ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ২০ প্রতীক নির্ধারণ, থাকছে কম্পিউটার-ঘোড়া-চিংড়ি-সোফা
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জন্য ২০টি নির্বাচনী প্রতীক সংরক্ষণ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। সংশোধিত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন বিধিমালায় চেয়ারম্যান, সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য—তিন পদের জন্য মোট ৪২টি প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সংশোধিত বিধিমালার গেজেট প্রকাশের পর এসব প্রতীকের বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে।
ছবিতে থাকা তফসিল-২-এর তালিকা অনুযায়ী, চেয়ারম্যান পদে নির্ধারিত প্রতীকগুলো হলো—কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘণ্টা, ঘোড়া, চিংড়ি, জগ, টেবিল, টেবিল ঘড়ি, টেলিফোন, দালান, দোতলা বাস, পাগড়ি, বেবি টেক্সি, ময়ূর, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, মোড়া, রেল ইঞ্জিন, সোফা ও হাঁস।
চেয়ারম্যান পদে ২০টি প্রতীক
নির্বাচন কমিশনের নির্ধারিত তালিকাটি হলো—
| ক্রম | প্রতীক | ক্রম | প্রতীক |
|---|---|---|---|
| ১ | কম্পিউটার | ১১ | দোতলা বাস |
| ২ | কলার ছড়ি | ১২ | পাগড়ি |
| ৩ | ঘণ্টা | ১৩ | বেবি টেক্সি |
| ৪ | ঘোড়া | ১৪ | ময়ূর |
| ৫ | চিংড়ি | ১৫ | মোবাইল ফোন |
| ৬ | জগ | ১৬ | মোটরসাইকেল |
| ৭ | টেবিল | ১৭ | মোড়া |
| ৮ | টেবিল ঘড়ি | ১৮ | রেল ইঞ্জিন |
| ৯ | টেলিফোন | ১৯ | সোফা |
| ১০ | দালান | ২০ | হাঁস |
ছবিতে প্রকাশিত তালিকা এবং সংশোধিত বিধিমালার তথ্যের মধ্যে এই ২০টি প্রতীকের তালিকাই রয়েছে।
সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদেও নির্দিষ্ট প্রতীক
শুধু চেয়ারম্যান পদ নয়, ইউনিয়ন পরিষদের সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্য পদের জন্যও পৃথক প্রতীক নির্ধারণ করা হয়েছে।
সাধারণ সদস্য পদে ১২টি প্রতীক:
উট, কাপ-পিরিচ, ঘুড়ি, জাহাজ, টর্চ লাইট, টিউবওয়েল, ট্রাক্টর, তালা, ফুটবল, বৈদ্যুতিক পাখা, বৈদ্যুতিক বাল্ব ও মোরগ।
সংরক্ষিত নারী সদস্য পদে ১০টি প্রতীক:
আলমারি, কলস, ড্রেসিং টেবিল, পালকি, ফলের ঝুড়ি, মাইক, সেলাই মেশিন, সূর্যমুখী ফুল, হরিণ ও হেলিকপ্টার।
অর্থাৎ চেয়ারম্যানের ২০টি, সাধারণ সদস্যের ১২টি এবং সংরক্ষিত নারী সদস্যের ১০টি—সব মিলিয়ে ৪২টি প্রতীক ইউপি নির্বাচনের জন্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
দলীয় প্রতীকের পরিবর্তে নির্দলীয় প্রতীকে ইউপি নির্বাচন
এই পরিবর্তনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, সংশোধিত বিধিমালার মাধ্যমে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনকে নির্দলীয় প্রতীকের কাঠামোয় নেওয়া হয়েছে। সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংশোধিত বিধিমালায় রাজনৈতিক দলের প্রতীকগুলো বাদ দিয়ে পদভিত্তিক প্রতীকের তালিকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ফলে চেয়ারম্যান পদে কোনো প্রার্থী দলীয় প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার পরিবর্তে নির্ধারিত তালিকা থেকে প্রাপ্যতা অনুযায়ী প্রতীক পাবেন। একইভাবে সাধারণ সদস্য ও সংরক্ষিত নারী সদস্যদের জন্যও সংশ্লিষ্ট পদে নির্ধারিত প্রতীকের মধ্য থেকে প্রতীক বরাদ্দ হবে।
প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে কী হবে
নির্বাচনী বিধিমালায় নির্ধারিত প্রতীকগুলো সংরক্ষিত থাকার ফলে প্রার্থীদের প্রতীক নির্বাচন ও বরাদ্দের বিষয়টি নির্দিষ্ট কাঠামোর মধ্যে থাকবে। সংশ্লিষ্ট পদে একাধিক প্রার্থী থাকলে নির্ধারিত প্রতীকের তালিকা থেকে প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ করা হবে।
এ ক্ষেত্রে কম্পিউটার, কলার ছড়ি, ঘোড়া, চিংড়ি, মোবাইল ফোন, মোটরসাইকেল, সোফা কিংবা হাঁসের মতো পরিচিত ও সহজে শনাক্তযোগ্য প্রতীক ভোটারদের ব্যালটে প্রার্থীদের আলাদা করে চিহ্নিত করতে ব্যবহৃত হবে।
চেয়ারম্যান প্রার্থীদের জামানতও বেড়েছে
প্রতীক নির্ধারণের পাশাপাশি সংশোধিত ইউপি নির্বাচন বিধিমালায় প্রার্থীদের জামানতের ক্ষেত্রেও পরিবর্তন আনা হয়েছে। চেয়ারম্যান প্রার্থীর জামানত ২৫ হাজার টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর জামানত ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী সংশ্লিষ্ট নির্বাচনে প্রদত্ত মোট ভোটের কমপক্ষে ১৫ শতাংশ পেলে তার জামানত ফেরত পাওয়ার যোগ্য হবেন। এর কম ভোট পেলে জামানত বাজেয়াপ্ত হয়ে সরকারি কোষাগারে জমা হবে।
নির্বাচনী ব্যয়ের সীমাতেও পরিবর্তন
সংশোধিত বিধিমালায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর নির্বাচনী ব্যয়ের সর্বোচ্চ সীমা ১০ লাখ টাকা এবং সদস্য প্রার্থীর জন্য ২ লাখ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চেয়ারম্যান প্রার্থীদের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব পরিচালনার জন্য তফসিলি ব্যাংকে পৃথক হিসাব রাখার বিধানও রয়েছে।
এ ছাড়া কোনো খাতে ২০ হাজার টাকা বা তার বেশি ব্যয় হলে তা চেকের মাধ্যমে পরিশোধের বিধান রাখা হয়েছে। ফলে নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাবকে আরও নথিভুক্ত ও যাচাইযোগ্য রাখার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
সমান ভোট হলে লটারির পরিবর্তে পুনঃভোট
সংশোধিত বিধিমালায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো—দুই বা ততোধিক প্রার্থী সর্বোচ্চ সমান ভোট পেলে লটারির মাধ্যমে বিজয়ী নির্ধারণ না করে সমান সর্বোচ্চ ভোট পাওয়া প্রার্থীদের মধ্যে পুনঃভোট আয়োজনের বিধান রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া কোনো কেন্দ্রে বলপ্রয়োগ, ভয়ভীতি, কারসাজি বা অন্য কোনো অনিয়মের কারণে ফলাফল গুরুতরভাবে প্রভাবিত হলে কমিশন ওই কেন্দ্রের ফলাফল স্থগিত করে তদন্তের পর প্রয়োজন হলে নির্বাচন বাতিল ও পুনঃভোটের নির্দেশ দিতে পারবে।
কবে হতে পারে ইউপি নির্বাচন
সংশোধিত বিধিমালার এই পরিবর্তন সামনে রেখে আগামী ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি এগোচ্ছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৭ সালের শুরুতে ইউপি নির্বাচন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, এরপর ধাপে ধাপে দেশের প্রায় সাড়ে চার হাজার ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এক নজরে
- চেয়ারম্যান পদ: ২০টি প্রতীক
- সাধারণ সদস্য পদ: ১২টি প্রতীক
- সংরক্ষিত নারী সদস্য পদ: ১০টি প্রতীক
- মোট প্রতীক: ৪২টি
- চেয়ারম্যানের জামানত: ২৫,০০০ টাকা
- সদস্যের জামানত: ৫,০০০ টাকা
- চেয়ারম্যানের সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয়: ১০ লাখ টাকা
- সদস্যের সর্বোচ্চ নির্বাচনী ব্যয়: ২ লাখ টাকা
- জামানত ফেরতের ন্যূনতম ভোট: ১৫ শতাংশ
- সমান সর্বোচ্চ ভোট: পুনঃভোটের বিধান
সব মিলিয়ে, নতুন বিধিমালায় ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের প্রতীক, জামানত, নির্বাচনী ব্যয়, সমান ভোটের নিষ্পত্তি এবং নির্বাচনী অনিয়ম মোকাবিলার কাঠামোতে বেশ কিছু পরিবর্তন আনা হয়েছে। এর মধ্যে চেয়ারম্যান পদে নির্ধারিত ২০টি প্রতীকই আসন্ন ইউপি নির্বাচনে প্রার্থীদের পরিচিতির প্রধান নির্বাচনী চিহ্ন হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

