সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘ ১১ বছরের অপেক্ষার অবসান? নতুন পে-স্কেল নিয়ে আশার আলো
দীর্ঘ এক যুগের কাছাকাছি সময় ধরে নতুন পে-স্কেলের দাবিতে অপেক্ষা করে আসা দেশের লাখো সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীর জন্য আশার বার্তা মিলছে। বিভিন্ন সূত্রে পাওয়া তথ্য এবং আলোচনায় থাকা প্রস্তাবনা অনুযায়ী, আগামী ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের নীতিগত পরিকল্পনা নিয়ে সরকার কাজ করছে। যদিও এখনো সরকারিভাবে চূড়ান্ত গেজেট বা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা প্রকাশ হয়নি, তবুও বিষয়টি নিয়ে সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে নতুন করে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।
প্রস্তাবিত কাঠামো অনুযায়ী, বর্তমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন গ্রেডে বেতনের উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি ঘটতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, সরকারের ওপর এককালীন বড় আর্থিক চাপ এড়াতে নতুন পে-স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে। প্রথম ধাপে ২০২৬-২৭ অর্থবছরে বর্ধিত মূল বেতনের একটি বড় অংশ কার্যকর করা হতে পারে। পরবর্তী ধাপে অবশিষ্ট মূল বেতন সমন্বয় এবং শেষ ধাপে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতা পুনর্নির্ধারণের বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া হতে পারে।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে শুধু কর্মরত সরকারি কর্মচারীরাই নন, প্রায় ৯ লাখ পেনশনভোগীও এর সুফল পেতে পারেন বলে আলোচনায় উঠে এসেছে। এতে পেনশন পুনর্নির্ধারণ, আর্থিক নিরাপত্তা বৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার মান উন্নয়নের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাস সময়োপযোগী পদক্ষেপ হতে পারে। তবে একই সঙ্গে অর্থনীতিতে অতিরিক্ত চাপ ও সম্ভাব্য মূল্যস্ফীতির বিষয়টিও বিবেচনায় রাখতে হবে। এ কারণেই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনাকে বাস্তবসম্মত বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সরকারি চাকরিজীবীদের অনেকেই বলছেন, ২০১৫ সালের পর আর কোনো নতুন জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হয়নি। ফলে দীর্ঘ ১১ বছর পর নতুন বেতন কাঠামোর সম্ভাবনা তাদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা সৃষ্টি করেছে। তবে চূড়ান্ত বাস্তবায়নের আগে সরকারি ঘোষণা, বাজেট বরাদ্দ এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়া জরুরি।
সব মিলিয়ে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের আলোচনা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের দাবিকে আবারও সামনে নিয়ে এসেছে। এখন সবার দৃষ্টি সরকারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও আসন্ন বাজেট ঘোষণার দিকে। যদি পরিকল্পনা অনুযায়ী বাস্তবায়ন শুরু হয়, তাহলে সরকারি চাকরিজীবীদের কল্যাণে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হবে।

