সরকারি আপডেট নিউজ

তিন ধাপে নয়, এক ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে ফুঁসে উঠছেন সরকারি কর্মচারীরা

আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের শুরুতেই বহুল প্রতীক্ষিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের আভাস পাওয়ায় দেশের সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও, তা ‘ধাপে ধাপে’ কার্যকরের সরকারি চিন্তাভাবনায় তীব্র অসন্তোষ ও হতাশা তৈরি হয়েছে। সরকারের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে এবং ‘এক ধাপে পে-স্কেল’ বাস্তবায়নের দাবিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ দেশজুড়ে জোরালো আন্দোলন গড়ে তুলছেন সরকারি কর্মচারীরা।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়া একটি দাবি সম্বলিত পোস্টার এবং বিভিন্ন কর্মচারী সংগঠনের সংবাদ সম্মেলন থেকে এই ক্ষোভের চিত্রটি স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে।

পোস্টারের মূল বার্তা ও কর্মচারীদের যুক্তি: ভাইরাল হওয়া পোস্টারটিতে কর্মচারীদের পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে—“প্লিজ কিস্তিতে নয়, এক ধাপে পে-স্কেল বাস্তবায়ন করুন।” পোস্টারটিতে কর্মচারীরা তাদের এই দাবির পক্ষে বেশ কিছু যৌক্তিক ও বাস্তবসম্মত প্রশ্ন তুলে ধরেছেন:

  • সমিতি বা ব্যাংক লোনে কিস্তি হয়, বাজারে নয়: কর্মচারীদের মতে, ব্যাংক বা কোনো সমিতির ঋণ কিস্তিতে পরিশোধ করা সম্ভব, কিন্তু নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের বাজারে কোনো কিস্তি চলে না।

  • বাজার ব্যবস্থার সাথে অসঙ্গতি: “পে-স্কেল যদি কিস্তিতে হয়, বাজার ওয়ালা কি মানবে?”—এই প্রশ্ন তুলে তারা বলছেন, নতুন পে-স্কেলের ঘোষণা আসার সাথে সাথেই বাজারে দ্রব্যমূল্য এক লাফে বেড়ে যায়। অথচ কর্মচারীদের বেতন যদি ধাপে ধাপে বা কিস্তিতে বাড়ে, তবে সেই বর্ধিত বাজারদরের সাথে খাপ খাওয়ানো সাধারণ কর্মচারীদের পক্ষে অসম্ভব।

  • নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের আজীবন কষ্ট: ধাপে ধাপে পে-স্কেল দিলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবেন নিম্ন গ্রেডের (১১ থেকে ২০তম গ্রেড) কর্মচারীরা। তাদের দুঃখ-কষ্ট আজীবনেও শেষ হবে না বলে পোস্টারে উল্লেখ করা হয়েছে।

  • ন্যায়বিচারের দাবি: কর্মচারীরা এটিকে কোনো অনুগ্রহ নয়, বরং তাদের “ন্যায্য দাবি, ন্যায্য অধিকার” এবং “এক ধাপে পে-স্কেলের মাধ্যমে ন্যায়বিচার” হিসেবে দাবি করছেন।

আন্দোলনের পটভূমি: জানা গেছে, প্রতি পাঁচ বছর পর পর নতুন পে-স্কেল দেওয়ার নিয়ম থাকলেও গত ১১ বছরে কর্মচারীরা দুটি পে-স্কেল থেকে বঞ্চিত হয়েছেন। বর্তমান তীব্র মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ঊর্ধ্বগতির বাজারে বর্তমান বেতন কাঠামো দিয়ে সাধারণ কর্মচারীদের সংসার চালানো একেবারেই অসম্ভব হয়ে পড়েছে।

অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বিশাল এই পে-স্কেল একবারে সম্পূর্ণ কার্যকর করলে সরকারের ওপর হঠাৎ বড় ধরনের আর্থিক চাপ তৈরি হতে পারে। এই সংকট এড়াতেই মূলত কয়েক ধাপে এটি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে প্রশাসন। কিন্তু কর্মচারীদের দাবি, এই ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত সাধারণ কর্মচারীদের জন্য কোনো সুফল বয়ে আনবে না।

কর্মচারী নেতাদের হুঁশিয়ারি: বিভিন্ন সরকারি কর্মচারী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “অন্যায় কিস্তি নয়, আমরা ন্যায় চাই।” তারা আগামী জুন ২০২৬-এর মধ্যেই ৯ম পে-স্কেলের গেজেট জারি করে তা এক ধাপে সম্পূর্ণ বাস্তবায়নের জোর দাবি জানিয়েছেন। অন্যথায়, সাধারণ কর্মচারীদের স্বার্থ রক্ষায় তারা কলম বিরতিসহ আরও কঠোর রাজপথের আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

সার্বিক পরিস্থিতিতে সাধারণ সরকারি কর্মচারীদের এখন একটাই স্লোগান—“ন্যায্য দাবি, এখনই বাস্তবায়ন চাই; এক ধাপে পে-স্কেল চাই।” এখন দেখার বিষয়, বাজেট অধিবেশন ও চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশের আগে সরকার কর্মচারীদের এই মানবিক ও যৌক্তিক দাবি বিবেচনা করে কি না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *