আবাসন নীতিমালা ২০২৬ । সর্বনিম্ন মূল বেতন ১৩,০৫০ টাকা তারা কোন ভবনের ফ্ল্যাট পাবেন?
পরিকল্পনা বিভাগ ও পরিকল্পনা কমিশনের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য আবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে জারি করা হয়েছে ‘বাসা বরাদ্দ নীতিমালা-২০১৯’ । ঢাকার আগারগাঁও তালতলা এলাকায় নির্মিত ও নির্মাণাধীন আবাসন প্রকল্পের বাসার ক্ষেত্রে এই নীতিমালা কার্যকর হবে ।
বাসার আয়তন ও প্রাপ্যতা
নীতিমালা অনুযায়ী, জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫-এর ভিত্তিতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পদমর্যাদা ও বেতন অনুযায়ী বাসার আয়তন নির্ধারণ করা হয়েছে:
-
৮০০ বর্গফুট (চামেলী ও কামিনী ভবন): ১০ম গ্রেড থেকে তদূর্ধ্ব গ্রেডের কর্মকর্তাগণ এবং ১১শ থেকে ১৬শ গ্রেডের কর্মচারীরা যাদের সর্বনিম্ন মূল বেতন ১৩,০৫০ টাকা, তারা এই ভবনের ফ্ল্যাট পাবেন ।
-
৬৫০ বর্গফুট (বেলী ও জুঁই ভবন): ১৬শ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা যাদের সর্বনিম্ন মূল বেতন ১১,২৫০ টাকা, তারা এই ভবনের জন্য যোগ্য বিবেচিত হবেন ।
বরাদ্দ প্রাপ্তির যোগ্যতা ও জ্যৈষ্ঠতা
বাসা বরাদ্দের জন্য আবেদনকারীকে অবশ্যই পরিকল্পনা বিভাগ বা কমিশনের নিয়মিত ও স্থায়ী পদে নিয়োগপ্রাপ্ত হতে হবে । তবে বিশেষ ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষ খালি থাকা সাপেক্ষে সম-পদবীর শর্তে অন্যদেরও বরাদ্দ দিতে পারেন । বরাদ্দ প্রদানের ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত বিধি-বিধান অনুযায়ী জ্যৈষ্ঠতা (Seniority) বিবেচনা করে অগ্রাধিকার নির্ধারণ করা হবে ।
বাসা বরাদ্দ ও ব্যবস্থাপনা কমিটি
আবাসন প্রক্রিয়া তদারকির জন্য দুটি পৃথক কমিটি কাজ করবে: ১. বাসা বরাদ্দ কমিটি: অতিরিক্ত সচিবের (সাধারণ ও সমন্বয়) নেতৃত্বে ৫ সদস্যের এই কমিটি বাসা বরাদ্দের সিদ্ধান্ত নেবে । ২. বাসা ব্যবস্থাপনা কমিটি: বরাদ্দপ্রাপ্তদের সমন্বয়ে গঠিত এই কমিটি আবাসন এলাকার নিরাপত্তা, পরিচ্ছন্নতা ও সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষায় কাজ করবে এবং বাৎসরিক রক্ষণাবেক্ষণ বাজেট প্রণয়ন করবে ।
অবসর ও মৃত্যুজনিত কারণে বসবাসের সময়সীমা
-
পিআরএল (PRL): পিআরএল শেষ হওয়ার পর সরকারি বিধি অনুযায়ী নির্ধারিত সময় পর্যন্ত বসবাস করা যাবে । বিশেষ প্রয়োজনে (যেমন: সন্তানদের পড়াশোনা) আবেদনের প্রেক্ষিতে কর্তৃপক্ষ অতিরিক্ত আরও ৪ মাস সময় দিতে পারেন ।
-
মৃত্যুজনিত কারণ: কর্মরত অবস্থায় কেউ মৃত্যুবরণ করলে তার পরিবার ২ বছর পর্যন্ত ওই বাসায় থাকতে পারবেন, তবে সকল বকেয়া ও ভাড়া পরিশোধযোগ্য হবে ।
-
বদলি বা পদত্যাগ: চাকুরি ছাড়লে বা বদলি হলে ২ মাসের মধ্যে এবং বরখাস্ত হলে ১ মাসের মধ্যে বাসা ছেড়ে দিতে হবে ।
নিষেধাজ্ঞা ও বরাদ্দ বাতিল
নীতিমালায় কঠোরভাবে জানানো হয়েছে যে, বাসা কোনোভাবেই উপ-ভাড়া (Sub-let) দেওয়া যাবে না । এছাড়া কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া বাসা পরিবর্তন, অন্য কাউকে বসবাস করতে দেওয়া, আবাসিক এলাকায় অনাকাঙ্ক্ষিত উপদ্রব সৃষ্টি করা বা ভবনের ভৌত পরিবর্তন করলে তাৎক্ষণিকভাবে বরাদ্দ বাতিল করা হবে ।
অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ তথ্য
-
প্রশিক্ষণ: বৈদেশিক প্রশিক্ষণের মেয়াদ ৬ মাসের বেশি হলে বাসার দখল বুঝিয়ে দিতে হবে ।
-
অযোগ্যতা: প্রেষণে নিয়োজিত বা অন্য দপ্তরে কর্মরতরা এবং যাদের নামে ইতিমধ্যে সরকারি বাসা বরাদ্দ আছে, তারা এই আবাসন সুবিধার আওতায় আসবেন না ।
-
মালামালের সুরক্ষা: বাসা ছাড়ার সময় মালামালের (ফিকচারস এন্ড ফিটিংস) কোনো ক্ষতি হলে বরাদ্দকারীকে বাজার দর অনুযায়ী ক্ষতিপূরণ দিতে হবে ।
এই নীতিমালা জারির ফলে আগের সকল নিয়ম রহিত করা হয়েছে এবং কোনো অস্পষ্টতা দেখা দিলে ‘বাংলাদেশ বরাদ্দ বিধি ১৯৮২’ অনুসরণ করা হবে বলে জানানো হয়েছে ।

