৯ম পে স্কেল নিউজ

নবম পে-স্কেলের খসড়া: গ্রেডভেদে বড় বেতন পরিবর্তনের প্রস্তাব, সর্বোচ্চ ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা

সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেল নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। সচিব কমিটি নতুন বেতন কাঠামোর খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত করে তা মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে। সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, আগামী সপ্তাহে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতি নিয়ে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে তোলা হতে পারে।

নতুন কাঠামোয় সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ানোর নীতি রাখা হয়েছে। অর্থাৎ নতুন পে-স্কেলে শুধু উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের বেতন বাড়ানো নয়, নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীদের আর্থিক সুবিধা বৃদ্ধিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

প্রস্তাবিত বেতন কাঠামো এক নজরে

প্রচারিত খসড়া তালিকা অনুযায়ী, নবম পে-স্কেলে ২০টি গ্রেডই রাখা হয়েছে। এতে ১ম গ্রেডে নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা এবং ২০তম গ্রেডে সর্বনিম্ন মূল বেতন ২০ হাজার টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে। একই তালিকা বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমেও সম্ভাব্য বেতন কাঠামো হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে।

গ্রেড প্রস্তাবিত বেতন স্কেল ১ম ১,৬০,০০০ টাকা (নির্ধারিত) ২য় ১,৩২,০০০–১,৫৩,০০০ টাকা ৩য় ১,১৩,০০০–১,৪৮,৮০০ টাকা ৪র্থ ১,০০,০০০–১,৪২,৪০০ টাকা ৫ম ৮৬,০০০–১,৩৯,৭০০ টাকা ৬ষ্ঠ ৭১,০০০–১,৩৪,০০০ টাকা ৭ম ৫৮,০০০–১,২৬,৮০০ টাকা ৮ম ৪৭,২০০–১,১৩,৭০০ টাকা ৯ম ৪৫,১০০–১,০৮,৮০০ টাকা ১০ম ৩২,০০০–৭৭,৩০০ টাকা ১১তম ২৫,০০০–৬০,৫০০ টাকা ১২তম ২৪,৩০০–৫৮,৭০০ টাকা ১৩তম ২৪,০০০–৫৮,০০০ টাকা ১৪তম ২৩,৫০০–৫৬,৮০০ টাকা ১৫তম ২২,৮০০–৫৫,২০০ টাকা ১৬তম ২১,৯০০–৫২,৯০০ টাকা ১৭তম ২১,৪০০–৫১,৯০০ টাকা ১৮তম ২১,০০০–৫০,৯০০ টাকা ১৯তম ২০,৫০০–৪৯,৬০০ টাকা ২০তম ২০,০০০–৪৮,৪০০ টাকা

উপরের তালিকাটি বর্তমানে প্রচারিত প্রস্তাবিত/সম্ভাব্য কাঠামো। সরকারি প্রজ্ঞাপন বা গেজেট প্রকাশের আগে এটিকে চূড়ান্ত বেতন কাঠামো হিসেবে গণ্য করা যাবে না।

সবচেয়ে বড় পরিবর্তন নিম্ন গ্রেডে

বর্তমান জাতীয় বেতন স্কেল-২০১৫ অনুযায়ী ২০তম গ্রেডের মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে শুরু হয়। প্রস্তাবিত কাঠামোয় এটি বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। অর্থাৎ প্রারম্ভিক মূল বেতন ১১ হাজার ৭৫০ টাকা বাড়তে পারে, যা প্রায় ১৪২ শতাংশ বৃদ্ধির সমান।

একইভাবে ১৯তম গ্রেডের প্রস্তাবিত শুরু ২০ হাজার ৫০০ টাকা, ১৮তম গ্রেডে ২১ হাজার টাকা এবং ১৭তম গ্রেডে ২১ হাজার ৪০০ টাকা। ১৬তম গ্রেডে ২১ হাজার ৯০০ টাকা এবং ১৫তম গ্রেডে ২২ হাজার ৮০০ টাকা থেকে বেতন শুরু করার প্রস্তাব রয়েছে।

অন্যদিকে ১ম গ্রেডের বর্তমান ৭৮ হাজার টাকা নির্ধারিত মূল বেতন প্রস্তাবিত কাঠামোয় ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার কথা বলা হয়েছে। ফলে উচ্চ গ্রেডেও বড় ধরনের পরিবর্তন আসতে পারে।

১১ থেকে ১৪ গ্রেডেও বড় সুবিধার সম্ভাবনা

প্রস্তাবিত তালিকায় ১১তম গ্রেডের বেতন ২৫ হাজার থেকে ৬০ হাজার ৫০০ টাকা পর্যন্ত নির্ধারণের কথা বলা হয়েছে। ১২তম গ্রেডে ২৪ হাজার ৩০০ থেকে ৫৮ হাজার ৭০০ টাকা, ১৩তম গ্রেডে ২৪ হাজার থেকে ৫৮ হাজার টাকা এবং ১৪তম গ্রেডে ২৩ হাজার ৫০০ থেকে ৫৬ হাজার ৮০০ টাকা করার প্রস্তাব রয়েছে।

এর ফলে মধ্যম পর্যায়ের সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতনেও উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আসতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন একই বেতন কাঠামোয় থাকা কর্মচারীদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

বেতন বৃদ্ধির পাশাপাশি বাস্তবায়ন হবে ধাপে

নবম পে-স্কেল একবারে পুরোপুরি বাস্তবায়নের পরিবর্তে ধাপে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা রয়েছে। সর্বশেষ সচিব কমিটির খসড়া অনুযায়ী, প্রথম ধাপে মূল বেতন বাড়ানোর এবং পরবর্তী ধাপে বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও অন্যান্য ভাতাসহ আর্থিক সুবিধা সমন্বয়ের প্রস্তাব রয়েছে।

আরেকটি সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি বছরের জুলাই থেকেই পে-স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন কার্যকর ধরা হতে পারে এবং ধাপে ধাপে ২০২৮ সালের জানুয়ারির মধ্যে পূর্ণ বাস্তবায়নের লক্ষ্য রাখা হয়েছে। তবে বাস্তবায়নের ধাপ ও সময়সূচি শেষ পর্যন্ত মন্ত্রিসভাই নির্ধারণ করবে।

কেন এই পে-স্কেল গুরুত্বপূর্ণ

২০১৫ সালের জাতীয় বেতন স্কেল চালুর পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেছে। এই সময়ে দ্রব্যমূল্য, বাসাভাড়া, চিকিৎসা ব্যয়, শিক্ষা ব্যয় ও দৈনন্দিন জীবনযাত্রার খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশ নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছিলেন।

নতুন প্রস্তাবের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো বেতন বৈষম্য কমানোর চেষ্টা। প্রস্তাবিত কাঠামোয় সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন মূল বেতনের অনুপাত আগের তুলনায় কমিয়ে আনার লক্ষ্য দেখা যাচ্ছে। পাশাপাশি নিম্ন গ্রেডে তুলনামূলক বেশি হারে বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়েছে।

এখনো চূড়ান্ত নয়

তবে সরকারি কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—প্রচারিত গ্রেডভিত্তিক তালিকাটি এখনো চূড়ান্ত সরকারি বেতন স্কেল নয়। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে একই ধরনের তালিকা প্রকাশিত হলেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে মন্ত্রিসভার অনুমোদন এবং পরবর্তী সরকারি প্রজ্ঞাপন/গেজেটের ওপর।

সর্বশেষ পরিস্থিতিতে সচিব কমিটি খসড়া প্রস্তাব চূড়ান্ত করেছে এবং মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রস্তুতি চলছে। ফলে এখন মূল অপেক্ষা মন্ত্রিসভার সিদ্ধান্ত এবং এরপর সরকারি প্রজ্ঞাপনের।

সবকিছু অনুমোদিত হলে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন ২০ হাজার টাকা থেকে শুরু হওয়া এবং ১ম গ্রেডে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা নির্ধারণ—এমন একটি নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথ তৈরি হতে পারে। তবে চূড়ান্ত গেজেট প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এসব অঙ্ককে সম্ভাব্য প্রস্তাব হিসেবেই বিবেচনা করতে হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *