৫৬ দিনের ‘লেইস’ ট্রেনিং: প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য ব্যক্তিগত ল্যাপটপ সুবিধা - Technical Alamin
Latest News

৫৬ দিনের ‘লেইস’ ট্রেনিং: প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য ব্যক্তিগত ল্যাপটপ সুবিধা

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনে পরিচালিত ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ (LEISE) প্রকল্পের আওতায় ৫৬ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণে অংশগ্রহণকারী প্রশিক্ষণার্থীদের জন্য সুখবর। এখন থেকে প্রশিক্ষণ চলাকালীন ডিজিটাল দক্ষতা অর্জনে সহায়তার জন্য প্রশিক্ষণার্থীরা ব্যক্তিগতভাবে ব্যবহারের জন্য ল্যাপটপ সুবিধা পেতে যাচ্ছেন।

সম্প্রতি মাউশি কর্তৃক প্রকাশিত এক বরাদ্দপত্রের তথ্য অনুযায়ী, দেশের সরকারি টিচার্স ট্রেনিং কলেজ (TTC), উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট (HSTTI) এবং বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষক প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটের (BMTTI) জন্য বিপুল পরিমাণ ল্যাপটপ ও আইটি সরঞ্জাম ক্রয়ের প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

সরঞ্জামের বিবরণ ও বরাদ্দ

প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, Package GD-1A এবং GD-1B এর অধীনে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘ফ্লোরা টেলিকম লিমিটেড’ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে নিম্নলিখিত সরঞ্জামাদি সরবরাহ করছে:

  • ল্যাপটপ: ১৫৪টি (প্রতিটি প্রতিষ্ঠানের জন্য)

  • ডেস্কটপ কম্পিউটার: ০২টি

  • অন্যান্য সরঞ্জাম: স্মার্ট টিভি, লেজার প্রিন্টার, স্ক্যানার, রাউটার, সাউন্ড সিস্টেম এবং মাল্টিপ্লাগ।

ডিজিটাল শিক্ষার প্রসারে নতুন পদক্ষেপ

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, শিক্ষকদের আইসিটি সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং শ্রেণিকক্ষে প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতেই এই বিশাল কর্মযজ্ঞ হাতে নেওয়া হয়েছে। প্রশিক্ষণ চলাকালীন প্রতিটি প্রশিক্ষণার্থীর হাতে ব্যক্তিগতভাবে ল্যাপটপ ব্যবহারের সুযোগ থাকায় তাত্ত্বিক জ্ঞানের পাশাপাশি ব্যবহারিক শিক্ষায় তারা আরও দক্ষ হয়ে উঠবেন।

সরবরাহকৃত এই সরঞ্জামগুলো দ্রুত নির্দিষ্ট প্রশিক্ষণ কেন্দ্রগুলোতে ইনস্টলেশন করার জন্য প্রকল্প পরিচালক দপ্তর থেকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এর ফলে চলমান ৫৬ দিনের এই বিশেষ প্রশিক্ষণে ডিজিটাল বিপ্লবের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনে পরিচালিত ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ (LEISE) প্রকল্পের আওতায় ৫৬ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের লক্ষ্য কি?

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনে পরিচালিত ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ (LEISE) প্রকল্পের আওতায় ৫৬ দিনব্যাপী প্রশিক্ষণের লক্ষ্য কি?

মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) অধীনে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় পরিচালিত ‘লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন’ (LEISE) প্রকল্পের ৫৬ দিনব্যাপী এই প্রশিক্ষণের মূল লক্ষ্য হলো মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং আধুনিক ডিজিটাল শিক্ষা ব্যবস্থার সাথে তাদের মানিয়ে নেওয়া।

নিচে এই প্রশিক্ষণের প্রধান লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যগুলো বিস্তারিত দেওয়া হলো:

১. ডিজিটাল দক্ষতা ও আইসিটি একীভূতকরণ

প্রশিক্ষণের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো শিক্ষকদের তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তিতে (ICT) দক্ষ করে তোলা। যেহেতু প্রত্যেক প্রশিক্ষণার্থীকে ব্যক্তিগতভাবে ল্যাপটপ দেওয়া হচ্ছে, তাই এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে মাল্টিমিডিয়া ক্লাসরুম পরিচালনা, ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি এবং ব্লেন্ডেড লার্নিং (অনলাইন ও অফলাইন শিক্ষার সমন্বয়) পদ্ধতিতে পাঠদানে তাদের পারদর্শী করা হবে।

২. শিখন ঘাটতি পূরণ (Learning Recovery)

কোভিড-১৯ অতিমারির কারণে মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে শিখন ঘাটতি তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে শিক্ষকদের বিশেষ কৌশল শেখানো এই প্রশিক্ষণের উদ্দেশ্য। শিক্ষার্থীদের পাঠে দ্রুত অগ্রসর করতে ‘লার্নিং এক্সিলারেশন’ বা শিখন ত্বরান্বিতকরণ কৌশল প্রয়োগের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।

৩. নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়ন

জাতীয় শিক্ষাক্রম রূপরেখা অনুযায়ী আধুনিক ও কার্যকর শিখন-শেখানো কার্যক্রম পরিচালনার জন্য শিক্ষকদের প্রস্তুত করা। বিশেষ করে শ্রেণিকক্ষে হাতে-কলমে শিক্ষা প্রদান এবং শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের নতুন পদ্ধতিগুলো সম্পর্কে শিক্ষকদের স্পষ্ট ধারণা দেওয়া।

৪. বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা ও আধুনিক শিক্ষাদান পদ্ধতি

গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে শিক্ষার্থীদের দক্ষতা বৃদ্ধির জন্য শিক্ষকদের বিশেষ টিচিং মেথডোলজি বা শিক্ষাদান পদ্ধতি শেখানো হয়। এতে করে শিক্ষকরা আরও ফলপ্রসূ ও আনন্দদায়ক উপায়ে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করতে পারবেন।

৫. জেন্ডার ও জলবায়ু সচেতনতা

শিক্ষার্থীদের মধ্যে জেন্ডারভিত্তিক বৈষম্য নিরসন এবং জলবায়ু পরিবর্তন সম্পর্কিত সচেতনতা তৈরিতে শিক্ষকদের ভূমিকা নিশ্চিত করাও এই প্রকল্পের একটি অংশ।

৬. দীর্ঘমেয়াদী পেশাগত উন্নয়ন

এই ৫৬ দিনের নিবিড় আবাসিক প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষকদের একটি শক্তিশালী পেশাদার নেটওয়ার্ক তৈরি করা হয়, যা দীর্ঘমেয়াদে মাধ্যমিক শিক্ষার গুণগত মান ধরে রাখতে এবং শিক্ষার হার (Retention Rate) বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *