নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের সিদ্ধান্তে অটল সরকার, কার্যক্রম হবে ধাপে ধাপে: অর্থমন্ত্রী
সরকারি কর্মচারীদের বহু প্রতীক্ষিত নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে নিজেদের দৃঢ় অবস্থানের কথা আবারও স্পষ্ট করেছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। বুধবার সচিবালয়ে একাত্তর বিজনেসকে দেওয়া এক একান্ত সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, দেশের বিদ্যমান আর্থিক চ্যালেঞ্জ ও বাস্তবতাকে বিবেচনায় নিয়ে এই পে-স্কেল ধাপে ধাপে কার্যকর করা হবে।
পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা সাক্ষাৎকারে অর্থমন্ত্রী বলেন, পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে এবং এটি কার্যকর হবেই। তবে বর্তমান কঠিন আর্থিক পরিস্থিতির কথা মাথায় রেখে একবারে বড় ধরনের আর্থিক বোঝা চাপ না দিয়ে, সরকার পর্যায়ক্রমে বা ধাপে ধাপে এটি বাস্তবায়নের কৌশল নিয়েছে। কমিশনের সুপারিশকৃত কাঠামোতে কোনো পরিবর্তন আনা হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি সরাসরি কোনো মন্তব্য করেননি। বর্তমানে মন্ত্রিপরিষদ সচিবের নেতৃত্বাধীন সচিব কমিটি বিষয়টি নিয়ে নিবিড় পর্যালোচনা করছে এবং চূড়ান্ত রূপরেখা প্রণয়নের জন্য আরও কয়েকটি বৈঠকের প্রয়োজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
পে-কমিশনের সুপারিশ ও প্রেক্ষাপট উল্লেখ্য, অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সাবেক সচিব জাকির হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত ২১ সদস্যের পে-কমিশন প্রায় ছয় মাস পর্যালোচনার পর একটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল। ওই প্রতিবেদনে সরকারি কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির সুপারিশ করা হয়, যা বাস্তবায়নে অতিরিক্ত ১ লাখ ৬ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। যদিও পূর্ববর্তী সরকারের আমলে এই পে-স্কেল চূড়ান্ত হয়েছিল, কিন্তু তা বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ফলে সেই দায়বদ্ধতার বিষয়টি এখন বর্তমান সরকারের ওপর ন্যস্ত হয়েছে।
এনবিআরের সংস্কার ও রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা পে-স্কেল বাস্তবায়নসহ সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে রাজস্ব আদায়ের ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। অর্থমন্ত্রী জানান, সরকারের নানামুখী প্রচেষ্টায় গত অর্থবছরের শেষ চার মাসে এনবিআরের রাজস্ব আদায় ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। চলতি অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৪ হাজার কোটি টাকার উচ্চাভিলাষী রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এই লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে এনবিআরের পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনায় বড় ধরনের সংস্কারের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, আধুনিক ব্যবস্থাপনা, স্বচ্ছতা ও দক্ষতার মাধ্যমে ট্যাক্স-জিডিপি অনুপাত উন্নত করা হবে এবং নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা সম্ভব হবে ইনশাআল্লাহ।
সূত্র: একাত্তর টিভির আজকের নিউজ

