পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ থেকে প্রিপেইড মিটার: গ্রাহকদের যেসব নিয়ম ও নম্বর জানা জরুরি
পল্লী বিদ্যুতের নতুন সংযোগ নেওয়া, মিটার পরিবর্তন, বিদ্যুৎ বিল নিয়ে অভিযোগ, প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ, হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে যাওয়া কিংবা সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার মতো সমস্যায় পড়েন অনেক গ্রাহক। এসব ক্ষেত্রে কোথায় যোগাযোগ করতে হবে, কী কী কাগজপত্র প্রয়োজন এবং কীভাবে অভিযোগ জানাতে হবে, তা জানা থাকলে ভোগান্তি অনেকটাই কমানো সম্ভব।
গ্রাহকদের এসব প্রয়োজন বিবেচনায় নতুন সংযোগ, মিটারসংক্রান্ত সমস্যা, লাইন কর্তন, প্রিপেইড মিটারের ব্যালেন্স ও চার্জ এবং বিদ্যুৎ বিভ্রাটের করণীয় নিয়ে একটি তথ্যসহায়িকায় প্রয়োজনীয় নির্দেশনা তুলে ধরা হয়েছে। এতে পল্লী বিদ্যুতের জন্য ১৬৮৯৯ এবং বিদ্যুৎ বিভাগের কেন্দ্রীয় সেবার জন্য ১৬৯৯৯ নম্বর উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন সেবার ফি, নিয়ম ও মিটারের প্রযুক্তিগত নির্দেশনা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে যাচাই করে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ নিতে যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন
নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রথমে সংশ্লিষ্ট এলাকার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ে যোগাযোগ করতে হবে। সেখানে নির্ধারিত আবেদনপদ্ধতি অনুসরণ করতে হবে। অনলাইন আবেদন সুবিধা চালু থাকলে সংশ্লিষ্ট সমিতির নির্ধারিত ব্যবস্থার মাধ্যমেও আবেদন করা যেতে পারে।
সাধারণভাবে নতুন সংযোগের আবেদনে যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে, সেগুলো হলো—
- আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি।
- জমির মালিকানাসংক্রান্ত দলিল, খতিয়ান বা হোল্ডিংয়ের কাগজপত্র।
- ভাড়াটিয়া হলে প্রয়োজন অনুযায়ী বাড়ির মালিকের অনুমতি।
- পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
- সংশ্লিষ্ট সমিতির চাহিদা অনুযায়ী অন্যান্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র।
আবেদন জমা দেওয়ার পর নির্ধারিত সার্ভে ফি পরিশোধ করতে হতে পারে। এ ক্ষেত্রে অবশ্যই অর্থ জমার রসিদ সংরক্ষণ করতে হবে।
এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কর্মীরা সংযোগস্থল পরিদর্শন করে বিদ্যুতের লাইন, খুঁটি, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো এবং অনুমোদিত লোডের বিষয়গুলো যাচাই করতে পারেন। বাড়ির বৈদ্যুতিক ওয়্যারিং নিরাপদ ও মানসম্মত হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ।
আবেদন অনুমোদিত হলে ডিমান্ড নোট অনুযায়ী সংযোগ ফি, জামানত ও মিটারসংক্রান্ত নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করতে হয়। প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর মিটার স্থাপন এবং বিদ্যুৎ সংযোগ চালুর ব্যবস্থা করা হয়।
সার্ভে ফি দেওয়ার পরও পরিদর্শন না হলে কী করবেন?
আবেদনের পর দীর্ঘ সময় পার হলেও সার্ভে না হলে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ করা যেতে পারে। প্রয়োজনে ১৬৮৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করে অভিযোগ জানানোর পদ্ধতি ও পরবর্তী করণীয় জেনে নেওয়া যেতে পারে।
মিটার নষ্ট হলে বা বিদ্যুৎ ব্যবহারে অসংগতি দেখা দিলে করণীয়
বিদ্যুৎ মিটার নষ্ট হয়ে যাওয়া, অস্বাভাবিকভাবে চলা, একেবারে বন্ধ থাকা, মিটারের সকেট পুড়ে যাওয়া কিংবা সার্ভিস কেবল ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার মতো সমস্যায় গ্রাহকদের সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
মিটার নষ্ট বা ত্রুটিপূর্ণ মনে হলে সংশ্লিষ্ট সমিতির কার্যালয়ে লিখিত আবেদন করে মিটার পরীক্ষা করার অনুরোধ জানানো যেতে পারে। আবেদনে গ্রাহক নম্বর, মিটার নম্বর এবং সমস্যার বিস্তারিত বিবরণ উল্লেখ করা উচিত।
মিটার পরিবর্তনের প্রয়োজন হলে সাধারণত কয়েকটি ধাপ অনুসরণ করতে হয়—
১. সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে লিখিত আবেদন জমা দিতে হবে।
২. সমিতির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মীরা মিটার পরীক্ষা করে সমস্যার ধরন নির্ধারণ করবেন।
৩. প্রয়োজন হলে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত ফি পরিশোধ করতে হতে পারে।
৪. মিটার পরিবর্তন করা হলে পুরোনো ও নতুন মিটারের রিডিং এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে অবশিষ্ট ব্যালেন্সের হিসাব বুঝে নিতে হবে।
তবে মিটার পরিবর্তনের খরচ সব ক্ষেত্রে এক রকম নাও হতে পারে। মিটারের ত্রুটির কারণ, দায়দায়িত্ব এবং সংশ্লিষ্ট সমিতির নিয়ম অনুযায়ী খরচ নির্ধারিত হতে পারে।
বিশেষ করে মিটারের সিল ভাঙা, মিটার চুরি বা সকেট পুড়ে যাওয়ার মতো ঘটনায় নিজে মিটার খুলে মেরামত করার চেষ্টা করা উচিত নয়। এ ধরনের পরিস্থিতিতে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো নিরাপদ।
পল্লী বিদ্যুতের লাইন কেটে দিলে কীভাবে পুনঃসংযোগ পাবেন
বিভিন্ন কারণে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হতে পারে। পোস্টপেইড গ্রাহকের বিল বকেয়া থাকা, প্রিপেইড মিটারের ব্যালেন্স শেষ হয়ে যাওয়া, মিটারে অনিয়ম শনাক্ত হওয়া কিংবা ঝড়, তার ছেঁড়া ও ট্রান্সফরমারের ত্রুটির কারণে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ হতে পারে।
এ ছাড়া বিদ্যুৎব্যবস্থার রক্ষণাবেক্ষণ বা এলাকাভিত্তিক লোড ব্যবস্থাপনার কারণেও সাময়িকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকতে পারে।
সংযোগ বিচ্ছিন্ন হলে প্রথমে এর কারণ নিশ্চিত করতে হবে। বকেয়া বিলের কারণে সংযোগ বন্ধ হয়ে থাকলে প্রযোজ্য বিল পরিশোধ করতে হবে। পুনঃসংযোগ ফি প্রযোজ্য হলে সেটিও নির্ধারিত নিয়মে জমা দিতে হবে।
এরপর প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে পুনঃসংযোগের আবেদন করতে হবে। অর্থ পরিশোধের রসিদ ও গ্রাহক নম্বর সংরক্ষণ করা জরুরি।
গ্রাহকের দাবি অনুযায়ী বিল পরিশোধ করা থাকা সত্ত্বেও ভুলবশত সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হলে সংশ্লিষ্ট রসিদসহ লিখিত অভিযোগ জানানো যেতে পারে। সমাধান না হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে অভিযোগটি উপস্থাপন করা যেতে পারে।
প্রিপেইড মিটারে কোন কোন চার্জ কাটা হয়
প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের একটি সাধারণ প্রশ্ন হলো—বিদ্যুৎ ব্যবহার না করলেও ব্যালেন্স কেন কমে?
এর অন্যতম কারণ হতে পারে মিটারের সঙ্গে সম্পর্কিত নির্ধারিত স্থায়ী চার্জ। মিটারের ধরন, অনুমোদিত লোড এবং প্রযোজ্য ট্যারিফ অনুযায়ী মিটার ভাড়া, ডিমান্ড চার্জ বা সার্ভিস চার্জের মতো খরচ প্রযোজ্য হতে পারে।
প্রিপেইড মিটারের সম্ভাব্য খরচের খাতগুলো হলো—
১. সংযোগ ও মিটার ফি: নতুন সংযোগ নেওয়ার সময় ডিমান্ড নোট অনুযায়ী নির্ধারিত অর্থ পরিশোধ করতে হতে পারে।
২. মিটার ভাড়া বা সার্ভিস চার্জ: প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময় অন্তর এ ধরনের চার্জ কাটা হতে পারে।
৩. ডিমান্ড চার্জ: অনুমোদিত লোড এবং কার্যকর ট্যারিফ অনুযায়ী এ চার্জ নির্ধারিত হতে পারে।
৪. ভ্যাট ও অন্যান্য প্রযোজ্য চার্জ: সরকারি বিধান এবং সংশ্লিষ্ট ট্যারিফ অনুযায়ী প্রযোজ্য কর বা চার্জ যুক্ত হতে পারে।
৫. প্রথম রিচার্জের সমন্বয়: নতুন মিটার বা সংযোগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নিয়ম অনুযায়ী প্রাথমিক ব্যালেন্স থেকে বিভিন্ন খাতের অর্থ সমন্বয় করা হতে পারে।
তথ্যসহায়িকাটিতে মিটার ভাড়া হিসেবে মাসিক ৪০ টাকার একটি পুরোনো হিসাবের উল্লেখ রয়েছে। তবে এটিকে বর্তমান সর্বজনীন হার হিসেবে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। একইভাবে ভ্যাটের হার, ডিমান্ড চার্জ এবং অন্যান্য ফি-ও সংশ্লিষ্ট সময়ের কার্যকর নিয়ম অনুযায়ী যাচাই করা প্রয়োজন।
তাই রিচার্জের পর প্রত্যাশার চেয়ে কম ব্যালেন্স পাওয়া গেলে রিচার্জের পরিমাণ, মিটারের অনুমোদিত লোড এবং কেটে নেওয়া চার্জের হিসাব যাচাই করা উচিত।
প্রিপেইড মিটারের ব্যালেন্স কীভাবে দেখবেন
প্রিপেইড মিটারের ব্যালেন্স, বিদ্যুৎ ব্যবহারের পরিমাণ এবং সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণ জানতে মিটারের নিজস্ব নির্দেশিকা অনুসরণ করা প্রয়োজন।
সাধারণভাবে মিটারের কিপ্যাডে নির্দিষ্ট কোড প্রবেশ করিয়ে বিভিন্ন তথ্য দেখা যায়। তবে সব ব্র্যান্ড ও মডেলের মিটারে একই কোড কাজ করে না।
তথ্যসহায়িকাটিতে কয়েকটি কোডের উল্লেখ রয়েছে—
| মিটারের কোড | তথ্যসহায়িকায় উল্লেখিত কাজ |
|---|---|
| ৮০৬ | রিলে সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণ |
| ৮১৩ | আগের দিনের বিদ্যুৎ ব্যবহার |
| ৮১৪ | চলতি মাসের বিদ্যুৎ ব্যবহার |
| ৮১৯ | বিদ্যুৎ বন্ধের সময় |
| ৮৬৫ | মিটার নরমাল মোডে আছে কি না |
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা: এসব কোড সব মিটারে একইভাবে কার্যকর হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। ব্যবহার করার আগে মিটারের ব্র্যান্ড ও মডেল অনুযায়ী নির্দেশিকা দেখে নিতে হবে। প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কাছ থেকে নিশ্চিত হতে হবে।
মিটারের ব্যালেন্স দেখতে সমস্যা হলে অথবা ব্যালেন্স থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ না থাকলে ১৬৮৯৯ নম্বরে যোগাযোগ করে করণীয় জেনে নেওয়া যেতে পারে।
রিচার্জ করার পরও বিদ্যুৎ না এলে কী করবেন
প্রিপেইড মিটারে রিচার্জ করার পরও বিদ্যুৎ না এলে কয়েকটি বিষয় যাচাই করা প্রয়োজন।
প্রথমে রিচার্জ সফল হয়েছে কি না এবং মিটারে প্রয়োজনীয় টোকেন প্রবেশ করানো হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে হবে। অনেক ক্ষেত্রে রিচার্জের পর পাওয়া টোকেন মিটারে প্রবেশ করানোর প্রয়োজন হতে পারে।
টোকেন প্রবেশ করানোর সময় সংখ্যাগুলো সঠিকভাবে দিতে হবে। লেনদেন সম্পন্ন হওয়ার বার্তা, রিচার্জের রসিদ এবং টোকেনসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করা উচিত।
রিচার্জের টাকা পরিশোধ করা হলেও টোকেন গ্রহণ না করলে লেনদেনের তথ্যসহ সংশ্লিষ্ট সমিতিতে যোগাযোগ করতে হবে।
অন্যদিকে, মিটারে ব্যালেন্স থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ না এলে মিটারের ত্রুটি, রিলে বিচ্ছিন্নতা অথবা স্থানীয় বিদ্যুৎ লাইনের সমস্যার কারণে এমন হতে পারে। সে ক্ষেত্রে মিটারের নির্দেশিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় তথ্য যাচাই করে অভিযোগ জানাতে হবে।
তথ্যসহায়িকাটিতে বিদ্যুতের নতুন দাম কার্যকর হওয়ার পর মিটার আপডেটের জন্য দীর্ঘ ডিজিটের বিশেষ টোকেনের উল্লেখ রয়েছে। তবে কোন মিটারে কখন এ ধরনের টোকেন প্রয়োজন, তার নির্দিষ্ট তথ্য এখানে নেই। তাই সব গ্রাহকের মিটারে একইভাবে আপডেট করতে হবে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে সংশ্লিষ্ট বিতরণ সংস্থার নির্দেশনা যাচাই করা জরুরি।
হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে প্রথমে যা করবেন
বাসা বা এলাকায় হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেলে অযথা ভোগান্তি এড়াতে ধাপে ধাপে সমস্যা যাচাই করা যেতে পারে।
প্রথমে বাড়ির মেইন সুইচ, সার্কিট ব্রেকার বা ফিউজে সমস্যা হয়েছে কি না, তা নিরাপদভাবে পরীক্ষা করতে হবে। এরপর প্রতিবেশীদের সঙ্গে কথা বলে জানতে হবে, শুধু নিজের বাড়িতে বিদ্যুৎ নেই, নাকি পুরো এলাকাতেই সরবরাহ বন্ধ।
শুধু একটি বাড়িতে বিদ্যুৎ না থাকলে বাড়ির অভ্যন্তরীণ বৈদ্যুতিক ব্যবস্থায় সমস্যা থাকতে পারে। আর পুরো এলাকায় বিদ্যুৎ না থাকলে স্থানীয় লাইন, ট্রান্সফরমার বা সরবরাহব্যবস্থার ত্রুটি থাকতে পারে।
প্রিপেইড মিটার ব্যবহারকারীদের ক্ষেত্রে ব্যালেন্স আছে কি না, সেটিও যাচাই করা উচিত। ব্যালেন্স থাকা সত্ত্বেও বিদ্যুৎ না এলে সংশ্লিষ্ট সমিতির অভিযোগকেন্দ্রে যোগাযোগ করে গ্রাহক নম্বর, ঠিকানা ও সমস্যার বিবরণ জানাতে হবে।
সমস্যা সমাধান না হলে লিখিত অভিযোগ জানানো যেতে পারে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হবে।
নিরাপত্তার বিষয়ে বিশেষ সতর্কতা: ছেঁড়া বা ঝুলে থাকা বিদ্যুতের তারের কাছে যাওয়া, নিজে খুঁটিতে উঠে মেরামত করা কিংবা অনুমোদন ছাড়া মিটার বা বৈদ্যুতিক সংযোগ খোলার চেষ্টা করা বিপজ্জনক। এ ধরনের সমস্যা দেখা দিলে দূরে থেকে দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানাতে হবে।
পল্লী বিদ্যুতের অভিযোগ জানাতে কোন নম্বরে কল করবেন
বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানের জন্য সঠিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করা গুরুত্বপূর্ণ। তথ্যসহায়িকাটিতে বিভিন্ন বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার কয়েকটি হেল্পলাইন নম্বর উল্লেখ রয়েছে।
| সেবা বা সংস্থা | উল্লেখিত হেল্পলাইন |
|---|---|
| বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) | ১৬৮৯৯ |
| বিদ্যুৎ বিভাগের কেন্দ্রীয় সেবা | ১৬৯৯৯ |
| বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) | ১৬২০০ |
| ডিপিডিসি | ১৬১১৬ |
| ডেসকো | ১৬১২০ |
| নেসকো | ১৬৬০৩ |
| ওজোপাডিকো | ১৬১১৭ |
এখানে উল্লেখিত নম্বরগুলো তথ্যসহায়িকায় থাকা তথ্যের ভিত্তিতে দেওয়া হয়েছে। নম্বরগুলোর বর্তমান কার্যকারিতা, সেবার পরিধি এবং যোগাযোগের সময়সূচি সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে যাচাই করে নেওয়া উচিত।
অভিযোগ জানানোর সময় গ্রাহক নম্বর, মিটার নম্বর, সংযোগের ঠিকানা, সমস্যার ধরন এবং প্রয়োজনীয় রসিদ কাছে রাখলে অভিযোগের বিষয়টি স্পষ্টভাবে উপস্থাপন করা সহজ হয়।
নামজারি বা মালিকানা পরিবর্তন হলে কী করতে হবে
বিদ্যুৎ সংযোগের সঙ্গে সম্পর্কিত বাড়ি বা জমির মালিকানা পরিবর্তন হলে বিদ্যুৎ গ্রাহকের তথ্যও হালনাগাদ করার প্রয়োজন হতে পারে।
এ ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কার্যালয়ে যোগাযোগ করে আবেদনপদ্ধতি জেনে নিতে হবে। নতুন মালিকের পরিচয় ও মালিকানাসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দিতে হতে পারে।
এ ছাড়া গাছের ডালপালা বিদ্যুতের লাইনের জন্য ঝুঁকি তৈরি করলে কিংবা ট্রান্সফরমার স্থানান্তরের প্রয়োজন দেখা দিলে সংশ্লিষ্ট সমিতিতে লিখিত আবেদন করা যেতে পারে। এসব ক্ষেত্রে কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা জরুরি।
গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ
বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে কয়েকটি বিষয়ে সচেতন থাকলে সময় ও অর্থের অপচয় কমানো সম্ভব।
প্রথমত, নতুন সংযোগ, মিটার পরিবর্তন কিংবা পুনঃসংযোগের জন্য কোনো অর্থ জমা দিলে অবশ্যই রসিদ সংরক্ষণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, মিটার বা বিল নিয়ে অসংগতি দেখা দিলে অনুমাননির্ভর সিদ্ধান্ত না নিয়ে সংশ্লিষ্ট কার্যালয়ে হিসাব যাচাই করতে হবে।
তৃতীয়ত, প্রিপেইড মিটারের ব্যালেন্স নিয়মিত পরীক্ষা করা এবং রিচার্জের লেনদেনের তথ্য সংরক্ষণ করা প্রয়োজন। চতুর্থত, মিটারের কোড, চার্জ ও টোকেনসংক্রান্ত নির্দেশনা মিটারের ব্র্যান্ড ও মডেল অনুযায়ী নিশ্চিত করতে হবে।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, বিভিন্ন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিতে সেবার ফি, প্রক্রিয়া এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্রে পার্থক্য থাকতে পারে। সময়ের সঙ্গে নিয়মও পরিবর্তিত হতে পারে। তাই কোনো নির্দিষ্ট ফি বা নিয়মকে সবার জন্য একই বলে ধরে না নিয়ে সংশ্লিষ্ট সমিতির কার্যালয় বা নির্ধারিত হেল্পলাইন থেকে সর্বশেষ তথ্য জেনে নেওয়া উচিত।
শেষ কথা
নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ নেওয়া থেকে শুরু করে প্রিপেইড মিটার পরিচালনা, বিলের অসংগতি, সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়া কিংবা বিদ্যুৎ বিভ্রাট—প্রতিটি ক্ষেত্রেই সঠিক তথ্য জানা গ্রাহকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, অর্থ জমার রসিদ এবং গ্রাহক নম্বর সংরক্ষণ করলে অভিযোগ জানানো ও সমস্যা সমাধানের প্রক্রিয়া সহজ হতে পারে।
তবে গ্রাহকদের মনে রাখতে হবে, একটি তথ্যসহায়িকা সাধারণ নির্দেশনা দিতে পারে; এটি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক আদেশ, বর্তমান ট্যারিফ বা সর্বশেষ সেবানীতির বিকল্প নয়। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ও প্রযোজ্য নিয়মের জন্য সংশ্লিষ্ট পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি বা দায়িত্বপ্রাপ্ত বিদ্যুৎ বিতরণ সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করাই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায়।

মন্তব্য (০)