ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর নেই ফোনে? ই-ওয়ালেট ও NPSB ব্যবহারে বাড়ছে চরম ভোগান্তি!
বর্তমান সময়ে ক্যাশলেস সোসাইটি বা ডিজিটাল লেনদেন যখন দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ, ঠিক তখনই প্রযুক্তিগত একটি সাধারণ অভাব অনেক ব্যবহারকারীর জন্য গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে যেসব স্মার্টফোনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর (Fingerprint Sensor) নেই, সেসব ফোনে আধুনিক ব্যাঙ্কিং অ্যাপ ও এনপিএসবি (NPSB) সেবা ব্যবহারে দেখা দিচ্ছে নানা বিপত্তি।
ডিজিটাল লেনদেনে নতুন বাধা
নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমানে বেশিরভাগ ই-ওয়ালেট এবং মোবাইল ব্যাঙ্কিং অ্যাপ ‘বায়োমেট্রিক অথেন্টিকেশন’ বা ফিঙ্গারপ্রিন্ট লগইন ফিচারের ওপর সর্বোচ্চ জোর দিচ্ছে। অনেক অ্যাপের সাম্প্রতিক আপডেটে এই সিকিউরিটি লেয়ারটি অনেকটা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। ফলে পুরনো মডেলের বা লো-বাজেটের স্মার্টফোন ব্যবহারকারীরা, যাদের ফোনে ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সর নেই, তারা অ্যাপে প্রবেশ বা লেনদেন সম্পন্ন করতে পারছেন না।
মূল সংকটের জায়গা: NPSB লেনদেন
ন্যাশনাল পেমেন্ট সুইচ বাংলাদেশ (NPSB) এর মাধ্যমে এক ব্যাংক থেকে অন্য ব্যাংকে তাৎক্ষণিক ফান্ড ট্রান্সফারের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত নিরাপত্তার স্তর হিসেবে অনেক ব্যাংক এখন বায়োমেট্রিক ভেরিফিকেশন খুঁজছে। সেন্সর না থাকায় অনেক ব্যবহারকারী ফান্ড ট্রান্সফারের চূড়ান্ত পর্যায়ে গিয়ে আটকে যাচ্ছেন। এতে জরুরি প্রয়োজনে টাকা পাঠাতে না পেরে বিপাকে পড়ছেন সাধারণ গ্রাহকরা।
দীর্ঘদিনের অভ্যাসে হঠাৎ ছেদ
অনেক ব্যবহারকারী অভিযোগ করছেন যে, গত কয়েক বছর তারা ফিঙ্গারপ্রিন্ট ছাড়াই পিন (PIN) বা ওটিপি (OTP) দিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যে সব ধরণের সার্ভিস পাচ্ছিলেন। কিন্তু অ্যাপগুলোর সাম্প্রতিক ‘সিকিউরিটি প্যাচ’ বা আপডেটের ফলে এই ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরের বাধ্যবাধকতা তাদের নিরবচ্ছিন্ন সেবায় ছেদ ঘটিয়েছে।
ভুক্তভোগীদের জন্য বিশেষজ্ঞ পরামর্শ
প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা এই পরিস্থিতিতে ব্যবহারকারীদের কিছু বিকল্প পথ অনুসরণের পরামর্শ দিচ্ছেন:
-
বিকল্প লগইন পদ্ধতি পরীক্ষা: যদি অ্যাপের সেটিংসে সুযোগ থাকে, তবে বায়োমেট্রিক অপশনটি ম্যানুয়ালি বন্ধ করে শুধুমাত্র পিন (PIN) বা পাসওয়ার্ড মোড সক্রিয় করার চেষ্টা করুন।
-
ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিংয়ের ওয়েব ভার্সন: অ্যাপে সমস্যা হলে সরাসরি ব্রাউজার ব্যবহার করে ব্যাংকের অফিশিয়াল ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং পোর্টালে লগইন করুন। ওয়েব ভার্সনে সাধারণত পিন ও ওটিপি দিয়েই NPSB লেনদেন করা যায়।
-
কাস্টমার কেয়ারের সহায়তা: সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হেল্পলাইনে যোগাযোগ করুন। অনেক ব্যাংক কম কনফিগারেশনের ফোনের জন্য ‘লাইট’ (Lite) অ্যাপ বা বিশেষ এক্সেস দিয়ে থাকে।
-
ডিভাইস আপগ্রেড: দীর্ঘমেয়াদী সমাধান হিসেবে সাইবার নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতের সব ডিজিটাল সুবিধা নিশ্চিত করতে একটি ফিঙ্গারপ্রিন্ট সেন্সরযুক্ত স্মার্টফোন বেছে নেওয়াই হবে বুদ্ধিমানের কাজ।
উপসংহার
প্রযুক্তির দ্রুত পরিবর্তনের সাথে নিরাপত্তার মানদণ্ড কঠোর হওয়া স্বাভাবিক। তবে সাধারণ গ্রাহকদের বড় একটি অংশ যেন ডিজিটাল সেবা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে ব্যাংক ও ফিনটেক প্রতিষ্ঠানগুলোর নজর দেওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

