সঞ্চয়পত্রে স্বস্তি: মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল, ৩০ জুন পর্যন্ত আগের রেট বহাল
নতুন বছরের শুরুতেই সঞ্চয়পত্রের বিনিয়োগকারীদের জন্য সুখবর দিল সরকার। সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর পূর্ববর্তী সিদ্ধান্ত বাতিল করা হয়েছে। ফলে আগামী ৩০ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত বিনিয়োগকারীরা আগের নির্ধারিত (উচ্চ) হারেই মুনাফা পাবেন।
গত ৪ জানুয়ারি, ২০২৬ (রবিবার) অর্থ বিভাগ এক নির্দেশনায় সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্তটি বাতিল করার জন্য অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগকে (আইআরডি) অনুরোধ জানায়। এর ফলে গত ২৮ ডিসেম্বর জারিকৃত প্রজ্ঞাপনটি অকার্যকর হয়ে গেল এবং ২০২৫ সালের জুলাই-ডিসেম্বর মেয়াদে যে হার কার্যকর ছিল, সেটিই আগামী ছয় মাসের জন্য বহাল থাকল।
কেন এই সিদ্ধান্ত?
এর আগে গত ২৮ ডিসেম্বর এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ১ জানুয়ারি, ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার শর্তে সব ধরনের সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার গড়ে প্রায় ১% থেকে ১.৫% পর্যন্ত কমানো হয়েছিল। এতে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয়ের চাপে থাকা মধ্যবিত্ত ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। জনস্বার্থ ও বিনিয়োগকারীদের স্বস্তির কথা বিবেচনা করে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশে সরকার আগের রেট বহাল রাখার এই সিদ্ধান্ত নেয়।
বর্তমান মুনাফার হার যেমন থাকবে (বিনিয়োগ সীমা অনুযায়ী):
| সঞ্চয়পত্রের ধরন | ৭.৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে | ৭.৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে |
| পরিবার সঞ্চয়পত্র | ১১.৯৩% | ১১.৮০% |
| পেনশনার সঞ্চয়পত্র | ১১.৯৮% | ১১.৮০% |
| ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র | ১১.৮৩% | ১১.৮০% |
| ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র | ১১.৮২% | ১১.৭৭% |
বিশ্লেষণ
১ জানুয়ারি থেকে যে নতুন হার কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, তাতে পরিবার সঞ্চয়পত্রের মুনাফা কমিয়ে ১০.৫৪% করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। সরকারের বর্তমান সিদ্ধান্তের ফলে বিনিয়োগকারীরা প্রতি লাখে আগের মতোই বেশি মুনাফা পাবেন। বিশেষ করে যারা পেনশনার বা নিয়মিত মুনাফার ওপর নির্ভরশীল, তাদের জন্য এটি বড় ধরনের আর্থিক সুরক্ষা হিসেবে কাজ করবে।
উল্লেখ্য যে, সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার সাধারণত প্রতি ছয় মাস অন্তর পর্যালোচনা করা হয়। আগামী ৩০ জুন, ২০২৬ পর্যন্ত এই হার অপরিবর্তিত থাকবে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ।

এখন লাখে কত টাকা প্রতি মাসে মুনাফা পাওয়া যাবে?
সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল হওয়ায় বিনিয়োগকারীরা আগের হারেই মুনাফা পাবেন। নিচে বিনিয়োগের পরিমাণ ও ট্যাক্স (উৎস কর) বিবেচনায় ১ লাখ টাকায় মাসিক ও ত্রৈমাসিক নীট মুনাফার হিসাব দেওয়া হলো:
১. পরিবার সঞ্চয়পত্র (মাসিক মুনাফা)
এটি মূলত নারী, শারীরিক প্রতিবন্ধী এবং ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য। এতে প্রতি মাসেই মুনাফা পাওয়া যায়।
৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে: প্রতি লাখে প্রতি মাসে নীট ৯৪৪ টাকা পাবেন (৫% ট্যাক্স কাটার পর)।
৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে: প্রতি লাখে প্রতি মাসে নীট ৮৯৪ টাকা পাবেন (১০% ট্যাক্স কাটার পর)।
২. পেনশনার সঞ্চয়পত্র (মাসিক মুনাফা)
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য। এটিও মাসিক মুনাফা প্রদান করে।
৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে: প্রতি লাখে প্রতি মাসে নীট ৯৯৮ টাকা পাবেন (৫ লাখ পর্যন্ত কোনো ট্যাক্স নেই)।
৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে: প্রতি লাখে প্রতি মাসে নীট ৮৯৪ টাকা পাবেন (১০% ট্যাক্স কাটার পর)।
৩. ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র
এই সঞ্চয়পত্রে মুনাফা প্রতি ৩ মাস পর পর বিনিয়োগকারীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হয়।
৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে: প্রতি লাখে ৩ মাস পর পর নীট ২,৮০৭ টাকা পাবেন (৫% ট্যাক্স কাটার পর)।
৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে: প্রতি লাখে ৩ মাস পর পর নীট ২,৬৬১ টাকা পাবেন (১০% ট্যাক্স কাটার পর)।
৪. ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র
এতে প্রতি মাসে মুনাফা তোলা যায় না; মুনাফা পাওয়া যায় মেয়াদ শেষে। তবে ১ বছর পর থেকে মুনাফাসহ আসল তোলা যায়।
৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে: মেয়াদ শেষে প্রতি লাখে মুনাফা পাওয়া যাবে প্রায় ৫৬,১৯২ টাকা (৫% ট্যাক্স কাটার পর)।
৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগে: মেয়াদ শেষে প্রতি লাখে মুনাফা পাওয়া যাবে প্রায় ৫৩,২৪৫ টাকা (১০% ট্যাক্স কাটার পর)।
নোট: আপনার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ৫ লাখ টাকার নিচে হলে সরকার ৫% উৎস কর (TDS) কাটে, আর ৫ লাখের বেশি হলে ১০% কর কাটা হয়। যেহেতু কমানোর সিদ্ধান্ত বাতিল হয়েছে, তাই উপরের এই রেটগুলোই বর্তমানে কার্যকর।

