ভোটকেন্দ্রের সিসি ক্যামেরা সুরক্ষায় কঠোর নির্দেশনা: প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নতুন বার্তা কি জানেন?
আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও জুলাই জাতীয় সনদ অনুমোদনের গণভোটকে কেন্দ্র করে সারা দেশের ভোটকেন্দ্রগুলোতে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায়, ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে স্থাপিত সিসিটিভি ক্যামেরা ও সংশ্লিষ্ট ইলেকট্রনিক যন্ত্রপাতি যথাযথভাবে সংরক্ষণ ও রক্ষণাবেক্ষণের জন্য জরুরি নির্দেশনা প্রদান করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর (DPE)।
মূল প্রেক্ষাপট
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ তারিখে অনুষ্ঠিতব্য জাতীয় নির্বাচনকে অবাধ, সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ করতে দেশের ৪২ হাজারেরও বেশি ভোটকেন্দ্রের একটি বড় অংশে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। বিশেষ করে ২১,৯৪৬টি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বা ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রে বিশেষ বরাদ্দের মাধ্যমে উন্নত মানের নজরদারি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে এই মূল্যবান রাষ্ট্রীয় সম্পদগুলো যাতে চুরি বা নষ্ট না হয়, সে উদ্দেশ্যেই এই নতুন নির্দেশনা।
নির্দেশনার মূল পয়েন্টসমূহ:
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোর প্রধান শিক্ষকদের উদ্দেশে পাঠানো চিঠিতে যে বিষয়গুলোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে:
যথাযথ তালিকা প্রণয়ন: প্রতিটি বিদ্যালয়ে কয়টি ক্যামেরা, মনিটর, ডিভিআর (DVR) এবং ক্যাবল স্থাপন করা হয়েছে তার একটি সঠিক তালিকা তৈরি করতে হবে।
নিরাপদ সংরক্ষণ: নির্বাচনের ভোটগ্রহণ ও গণনা শেষে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি সাপেক্ষে যন্ত্রপাতির নিয়ন্ত্রণ বুঝে নিয়ে তা বিদ্যালয়ের নিরাপদ কক্ষে (যেমন: আলমারি বা স্ট্রং রুম) তালাবদ্ধ অবস্থায় রাখতে হবে।
রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব: বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং সংশ্লিষ্ট ম্যানেজিং কমিটি (SMC) এই যন্ত্রপাতির নিরাপত্তার জন্য সরাসরি দায়বদ্ধ থাকবেন। কোনো কারণে যন্ত্রপাতির ক্ষয়ক্ষতি বা চুরি হলে তা অবিলম্বে স্থানীয় থানা ও শিক্ষা অফিসকে অবহিত করতে হবে।
স্লিপ ফান্ডের ব্যবহার: যন্ত্রপাতির সাধারণ রক্ষণাবেক্ষণ বা ছোটখাটো মেরামতের প্রয়োজন হলে বিদ্যালয়ের নিজস্ব ‘স্লিপ ফান্ড’ (Slip Fund) থেকে ব্যয় করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
কেন এই সতর্কতা?
নির্বাচন কমিশনের তথ্যমতে, এই প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় ৭১.৯৮ কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে। অতীতে দেখা গেছে, নির্বাচনের পর নজরদারি ঢিলেঢালা হওয়ার সুযোগে অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে মূল্যবান ইলেকট্রনিক সামগ্রী চুরি হয়ে যায়। এবার সেই ঝুঁকি এড়াতে এবং রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয় রোধে স্থানীয় প্রশাসন ও বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্বচ্ছতা নিশ্চিতের দাবি
এদিকে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (TIB) এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক দল সিসিটিভি স্থাপনের এই প্রক্রিয়া এবং এর পরবর্তী কার্যকারিতা নিয়ে সতর্ক নজর রাখার আহ্বান জানিয়েছে। তাদের মতে, শুধু ক্যামেরা স্থাপনই যথেষ্ট নয়, বরং সংগৃহীত ভিডিও ফুটেজ যাতে পরবর্তী কোনো আইনি প্রয়োজনে ব্যবহার করা যায়, সেজন্য ডিভিআর বা স্টোরেজ ডিভাইসগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি।
বিশেষ দ্রষ্টব্য: আপনার এলাকার বিদ্যালয়ে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপনে কোনো অবহেলা বা সংরক্ষণে ত্রুটি চোখে পড়লে দ্রুত সংশ্লিষ্ট উপজেলা শিক্ষা অফিস অথবা নির্বাচন নিয়ন্ত্রণ কক্ষে যোগাযোগ করুন।


