খেজুর প্রতি কেজি শুল্ক হার ২০২৬ । শুল্ক সহ ১ কেজি খেজুরের দাম কত টাকা?
রমজান মাসে খেজুর খুবই চাহিদা সম্পন্ন পন্য যা প্রতিটি ঘরেই ক্রয় করা হয়-মুসলিমগণ ইসলামী শরীয়ত মোতাবেক খেজুর দিয়েই ইফতার করে থাকে-খেজুর প্রতি কেজি শুল্ক হার ২০২৬
বাজারে খেজুরের দাম এত বেশি হওয়ার কারণ কি? – বাজারে খেজুরের দাম এত হওয়ার বেশ কিছু কারণ আছে। প্রধান কারণগুলো হল বৈশ্বিক বাজারে খেজুরের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। ডলারের মূল্য বৃদ্ধির ফলে আমদানিকৃত খেজুরের দাম বেড়েছে। খেজুর আমদানিতে শুল্ক বৃদ্ধি করা হয়েছে। ন্যূনতম আমদানি মূল্য (Minimum Import Price – MIP) নির্ধারণ করা হয়েছে। এর ফলে খেজুরের দাম আরও বেড়েছে।
রমজান মাসেই খেজুরের দাম বাড়ে কেন? রমজান মাসে খেজুরের চাহিদা অনেক বেড়ে যায়। বাজারে সরবরাহের তুলনায় চাহিদা বেশি হওয়ায় দাম বৃদ্ধি পায়। কিছু ব্যবসায়ী অসৎভাবে মুনাফা লুট করার জন্য খেজুরের দাম বাড়িয়ে দিয়ে থাকে। বাজারে পর্যাপ্ত নিয়ন্ত্রণ না থাকায় খেজুরের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হচ্ছে না। খেজুর সংরক্ষণের খরচ বৃদ্ধি, বাজারে মধ্যস্বত্বভোগীদের সংখ্যা বৃদ্ধি পায়।
নবী কি খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন? হ্যাঁ, নবী (সাঃ) খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। হাদিসে বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ ইফতার করে, সে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে। কেননা, তাতে বরকত ও কল্যাণ রয়েছে।” (মেশকাত : ১৮৯৩) । আনাস ইবন মালেক (রাঃ) থেকে বর্ণিত আছে, “আমি রাসুল (সাঃ)-কে কয়েকটি কাঁচা খেজুর দিয়ে ইফতার করতে দেখেছি। আর যখন কাঁচা খেজুর পেতেন না, তখন শুকনো খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। আর যখন শুকনো খেজুরও পেতেন না, তখন কয়েক ঢোক পানি দিয়ে ইফতার করতেন।” (সহিহ বুখারি : ১৯৪৯) সুতরাং, নবী (সাঃ) খেজুরকে ইফতারের জন্য একটি উত্তম খাবার হিসেবে মনে করতেন।
নবীর খেজুর দিয়ে ইফতার করার কিছু কারণ / সুতরাং, নবী (সাঃ) যে খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন, তার পেছনে ধর্মীয় ও স্বাস্থ্যগত উভয় কারণই রয়েছে।
খেজুর পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ থাকে। দীর্ঘক্ষণ উপবাসের পর খেজুর শরীরে দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে। এতে থাকা ফাইবার হজমশক্তি উন্নত করে। খেজুরে থাকা ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ শরীরের জন্য অপরিহার্য। খেজুর রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি হৃৎপিণ্ডের জন্য ভালো। খেজুর হাড় ও দাঁতের জন্য উপকারী। এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। খেজুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।
২০২৬ সালে রমজান উপলক্ষে সরকার সাধারণ মানুষের কথা চিন্তা করে খেজুর আমদানিতে শুল্কের হার কিছুটা কমিয়েছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) তথ্য অনুযায়ী, বর্তমান শুল্ক হার এবং বাজারের সর্বশেষ পরিস্থিতি নিচে তুলে ধরা হলো:
খেজুরের শুল্ক হার (২০২৬)
সরকার ২৪ ডিসেম্বর ২০২৫-এ একটি প্রজ্ঞাপন জারি করে যা ৩১ মার্চ ২০২৬ পর্যন্ত কার্যকর থাকবে:
-
কাস্টমস ডিউটি (Customs Duty): আগে ছিল ২৫%, যা কমিয়ে বর্তমানে ১৫% করা হয়েছে।
-
অগ্রিম আয়কর (AIT): আগে ছিল ১০%, যা বর্তমানে ৫%।
সামগ্রিকভাবে, খেজুর আমদানিতে মোট শুল্কের বোঝা (Total Tax Incidence) আগের চেয়ে অনেকটা হ্রাস পেয়েছে।
১ কেজি খেজুরের বাজার দর (শুল্ক সহ)
শুল্ক কমানো হলেও বাজারের চাহিদা এবং অন্যান্য পরিবহন খরচের কারণে খুচরা বাজারে দামের কিছুটা ভিন্নতা দেখা যাচ্ছে। ১৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এর তথ্য অনুযায়ী খুচরা বাজারে খেজুরের দাম নিম্নরূপ:
| খেজুরের ধরন | খুচরা দাম (প্রতি কেজি) |
| সাধারণ (বস্তা/বাংলা খেজুর) | ২২০ – ২৮০ টাকা |
| জাহিদি খেজুর | ২৫০ – ৩৫০ টাকা |
| দাবাস খেজুর | ৫৫০ – ৬০০ টাকা |
| বরই খেজুর | ৪৮০ – ৬৫০ টাকা |
| কালমি/মাবরুম | ৮৫০ – ৯৫০ টাকা |
| মরিয়ম খেজুর | ১,১০০ – ১,৪০০ টাকা |
| আজওয়া খেজুর | ১,০০০ – ১,২০০ টাকা |
| মেডজুল (প্রিমিয়াম) | ১,২০০ – ১,৮০০ টাকা |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: টিসিবি (TCB) রমজান উপলক্ষে ফ্যামিলি কার্ডধারীদের জন্য অর্ধেক কেজি খেজুর ১৬০ টাকা (অর্থাৎ ৩২০ টাকা কেজি) দরে ভর্তুকি মূল্যে বিক্রি করছে।
রোজাদারগণ কেন খেজুর দিয়ে ইফতার করে?
রোজাদারগণ খেজুর দিয়ে ইফতার করার বেশ কিছু কারণ আছে। হাদিসে বর্ণিত আছে যে, রাসুল (সাঃ) খেজুর দিয়ে ইফতার করতেন। তিনি বলেছেন, “যখন তোমাদের কেউ ইফতার করে, সে যেন খেজুর দ্বারা ইফতার করে। কেননা, তাতে বরকত ও কল্যাণ রয়েছে।” (মেশকাত : ১৮৯৩) । তাছাড়া খেজুর পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ। এতে প্রচুর পরিমাণে শর্করা, ফাইবার, ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ থাকে। দীর্ঘক্ষণ উপবাসের পর খেজুর শরীরে দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে। এতে থাকা ফাইবার হজমশক্তি উন্নত করে। খেজুরে থাকা ভিটামিন ও খনিজ পদার্থ শরীরের জন্য অপরিহার্য।
খেজুর রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এটি হৃৎপিণ্ডের জন্য ভালো। খেজুর হাড় ও দাঁতের জন্য উপকারী।
এটি কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে সাহায্য করে। খেজুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। খেজুর উৎপাদন পরিবেশের জন্য উপকারী। খেজুর গাছ খরা ও লবণাক্ত মাটিতেও জন্মাতে পারে। এটি বায়ু দূষণ কমাতে সাহায্য করে। খেজুর একটি সস্তা খাবার। এটি সহজলভ্য। খেজুর উৎপাদন দারিদ্র্য দূরীকরণে সাহায্য করতে পারে। সুতরাং, ধর্মীয়, পুষ্টি, স্বাস্থ্য, পরিবেশ ও অর্থনীতির দিক থেকে খেজুর দিয়ে ইফতার করা উত্তম।
এছাড়াও, খেজুর দিয়ে ইফতার করার আরও কিছু কারণ খেজুর হজম করা সহজ। এটি পেট ভারী করে এবং দীর্ঘক্ষণ ক্ষুধা নিবারণ করে। খেজুর মুখের স্বাদ বৃদ্ধি করে। এটি শরীরকে ঠান্ডা রাখতে সাহায্য করে। সুতরাং, রোজাদারগণ খেজুর দিয়ে ইফতার করার মাধ্যমে ধর্মীয় ও বৈজ্ঞানিক দিক থেকে অনেক উপকার লাভ করতে পারে।

