ঘরে বসেই জানুন পল্লী বিদ্যুৎ মিটার আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা: একটি পূর্ণাঙ্গ গাইড
নতুন বিদ্যুৎ সংযোগের জন্য আবেদন করার পর গ্রাহকদের সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তা থাকে—আবেদনটি বর্তমানে কোন পর্যায়ে আছে? আগে এই তথ্য জানতে বারবার বিদ্যুৎ অফিসে দৌড়াদৌড়ি করতে হতো। কিন্তু এখন আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়ায় গ্রাহকরা ঘরে বসেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে তাদের আবেদনের সর্বশেষ স্ট্যাটাস বা অগ্রগতি জেনে নিতে পারছেন।
নিচে মিটার আবেদনের অবস্থা চেক করার পদ্ধতি, ১০টি ধাপ এবং প্রয়োজনীয় তথ্যাদি বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
অনলাইনে আবেদনের স্ট্যাটাস চেক করবেন যেভাবে
পল্লী বিদ্যুতের (REB) অফিসিয়াল সার্ভার ব্যবহার করে খুব সহজেই আবেদনের অবস্থা ট্র্যাকিং করা যায়। এর জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
-
ওয়েবসাইটে প্রবেশ: প্রথমে আপনার ব্রাউজার থেকে rebpbs.com অথবা সরাসরি ট্র্যাকিং লিংকে প্রবেশ করুন।
-
মেনু নির্বাচন: ওয়েবসাইটের মেনু বার থেকে ‘আবেদন’ ট্যাবে গিয়ে ‘আবেদনের সর্বশেষ অবস্থা জানুন’ অপশনে ক্লিক করুন।
-
তথ্য প্রদান: আপনার আবেদনের সময় প্রাপ্ত ট্র্যাকিং নম্বর (Tracking Number) এবং পিন নম্বর (PIN Number) নির্দিষ্ট বক্সে টাইপ করুন।
-
ফলাফল: ‘Submit’ বাটনে ক্লিক করলে একটি ড্যাশবোর্ড আসবে। সেখানে আপনার আবেদনটি কোন পর্যায়ে আছে তা রঙিন ইন্ডিকেটরের মাধ্যমে দেখা যাবে।
মিটার সংযোগের ১০টি অফিশিয়াল ধাপ
একটি নতুন বিদ্যুৎ সংযোগ পেতে হলে আপনার ফাইলটিকে সাধারণত নিচের ১০টি ধাপ অতিক্রম করতে হয়:
-
ধাপ ১: অনলাইনে প্রাথমিক আবেদন জমা।
-
ধাপ ২: গ্রাহকের নিজ দায়িত্বে হাউজ ওয়্যারিং সম্পন্ন করা।
-
ধাপ ৩: মেম্বার সার্ভিস কর্তৃক আবেদনের প্রাথমিক অনুমোদন।
-
ধাপ ৪: ওয়্যারিং পরিদর্শনের জন্য পরিদর্শক নিয়োগ।
-
ধাপ ৫: সফলভাবে পরিদর্শন সম্পন্ন ও তদন্ত রিপোর্ট প্রদান।
-
ধাপ ৬: ডিমান্ড নোট (টাকা জমা দেওয়ার নির্দেশ) ইস্যু।
-
ধাপ ৭: নির্ধারিত ফি বা টাকা জমা প্রদান।
-
ধাপ ৮: ল্যাব টেস্ট শেষে মিটার বরাদ্দ।
-
ধাপ ৯: মিটার স্থাপনের জন্য লাইনম্যান নিয়োগ।
-
ধাপ ১০: চূড়ান্ত সংযোগ প্রদান।
আবেদন পরবর্তী করণীয় ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র
অনলাইনে আবেদন নিশ্চিত করার পর আপনার মোবাইলে একটি নিশ্চিতকরণ এসএমএস আসবে। এর পরবর্তী ৭ কার্যদিবসের মধ্যে নিচের নথিপত্রগুলো স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে (সরাসরি বা ডাকযোগে) জমা দিতে হবে:
-
আবেদনকারীর ২ কপি সত্যায়িত পাসপোর্ট সাইজের ছবি।
-
জমির মালিকানা দলিলের সত্যায়িত অনুলিপি।
-
বাড়ির অনুমোদিত নকশা এবং হোল্ডিং নম্বরের কপি।
-
লাইসেন্সধারী ইলেকট্রিশিয়ান কর্তৃক প্রদত্ত ইন্সটলেশন টেস্ট সার্টিফিকেট।
-
শিল্প সংযোগের ক্ষেত্রে ট্রেড লাইসেন্স ও সোলার প্যানেল সার্টিফিকেট (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)।
আবেদন বাতিল হলে কী করবেন?
যদি স্ট্যাটাসে আপনার আবেদনটি ‘Rejected’ বা বাতিল দেখেন, তবে ঘাবড়ানোর কিছু নেই। রেজাল্ট পেজের ‘মন্তব্য’ (Comments) বক্সটি চেক করুন। সেখানে বাতিলের কারণ (যেমন: খুঁটি থেকে দূরত্ব ১০০ ফুটের বেশি হওয়া বা দলিলে ত্রুটি) লেখা থাকে। সেই অনুযায়ী ত্রুটি সংশোধন করে পুনরায় আবেদন বা যোগাযোগ করা যাবে।
বিশেষ পরামর্শ: অনলাইনে তথ্য সাবমিট করার আগে ভালোভাবে যাচাই করে নিন, কারণ একবার কনফার্ম করলে তা আর সংশোধন করা যায় না। এছাড়া আবেদনের ট্র্যাকিং ও পিন নম্বরটি গুরুত্বের সাথে সংরক্ষণ করুন। যদি নম্বর ভুলে যান, তবে পোর্টালে থাকা ‘পিন ভুলে গেছেন’ অপশন থেকে এনআইডি ও ফোন নম্বর দিয়ে তা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব।
সাধারণত ডিমান্ড নোটের টাকা জমা দেওয়ার ১০ থেকে ১৫ কার্যদিবসের মধ্যে মিটার সংযোগ দেওয়া হয়। তবে এলাকাভেদে বা যান্ত্রিক কারণে সময় কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।

