Latest News

দেশে হামের প্রকোপ : শিশুদের সুরক্ষায় বাড়তি সতর্কতার আহ্বান

দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বর্তমানে হামের প্রকোপ লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে শিশুদের মধ্যে এই সংক্রামক রোগের বিস্তার বাড়ায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO), ইউনিসেফ এবং গ্যাভি (Gavi) যৌথভাবে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়েছে।

হাম কী এবং কেন এটি ঝুঁকিপূর্ণ?

হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। এটি শিশুর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা সাময়িকভাবে নষ্ট করে দেয়। সময়মতো চিকিৎসা না করালে পরবর্তী সময়ে নিউমোনিয়া, মারাত্মক ডায়রিয়া, অপুষ্টি এবং মস্তিষ্কের প্রদাহের মতো জটিলতা দেখা দিতে পারে। এমনকি সঠিক পরিচর্যার অভাবে শিশুর মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।

যেভাবে চিনবেন হামের লক্ষণ

আপনার শিশুর শরীরে লালচে দানার পাশাপাশি যদি নিচের লক্ষণগুলো দেখা দেয়, তবে তা হাম হতে পারে:

  • উচ্চ জ্বর: যা সাধারণত ৩ থেকে ৫ দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে।

  • র‍্যাশ বা ফুসকুড়ি: প্রথমে মুখে দেখা দেয় এবং পরে সারা শরীরে ছড়িয়ে পড়ে।

  • অন্যান্য উপসর্গ: কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া, চোখ লাল হওয়া বা চোখ দিয়ে পানি পড়া এবং খাবারের প্রতি অনীহা বা শারীরিক দুর্বলতা।

রোগ বিস্তার ও আক্রান্ত হলে করণীয়

হাম মূলত আক্রান্ত রোগীর হাঁচি-কাশির মাধ্যমে বাতাসের সাহায্যে দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। যদি কোনো শিশু আক্রান্ত হয়, তবে আতঙ্কিত না হয়ে নিচের পদক্ষেপগুলো নিতে হবে: ১. আক্রান্ত শিশুকে অন্যদের থেকে আলাদা বা আইসোলেশনে রাখা। ২. দ্রুত নিকটস্থ স্বাস্থ্যকেন্দ্রে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া। ৩. চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুকে কোনো ওষুধ সেবন না করানো। ৪. শিশুকে ছোঁয়া বা পরিচর্যার আগে ও পরে সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধোয়া।

আক্রান্ত শিশুর বিশেষ যত্ন

আক্রান্ত শিশুর দ্রুত সুস্থতার জন্য সঠিক পুষ্টি ও পরিচর্যা অপরিহার্য।

  • শিশুকে স্বাভাবিক খাবার ও পানীয় পর্যাপ্ত পরিমাণে খাওয়াতে হবে।

  • শিশুমায়েরা তাদের আক্রান্ত সন্তানদের নিয়মিত বুকের দুধ খাওয়ানো অব্যাহত রাখবেন।

  • ভিটামিন-এ সমৃদ্ধ খাবার (যেমন: গাজর, মিষ্টি কুমড়া, পেঁপে, পালং শাক) এবং প্রচুর পানি পান করাতে হবে।

প্রতিরোধের একমাত্র উপায়: টিকা

বিশেষজ্ঞদের মতে, হাম প্রতিরোধের একমাত্র কার্যকর উপায় হলো সময়মতো হাম-রুবেলা (MR) টিকা দেওয়া।

  • প্রথম ডোজ: শিশুর বয়স ৯ মাস পূর্ণ হলে।

  • দ্বিতীয় ডোজ: শিশুর বয়স ১৫ মাস পূর্ণ হলে। যেসকল শিশু (২ বছরের কম বয়সী) এখনও এই টিকা নেয়নি, তাদের দ্রুত নিকটস্থ ইপিআই (EPI) টিকাদান কেন্দ্রে নিয়ে টিকা নিশ্চিত করতে হবে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা অনুরোধ করেছেন, হামের সংক্রমণ রোধে নিজ পরিবারের পাশাপাশি প্রতিবেশী ও পরিচিতদেরও সচেতন করুন। সঠিক সময়ে টিকা এবং সঠিক পরিচর্যাই পারে আপনার শিশুকে এই মারাত্মক রোগ থেকে সুরক্ষিত রাখতে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *