নিজের চিন্তাভাবনা যোগ করে কোন কিছু লিখুন দেখবেন ভাল দাম এবং ভবিষ্যত খুজে পাবেন।

এছাড়া আপনি আপনার পরাশুনার বা সাবজেক্টিব বিষয়েও লিখতে পারেন অথবা আপনি হয়তো প্রাইমারি শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষার জন্য পরাশুনা করছেন সে বিষয় নিয়েও লেখালেখি করতে পারেন। আপনার তৈরিকৃত নোটগুলো যদি মানসম্মত হয় সেগুলোও বিক্রি করতে পারেন। এখন কথা হচ্ছে এসব কি মোবাইলে লিখলেই হবে? হ্যাঁ কেন নয় আপনি মোবাইলেও লিখতে পারেন। যদি আজ আপনি অনার্স প্রথম বর্ষ পরীক্ষার ফলাফল মোবাইলে এসএমএস করে চেক করেছেন এবং অনলাইনে লগিন করে দেখেছেন। ঠিক কিভাবে এ কাজটি আপনি করেছেন সেটিও আপনি লিখে আয় করতে পারেন।

লেখা কোথায় বিক্রি করা যাবে?

আপনি যদি লিখতে পারেন বা ভিডিও তৈরি করতে পারেন তা আপনি খুব সহজেই বিক্রি করতে পারেন। এগুলো বিক্রির জন্য বিভিন্ন ওয়েবসাইটে যোগাযোগ করতে পারেন। যদি আপনি নিজে একটি ওয়েবসাইট তৈরি করে পোস্ট করতে পারেন তাতেও চলবে। তবে ট্রাফিক এবং ওয়েবসাইট ম্যানেজমেন্ট এবং এসইও ইত্যাদি কাজ একটু জটিল এবং শেখাটাও সময় সাপেক্ষ তাই শুধুমাত্র আর্টিকেল লিখে সেল করে আয় করাটাই উত্তম বিষয়। পরবর্তীতে আপনি হোস্টিং ডোমেইন, এসইও, ওয়েবসাইট ডিজাইন ইত্যাদি কাজ শিখে নিজেই শুরু করতে পারেন। তবে প্রাথমিকভাবে আর্টিকেল রাইটিং এবং ভিডিও তৈরি করে তা বিভিন্ন ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেলের মালিকের কাছে বিক্রি করতে পারেন। আপনি বিভিন্ন ওয়েবসাইটে Contact Us এ গিয়ে যোগাযোগ করে আর্টিকেল বিক্রির চেষ্টা করুন। অবশ্য ক্রেতা খুজে না পেলে আপনি চাইলে alaminmia.tangail@gmail.com এ মেইল করে যোগাযোগ করেও আপনি আপনার লেখা আর্টিকেল বিক্রি করতে পারেন।

লেখালেখি বা ভিডিও তৈরি করে বিক্রি করলে কেমন আয় পাওয়া যাবে?

শুরুতে লেখার মান তেমন ভাল হবে না হয়তো তাই দামও কম পাবেন। তবে সময়ের সাথে সাথে আপনার লেখার মান ভাল হবে এবং আপনি ভাল রেটও পাবেন তাছাড়া লেখালেখির মাধ্যমে শুরুটা করলে ভবিষ্যতে আপনি নিজেই ওয়েবসাইট এবং ইউটিউব চ্যানেলের মালিক হয়ে ভাল আয় করতে পারবেন। তবে ঘরে বসে অবসর সময় ব্যয় করে বা বাসের জ্যামে বসে লেখালেখিটা করে যদি আপনি একটি টিউশনি থেকে যে আয় করেন তা থেকে কোন ক্রমেই কম হবে না। তবে আপনি মনে রাখবেন কোন কাজই সহজ নয়, প্রতিটি কাজে আপনার পরিশ্রমই আপনাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাবে। তাই কোন কাজকে ছোট না ভেবে আজই শুরু করে দিন।

আপনি ভাল লিখতে পারলে আপনি পার্টনার হিসেবে কাজ শুরু করলে ৫০%/৫০% রেটে কোন বিনিয়োগ ছাড়াই শুধুমাত্র লেখা পাঠিয়ে বা ভিডিও পাঠিয়ে ভাল আয় করতে পারেন। ব্লগিং বা ইউটিউবিং করে আয় পুরোটাই নির্ভর করে আপনার পরিশ্রমের উপর। তাই যত পরিশ্রম করবেন ততই আয় বাড়বে।

আর্টিকেল ইংলিশ নাকি বাংলায় হলে ভাল হয়?

ইংলিশ বা ইংরেজী যেহেতু আন্তর্জাতিক ভাষা তাই এই ভাষার লেখার রেট ভাল। তাছাড়া ভাল গ্রামার জানলে ইংরেজীতে লেখার দক্ষতা থাকলে আমি আপনাকে ইংরেজী আর্টিকেল লেখার পরামর্শ দিবো। ইংরেজীতে লেখালেখি করলে আপনার ইংরেজী ভাষায় ভাল দখল চলে আসবে এবং দিন শেষে আপনি আন্তর্জাতিক ভাষায় একজন ভাল লেখক হয়ে উঠতে পারেন। আপনি যে ভাষায় কমফোর্ট ফিল করেন সেই ভাষাতেই লেখা শুরু করুন।

কি কি বিষয়ে লেখা লেখি করা যায় কিছু ধারণা পেতে পারি?

আপনি বিভিন্ন বিষয়ে লেখালেখি করতে পারেন। ভাল হয় আপনি ট্রেন্ডিং বা সাম্প্রাতিক বিষয় নিয়ে লেখালেখি করলে। কম্পিউটিং, টিপস & ট্রিকস, টেলিকম, ট্যাবলেট, নতুন পণ্য, পাঠকের লেখা, প্রযুক্তি অভিধান, প্রযুক্তি কথা, প্রযুক্তি তথ্য, ফিচার, বিবিধ, মাল্টিমিডিয়া, রিভিউ, সোশ্যাল মিডিয়া, স্পন্সরড পোস্ট ইত্যাদি ক্যাটাগরিতে লেখা লেখি করার চেষ্টা করুন। আমি আপনাকে কয়েকটি ওয়েবসাইট এর নাম দিচ্ছি যে লেখাগুলো পড়ে আপনি কি নিয়ে লিখবেন সে বিষয় সম্পর্কে একটি ধারণা পাবেন। tricksmamabanglatech24, eservicesbd এসব ওয়েবসাইট ভাল করে পর্যবেক্ষন করুন এবং আর্টিকেল গুলো আগে পড়ে নিন এবং প্রতিটি আর্টিকেলের বিষয়ে গুগল এবং ইউটিউবে সার্চ করে বিস্তারিত ধারণা নিয়ে আর্টিকেল লেখা শুরু করুন।

(Visited 1,486 times, 1 visits today)

2 comments

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *