৯ম পে স্কেল নিউজ

পে-স্কেল কমিটির সভা পেছানোর আভাস: ব্যয় সংকোচন ও বৈষম্য দূরীকরণের দাবি কর্মচারীদের

জাতীয় বেতন কমিশন ২০২৫, জুডিশিয়াল সার্ভিস পে কমিশন ২০২৫ এবং সশস্ত্র বাহিনী বেতন কমিটি ২০২৫-এর সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির ষষ্ঠ সভা আগামী ১৫ জুলাই সকাল ৯:৩০ মিনিটে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। তবে একই সময়ে ঢাকা সফররত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) প্রতিনিধি দলের সাথে অর্থ বিভাগের আরও দুটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থ বিভাগের এই অতিরিক্ত ব্যস্ততার কারণে আগামী ১৫ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য সচিব কমিটির পে-স্কেল-সংক্রান্ত বহুল প্রতীক্ষিত সভাটি পিছিয়ে যেতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে ধারণা করা হচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে সাধারণ সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে নানা গুঞ্জন ও উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে। তবে সচেতন কর্মচারী প্রতিনিধিরা যেকোনো ধরনের বিভ্রান্তিকর গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সাথে, পে-স্কেল বাস্তবায়নের নামে সাধারণ কর্মচারীদের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে কোনো ধরনের ‘ছয়নয়’ বা টালবাহানা মেনে নেওয়া হবে না বলেও তারা স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

ব্যয় সংকোচন নীতিতে বৈষম্যের অভিযোগ

প্রশাসনে কৃচ্ছ্রসাধন ও ব্যয় সংকোচনের অংশ হিসেবে সরকারের পক্ষ থেকে কিছু উদ্যোগের আভাস পাওয়া গেছে। এর মধ্যে একটি হলো—উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের গাড়ি রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় বর্তমানের ৫০ হাজার টাকা থেকে কমিয়ে ২৫ হাজার টাকায় নামিয়ে আনার প্রস্তাব। সরকারের এই সাশ্রয়ী নীতিকে সাধারণ কর্মচারীরা স্বাগত জানালেও, মাঠপর্যায়ে এর প্রকৃত ও সমতার ভিত্তিতে প্রতিফলন নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কর্মচারীদের দাবি, সরকার যদি সত্যিই ব্যয় সংকোচনের নীতি অনুসরণ করতে চায়, তবে তা প্রশাসনের সব স্তরেই ন্যায্য ও ভারসাম্যপূর্ণভাবে প্রতিফলিত হওয়া উচিত।

আবাসন ঋণে সাধারণ কর্মচারীদের নাভিশ্বাস

সংশ্লিষ্ট মহলে এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—নিম্ন ও মধ্যম আয়ের সাধারণ কর্মচারীদের মৌলিক কল্যাণ নিশ্চিতকরণ। উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা যখন বিভিন্ন ধরনের রাষ্ট্রীয় সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন, তখন সাধারণ কর্মচারীরা একটি মাথা গোঁজার ঠাঁই বা আবাসন নিশ্চিত করতে গিয়ে চরম হিমশিম খাচ্ছেন।

বর্তমানে একজন সাধারণ কর্মচারী যদি একটি বাড়ি নির্মাণ বা ফ্ল্যাট কেনার জন্য ব্যাংক ঋণের আবেদন করতে যান, তবে তাকে কঠোর শর্ত, বিশাল অঙ্কের জামানত এবং চড়া সুদের বোঝা মাথায় নিতে হচ্ছে। সীমিত আয়ের এই বিশাল জনগোষ্ঠীর পক্ষে এই কঠিন শর্ত পূরণ করে ঋণ নেওয়া এবং তা পরিশোধ করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সময়ের দাবি: টেকসই ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতি

অর্থনৈতিক সংকটের এই সময়ে শুধু ব্যয় সংকোচনই নয়, বরং কর্মচারীদের মৌলিক কল্যাণ নিশ্চিত করাও রাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সাধারণ কর্মচারীদের একাংশের প্রশ্ন—যারা সীমিত আয়ে জীবনযাপন করেন, তাদের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে আরও সহজ শর্তে এবং স্বল্প সুদে কেন আবাসন ঋণের বিশেষ ব্যবস্থা করা যাবে না?

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্টদের মতে, দেশের সামষ্টিক অর্থনীতি এবং প্রশাসনের গতিশীলতা বজায় রাখতে হলে একটি ন্যায়সংগত, বৈষম্যহীন ও ভারসাম্যপূর্ণ নীতি প্রণয়ন করা জরুরি। কেবল তখনই সবার জন্য একটি টেকসই ও কল্যাণমুখী সমাধান নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *