১০ বছর পূর্তিতে উচ্চতর গ্রেড ২০২৬ । হাইকোর্টের ঐতিহাসিক রায়ের পূর্ণাঙ্গ বিশ্লেষণ
সরকারি চাকুরিজীবীদের ১০ বছর সন্তোষজনক চাকরি পূর্ণ হওয়ার পর উচ্চতর গ্রেড বা সিলেকশন গ্রেড প্রাপ্তি নিয়ে সৃষ্ট জটিলতার অবসান ঘটিয়েছে মহামান্য হাইকোর্ট। সম্প্রতি প্রকাশিত এক রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত স্পষ্ট করেছে যে, উপযুক্ত সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের পাওনা এই সুবিধা কোনোভাবেই খর্ব করা যাবে না।
মামলার প্রেক্ষাপট ও মূল বিরোধ
২০১৬ সালের রিট পিটিশন (নং-১৪৭৪৫/২০১৬) এবং পরবর্তী বিভিন্ন মামলার সূত্র ধরে এই রায়টি প্রদান করা হয়। মামলার মূল বিষয়বস্তু ছিল ২০১৫ সালের নতুন পে-স্কেল জারির পর সরকারি কর্মচারীদের অর্জিত উচ্চতর গ্রেড বা টাইম স্কেল প্রাপ্তির অধিকার। বিশেষ করে, কৃষি অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের পক্ষ থেকে ২১/০৯/২০১৬ তারিখের একটি বিতর্কিত পরিপত্রকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছিল, যা তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত করছিল।
আদালতের গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ
রায়ের অনুলিপিতে আদালত কয়েকটি মৌলিক বিষয় তুলে ধরেছেন:
-
আইনি ভিত্তি: ১৯৭৫ সালের চাকুরির শর্তাবলী এবং ২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেলের অনুচ্ছেদ ৭ অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীরা নির্দিষ্ট সময় পর উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার অধিকারী।
-
অযৌক্তিক পরিপত্র বাতিল: সরকার কর্তৃক জারিকৃত যে পরিপত্রটি (২১/০৯/২০১৬) কর্মচারীদের নাম বাদ দিয়েছিল বা সুবিধা সীমিত করেছিল, আদালত সেটিকে “যথাযথ কর্তৃপক্ষ দ্বারা সমর্থিত নয়” এবং “অযৌক্তিক” হিসেবে গণ্য করেছেন।
-
আপিল বিভাগের নির্দেশনা: আদালত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন যে, আপিল বিভাগ ইতিপূর্বেই ১২/০১/২০১৭ তারিখে (সিভিল রিট পিটিশন নং-২৮/২০১৭) হাইকোর্টের পূর্ববর্তী রায় বহাল রেখেছে। ফলে উচ্চতর গ্রেড প্রদানে কোনো আইনি বাধা নেই।
রায়ের সিদ্ধান্ত ও নির্দেশনাবলী
মহামান্য আদালত তার রায়ে স্পষ্ট করে জানিয়েছেন: ১. অবৈধ ঘোষণা: ২১/০৯/২০১৬ তারিখের বৈষম্যমূলক পরিপত্রটি অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে। ২. বাস্তবায়নের নির্দেশ: হাইকোর্ট সরকারকে নির্দেশ দিয়েছে যেন দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই রায় বাস্তবায়ন করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মচারীদের বকেয়া সুবিধাদি প্রদান করা হয়। ৩. পুনরাবৃত্তি রোধ: আদালত কঠোরভাবে নির্দেশ দিয়েছেন যে, একই বিষয়ে যেন সরকারি কর্মচারীদের পুনরায় মামলা বা পিটিশন দাখিল করতে না হয়, তার আগেই যেন প্রশাসন স্বপ্রণোদিত হয়ে এই বৈষম্য দূর করে।
উপসংহার
এই রায়ের ফলে ১০ বছর চাকরি পূর্ণ করা হাজার হাজার সরকারি কর্মচারীর উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার পথ প্রশস্ত হলো। আদালতের এই সুস্পষ্ট নির্দেশনার পর এখন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগগুলোর ওপর দায়িত্ব বর্তায় দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারি করে কর্মচারীদের পাওনা বুঝিয়ে দেওয়া।

