bd Service Rules

সরকারি হাসপাতালের ১ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন বেসরকারি ক্লিনিক নয়, বিদ্যমান ক্লিনিকেও সরকারি চিকিৎসকদের প্র্যাকটিস বন্ধ

সরকারি হাসপাতালের সেবার পরিবেশ ও মান উন্নয়নে নতুন নির্দেশনা জারি করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এখন থেকে কোনো সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন কোনো বেসরকারি ক্লিনিক স্থাপনের অনুমতি দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে ওই এক কিলোমিটার এলাকার মধ্যে আগে থেকেই থাকা বেসরকারি ক্লিনিকেও সংশ্লিষ্ট সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা প্রাইভেট প্র্যাকটিস করতে পারবেন না।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাসপাতাল ও ক্লিনিকসমূহ শাখার পরিচালক ডা. মো. নূরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখের এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চিঠিটি দেশের সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য পাঠানো হয়েছে। সাম্প্রতিক সংবাদ প্রতিবেদনগুলোতেও একই নির্দেশনার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে সভার সিদ্ধান্তের পর নির্দেশনা

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৭ আগস্ট ২০২৬ তারিখে স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নবিষয়ক একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। ওই সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তের আলোকে সরকারি হাসপাতালের আশপাশে বেসরকারি ক্লিনিক স্থাপন ও সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের বিষয়ে এই নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, সিদ্ধান্তটি বাস্তবায়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে এবং গৃহীত পদক্ষেপ সম্পর্কে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. মো. নূরুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট বিভাগ ও কর্তৃপক্ষকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

নতুন ক্লিনিক স্থাপনে ১ কিলোমিটার সীমা

নতুন নির্দেশনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো এক কিলোমিটারের সীমা

অর্থাৎ কোনো সরকারি হাসপাতালের নির্ধারিত অবস্থান থেকে এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন করে বেসরকারি ক্লিনিক স্থাপনের অনুমোদন দেওয়া যাবে না। ফলে সরকারি হাসপাতালের আশপাশে নতুন বেসরকারি ক্লিনিক স্থাপনের অনুমোদনের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এই দূরত্ব বিবেচনায় নিতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনাটি বাস্তবায়নে বিভাগীয় স্বাস্থ্য প্রশাসন, সিভিল সার্জন এবং উপজেলা পর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

আগে থেকে থাকা ক্লিনিকগুলোর ক্ষেত্রে কী হবে?

এখানে নতুন ও বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানের জন্য দুটি আলাদা বিষয় রয়েছে।

নতুন বেসরকারি ক্লিনিক: সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন ক্লিনিক স্থাপনের অনুমতি দেওয়া যাবে না।

বিদ্যমান বেসরকারি ক্লিনিক: এক কিলোমিটারের মধ্যে আগে থেকেই কোনো বেসরকারি ক্লিনিক থাকলে সেটি থাকার বিষয়টি এই নির্দেশনায় সরাসরি বন্ধ করার কথা বলা হয়নি। তবে সেখানে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগ থাকবে না।

অর্থাৎ, নির্দেশনার মূল লক্ষ্য শুধু নতুন ক্লিনিকের অনুমোদন নিয়ন্ত্রণ নয়; একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের কর্মস্থলের কাছাকাছি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্র্যাকটিসের বিষয়টিও নিয়ন্ত্রণ করা।

সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিসে নতুন বিধিনিষেধ

নির্দেশনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস।

কোনো সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটার এলাকার মধ্যে থাকা বিদ্যমান বেসরকারি ক্লিনিকে ওই সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা প্র্যাকটিস করতে পারবেন না। ফলে সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের আশপাশের বেসরকারি ক্লিনিকে রোগী দেখানোর ক্ষেত্রে নতুন সীমাবদ্ধতা তৈরি হলো।

এতে সরকারি হাসপাতাল এবং কাছাকাছি বেসরকারি ক্লিনিকের মধ্যে চিকিৎসকদের কর্মসম্পৃক্ততার বিষয়টি প্রশাসনিকভাবে আরও স্পষ্ট হবে।

কেন এমন সিদ্ধান্ত?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নির্দেশনার পেছনে মূল ভিত্তি হলো স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নবিষয়ক সভার সিদ্ধান্ত। তবে বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে সরকারি হাসপাতালের আশপাশে বেসরকারি ক্লিনিক গড়ে ওঠা এবং সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগের কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ধরনের অভিযোগের প্রেক্ষাপটে নতুন নির্দেশনাটি বাস্তবায়িত হলে সরকারি হাসপাতালকে কেন্দ্র করে বেসরকারি ক্লিনিকের নতুন করে ঘনত্ব তৈরি হওয়ার সুযোগ সীমিত হতে পারে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছাকাছি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে প্র্যাকটিসের বিষয়টিও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আসবে।

তবে কোনো নির্দিষ্ট ক্লিনিক বা চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে—এমন কোনো তথ্য এই নির্দেশনায় নেই। তাই নির্দেশনাটিকে সাধারণ প্রশাসনিক ও নিয়ন্ত্রণমূলক ব্যবস্থা হিসেবেই দেখা হচ্ছে।

বাস্তবায়নের দায়িত্ব কার?

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চিঠি অনুযায়ী, নির্দেশনা বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য প্রশাসনকে সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে। সংশ্লিষ্টদের মধ্যে রয়েছে—

  • বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক
  • সিভিল সার্জন
  • উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা
  • সংশ্লিষ্ট স্বাস্থ্য প্রশাসন ও কর্তৃপক্ষ

তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের পাশাপাশি কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অর্থাৎ এটি শুধু একটি নীতিগত ঘোষণা নয়; বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তাদেরও দায়িত্ব নির্ধারণ করা হয়েছে।

রোগীদের জন্য এর সম্ভাব্য প্রভাব

নির্দেশনাটি কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত হলে সরকারি হাসপাতালের আশপাশে নতুন বেসরকারি ক্লিনিক স্থাপনের প্রবণতা কমতে পারে। একই সঙ্গে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের কাছাকাছি বেসরকারি ক্লিনিকে প্রাইভেট প্র্যাকটিসের সুযোগ সীমিত হওয়ায় রোগী ব্যবস্থাপনা ও সরকারি হাসপাতালের সেবাব্যবস্থা নিয়ে প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণ বাড়তে পারে।

তবে নির্দেশনার বাস্তব প্রভাব নির্ভর করবে এক কিলোমিটার দূরত্ব কীভাবে পরিমাপ করা হবে, বিদ্যমান ক্লিনিকগুলো কীভাবে তদারকি করা হবে এবং সরকারি চিকিৎসকদের প্রাইভেট প্র্যাকটিস নিষেধাজ্ঞা কীভাবে মাঠপর্যায়ে প্রয়োগ করা হবে—এসব বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ার ওপর।

নতুন ও পুরোনো ক্লিনিকের ক্ষেত্রে এক নজরে

বিষয়নতুন নির্দেশনা
সরকারি হাসপাতালের ১ কিমির মধ্যে নতুন বেসরকারি ক্লিনিকঅনুমতি দেওয়া যাবে না
১ কিমির মধ্যে আগে থেকেই থাকা বেসরকারি ক্লিনিকথাকার বিষয়ে এই চিঠিতে নিষেধাজ্ঞা নেই
ওই বিদ্যমান ক্লিনিকে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকের প্র্যাকটিসঅনুমোদিত নয়
সিদ্ধান্তের ভিত্তি১৭ আগস্ট ২০২৬-এর স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নবিষয়ক সভার সিদ্ধান্ত
নির্দেশনা জারির তারিখ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
বাস্তবায়নবিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক, সিভিল সার্জন ও উপজেলা স্বাস্থ্য প্রশাসন
অগ্রগতি জানানোস্বাস্থ্য অধিদপ্তরকে লিখিতভাবে অবহিত করতে হবে

গুরুত্বপূর্ণ বিষয়

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাতে থাকা চিঠিতে সরাসরি “নতুন বেসরকারি ক্লিনিক” এবং একই সীমানায় থাকা “বিদ্যমান বেসরকারি ক্লিনিকে সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকদের প্র্যাকটিস” নিষিদ্ধ করার কথা বলা হয়েছে। কিছু সংবাদ প্রতিবেদনে এর পরিধি বেসরকারি হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার পর্যন্ত বিস্তৃত করে উল্লেখ করা হয়েছে।

তাই বাস্তবে কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন বা প্র্যাকটিসের বৈধতা যাচাইয়ের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের ধরন এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরবর্তী বাস্তবায়ন নির্দেশনা দেখা গুরুত্বপূর্ণ।

সারসংক্ষেপ

সরকারি হাসপাতালকে কেন্দ্র করে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থাপনায় নতুন নিয়ন্ত্রণ আনতে এক কিলোমিটার নীতি কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আওতায় সরকারি হাসপাতালের এক কিলোমিটারের মধ্যে নতুন বেসরকারি ক্লিনিক স্থাপনের অনুমতি বন্ধ থাকবে। একই এলাকায় আগে থেকে থাকা বেসরকারি ক্লিনিকে সংশ্লিষ্ট সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসকেরাও প্র্যাকটিস করতে পারবেন না। ১৭ আগস্টের স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নবিষয়ক সভার সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে জারি করা এই নির্দেশনা বাস্তবায়নের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মাঠপর্যায়ের স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের।

Source File

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *