ফ্যামিলি কার্ড ২০২৬ । প্রতিটি পরিবার কার্ডের মাধ্যমে মাসে ২ থেকে ২.৫ হাজার টাকা নগদ পাবে।
বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশের ৪ কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেওয়া হবে বলে ঘোষণা করেছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এই পরিকল্পনার প্রাথমিক ধাপে ২ কোটি পরিবারের নারী প্রধানদের হাতে এই কার্ড তুলে দেওয়া হবে, যার মাধ্যমে মাসিক নগদ অর্থ ও নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সহায়তা নিশ্চিত করা হবে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে সিলেটের একটি পাঁচ তারকা হোটেলের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত ‘দ্য প্ল্যান, ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। প্রায় দুই ঘণ্টাব্যাপী এই অনুষ্ঠানে সিলেটের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সাধারণ শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন এবং দেশের ভবিষ্যৎ রাজনীতি ও উন্নয়ন পরিকল্পনা নিয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে সরাসরি কথা বলেন।
ফ্যামিলি কার্ড: নারীর ক্ষমতায়ন ও অর্থনৈতিক মুক্তি
তারেক রহমান বলেন, “আমাদের পরিকল্পনা হলো ৪ কোটি পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় আনা। প্রাথমিকভাবে ২ কোটি পরিবারের প্রধান নারীকে এই কার্ড দেওয়া হবে। কারণ যার কাছে সম্পদ থাকে, সমাজে ও পরিবারে তার সম্মান থাকে।”
কার্ডের সুবিধা সম্পর্কে তিনি জানান:
-
মাসিক ভাতা: প্রতিটি পরিবার কার্ডের মাধ্যমে মাসে ২ থেকে ২.৫ হাজার টাকা নগদ পাবে।
-
খাদ্য সহায়তা: নগদের পাশাপাশি অত্যাবশ্যকীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হবে।
-
লক্ষ্য: এই অর্থ প্রধানত পরিবারের স্বাস্থ্য ও শিক্ষার পেছনে ব্যয় হবে। এছাড়া ক্ষুদ্র বিনিয়োগের মাধ্যমে স্থানীয় অর্থনীতিতে গতিশীলতা আসবে।
তারেক রহমান আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, “প্রথম এক-দুই বছর ফল বোঝা না গেলেও পাঁচ বছর পর বড় পরিবর্তন আসবে। গ্রামের সাধারণ মানুষের আত্মবিশ্বাস বাড়বে এবং একটি টেকসই অর্থনৈতিক সক্ষমতা তৈরি হবে।” কার্ডের আওতা সম্পর্কে তিনি স্পষ্ট করেন যে, কৃষক, ভ্যানচালক বা ইমাম—সবার স্ত্রীর জন্যই এই সুযোগ উন্মুক্ত থাকবে। এমনকি সরকারি কর্মকর্তাদের স্ত্রীদের জন্যও সুযোগ থাকবে, যদিও তারা হয়তো তা গ্রহণ করবেন না।
স্বাস্থ্যসেবায় ‘পল্লি চিকিৎসা’র পুনর্জাগরণ
চিকিৎসা ব্যবস্থা নিয়ে এক শিক্ষার্থীর প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে ‘পল্লি চিকিৎসা’ ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনা হবে। আধুনিক হেলথ কেয়ারের আদলে গ্রামীণ জনপদে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে বিশেষ প্রশিক্ষিত জনবল নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে দলের।
পরিবেশ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা
সিলেটের পরিবেশ নিয়ে কথা বলতে গিয়ে তারেক রহমান বলেন, “সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী কাকের সংখ্যা কমে যাওয়া নিয়ে প্রশ্ন করেছেন। আগে কাকের ডাকে ঘুম ভাঙত, এখন ভাঙছে যানবাহনের হর্নের শব্দে—এটি আমাদের নগরায়ণের একটি নেতিবাচক দিক।” তবে ঢাকার তুলনায় সিলেটের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পরিচ্ছন্নতার প্রশংসা করেন তিনি।
নির্বাচনী জনসভার ঘোষণা
মতবিনিময় সভা শেষে তারেক রহমান সিলেটের ঐতিহাসিক আলিয়া মাদ্রাসা মাঠে আয়োজিত নির্বাচনী জনসভার কথা উল্লেখ করে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করেন। আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, শিক্ষার্থীদের আরও কোনো প্রশ্ন থাকলে তা লিখিতভাবে জমা দেওয়া যাবে।
উল্লেখযোগ্য যে, এই কর্মসূচির মাধ্যমে তারেক রহমান তরুণ প্রজন্মের ভাবনা ও প্রত্যাশাকে সরাসরি গ্রহণ করে বিএনপির ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার রূপরেখা বা ‘দ্য প্ল্যান’ তুলে ধরছেন।

