খেজুর প্রতি কেজি শুল্ক হার ২০২৪ । শুল্ক সহ ১ কেজি খেজুরের দাম কত টাকা?

খেজুর প্রতি কেজি শুল্ক হার ২০২৪ । শুল্ক সহ ১ কেজি খেজুরের দাম কত টাকা?

রমজান মাসে খেজুর খুবই চাহিদা সম্পন্ন পন্য যা প্রতিটি ঘরেই ক্রয় করা হয়-মুসলিমগণ ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক খেজুর দিয়েই ইফতার করে থাকে-খেজুর প্রতি কেজি শুল্ক হার ২০২৪

বাজারে খেজুরের দাম এত বেশি হওয়ার কারণ কি? – বাজারে খেজুরের দাম এত হওয়ার বেশ কিছু কারণ আছে। প্রধান কারণগুলো হল বৈশ্বিক বাজারে খেজুরের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধির ফলে আমদানিকৃত খেজুরের দাম বেড়েছে। খেজুর আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে। ন্যূনতম আমদানি মূল্য (Minimum Import Price – MIP) নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে খেজুরের দাম আরও বেড়েছে।

রমজান মাসেই খেজুরের দাম বাড়ে কেন? রমজান মাসে খেজুরের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। বাজারে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি হওয়ায় দাম বৃদ্ধি পায়। কিছু ব্যবসায়ী অসৎভাবে মুনাফা লুট করার জন্য খেজুরের দাম বাড়িয়ে দিয়ে থাকে। বাজারে পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ না থাকায় খেজুরের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। খেজুর সংরক্ষণের খরচ বৃদ্ধি, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়। 

নবী কি খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন? হ্যাঁ, নবী (সাঃ) খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। হাদিসে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ ইফতার করে, সে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে। কেননা, তাতে বরকত ও কল্যাণ রয়েছে।” (মেশকাত : ১৮৯৩) । আনাস ইবন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, “আমি রাসুল (সাঃ)-কে কয়েকটি কাঁচা খেজুর দিয়ে ইফতার করতে দেখেছি। আর যখন কাঁচা খেজুর পেতেন না, তখন শুকনো খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। আর যখন শুকনো খেজুরও পেতেন না, তখন কয়েক ঢোক পানি দিয়ে ইফতার করতেন।” (সহিহ বুখারি : ১৯৪৯) সুতরাং, নবী (সাঃ) খেজুরকে ইফতারের জন্য একটি উত্তম খাবার হিসেবে মনে করতেন।

নবীর খেজুর দিয়ে ইফতার করার কিছু কারণ / সুতরাং, নবী (সাঃ) যে খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন, তার পেছনে ধর্মীয় ও স্বাস্থ্যগত উভয় কারণই রয়েছে।

খেজুর পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ থাকে। দীর্ঘক্ষণ উপবাসের পর খেজুর শরীরে দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে। এতে থাকা ফাইবার হজমশক্তি উন্নত করে। খেজুরে থাকা ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ শরীরের জন্য অপরিহার্য। খেজুর রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি হৃৎপিণ্ডের জন্য ভালো। খেজুর হাড় ও দাঁতের জন্য উপকারী। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। খেজুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।

Caption: Dates Tax Order

প্রতি কেজি খেজুরের দাম ২০২৪ বাংলাদেশে বিভিন্ন প্রকার খেজুরের খুচরা দামের তালিকা

খেজুরের প্রকারখুচরা দাম (প্রতি কেজি)
আজোয়া৯০০ – ১৩০০ টাকা
মাবরুম৬০০ – ৬৫০ টাকা
মেডজুল১০০০ – ১৪০০ টাকা
দাবাস৪০০ – ৪৫০ টাকা
জাহিদি২৫০ – ৩০০ টাকা
মরিয়াম৭০০ – ৯০০ টাকা
সাধারণ খেজুর১৫০ – ২০০ টাকা

 

খেজুরে কত টাকা শুল্ক দিতে হয়?

রোজা বা রমজান উপলক্ষে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর উৎপাদন, আমদানি, মজুত, সরবরাহ ও সামগ্রিক দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। এক কেজি খেজুরে খরচ পড়ে ১১০ টাকা আর শুল্ক দিতে হয় ১৪০ টাকা ফলে বাজারে প্রতি কেজি ২৮০-৩০০ বিক্রি করতে হয়। একই ভাবে ১২০ টাকা কেজির খেজুরে ২১০ টাকা শুল্ক দিতে হয় প্রেক্ষিতে বাজারে ৩৫০-৪০০ টাকায় বিক্রি করতে হয়। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই শুল্ক যুক্ত করা হয়েছে অথচ গত বছর এক কেজি খেজুরে মাত্র ১০ টাকা শুল্ক দিতে হয়েছিল।

রোজাদারগণ কেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে?

রোজাদারগণ খেজুর দিয়ে ইফতার করার বেশ কিছু কারণ আছে। হাদিসে বর্ণিত আছে যে, রাসুল (সাঃ) খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। তিনি বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ ইফতার করে, সে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে। কেননা, তাতে বরকত ও কল্যাণ রয়েছে।” (মেশকাত : ১৮৯৩) । তাছাড়া খেজুর পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ থাকে। দীর্ঘক্ষণ উপবাসের পর খেজুর শরীরে দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে। এতে থাকা ফাইবার হজমশক্তি উন্নত করে। খেজুরে থাকা ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ শরীরের জন্য অপরিহার্য।

খেজুর রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি হৃৎপিণ্ডের জন্য ভালো। খেজুর হাড় ও দাঁতের জন্য উপকারী।
এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। খেজুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। খেজুর উৎপাদন পরিবেশের জন্য উপকারী। খেজুর গাছ খরা ও লবণাক্ত মাটিতেও জন্মাতে পারে। এটি বায়ু দূষণ কমাতে সাহায্য করে। খেজুর একটি সস্তা খাবার। এটি সহজলভ্য। খেজুর উৎপাদন দারিদ্র্য দূরীকরণে সাহায্য করতে পারে। সুতরাং, ধর্মীয়, পুষ্টি, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতির দিক থেকে খেজুর দিয়ে ইফতার করা উত্তম।

এছাড়াও, খেজুর দিয়ে ইফতার করার আরও কিছু কারণ খেজুর হজম করা সহজ। এটি পেট ভারী করে এবং দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা নিবারণ করে। খেজুর মুখের স্বাদ বৃদ্ধি করে। এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। সুতরাং, রোজাদারগণ খেজুর দিয়ে ইফতার করার মাধ্যমে ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক দিক থেকে অনেক উপকার লাভ করতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *