অক্ষম, অবসরপ্রাপ্ত ও মৃত সরকারি কর্মচারীদের সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তির আবেদন প্রক্রিয়া ও বিস্তারিত নির্দেশিকা - Technical Alamin
সরকারি আদেশ ও তথ্য

অক্ষম, অবসরপ্রাপ্ত ও মৃত সরকারি কর্মচারীদের সন্তানদের শিক্ষাবৃত্তির আবেদন প্রক্রিয়া ও বিস্তারিত নির্দেশিকা

সরকারি এবং তালিকাভুক্ত স্বায়ত্তশাসিত সংস্থায় কর্মরত ছিলেন এমন অক্ষম, অবসরপ্রাপ্ত কিংবা মৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সন্তানদের শিক্ষা সহায়তা নিশ্চিত করতে প্রতিবছরের ন্যায় শিক্ষাবৃত্তি (কল্যাণ) কার্যক্রম পরিচালনা করছে বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড। নবম শ্রেণি থেকে শুরু করে উচ্চশিক্ষার সর্বোচ্চ পর্যায় পর্যন্ত অধ্যয়নরত অনধিক দুই সন্তানকে এই বৃত্তির আওতায় আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়।

আবেদনের যোগ্যতা ও জিপিএ-র শর্তাবলি

শিক্ষাবৃত্তি পাওয়ার জন্য শিক্ষার্থীকে পূর্ববর্তী বছরের ফাইনাল বা সেমিস্টার পরীক্ষায় প্রতিটি বিষয়ে উত্তীর্ণ হতে হবে। শ্রেণিভেদে ন্যূনতম জিপিএ/সিজিপিএ-র প্রয়োজনীয়তা নিম্নরূপ:

  • মাধ্যমিক (৯ম-১০ম): জিপিএ ৩.০০ অথবা গড়ে ৫০% নম্বর।

  • উচ্চ মাধ্যমিক (১১শ-১২শ): জিপিএ ৩.০০ অথবা গড়ে ৫০% নম্বর।

  • উচ্চশিক্ষা (স্নাতক ও স্নাতকোত্তর): ন্যূনতম সিজিপিএ ২.৫০।

  • এমবিবিএস/প্রকৌশল: ন্যূনতম সিজিপিএ ২.৫০।

আর্থিক সহায়তার হার

মঞ্জুরিকৃত বৃত্তির অর্থ প্রতি বছর একবার প্রদান করা হয় এবং তা সরাসরি আবেদনকারীর ব্যাংক হিসাবে EFT (Electronic Fund Transfer) এর মাধ্যমে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। বৃত্তির মাসিক হার নিচে দেওয়া হলো:

  • ৯ম ও ১০ম শ্রেণি: প্রতি মাসে ২০০/- টাকা।

  • একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণি: প্রতি মাসে ৩০০/- টাকা।

  • স্নাতক বা সমমান: প্রতি মাসে ৪০০/- টাকা।

  • স্নাতকোত্তর বা সমমান: প্রতি মাসে ৫০০/- টাকা।

আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় তথ্যাদি

প্রতি বছর জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে বোর্ডের ওয়েবসাইটে (www.bkkb.gov.bd) অনলাইনের মাধ্যমে আবেদন করতে হয়। ১ মার্চ থেকে ২০ জুনের মধ্যে বাছাই ও অনুমোদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্র: ১. বিগত বছরের পরীক্ষার মূল মার্কশিটের সত্যায়িত স্ক্যান কপি। ২. কর্মচারী অবসরপ্রাপ্ত হলে পিআরএল (PRL) আদেশ এবং মৃত হলে মৃত্যু সনদের সত্যায়িত স্ক্যান কপি। ৩. আবেদনকারীর রঙিন ছবি। ৪. প্রতিষ্ঠানের প্রধান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের স্বাক্ষর ও সীল সংবলিত অনলাইন ফরমের স্ক্যান কপি।

গুরুত্বপূর্ণ শর্তাবলি

  • কর্মচারীর বয়স ৬৯ বছর হওয়া পর্যন্ত এই সহায়তা প্রদান করা হবে।

  • স্বামী-স্ত্রী উভয়েই সরকারি চাকরিতে থাকলে কেবল একজন আবেদন করতে পারবেন।

  • শিক্ষাবৃত্তির আবেদনের জন্য কোনো প্রকার ফি প্রয়োজন হয় না।

  • আবেদন মঞ্জুর হলে শিক্ষার্থীর মোবাইলে ক্ষুদেবার্তার (SMS) মাধ্যমে জানিয়ে দেওয়া হয়।

সীমাবদ্ধতা ও প্রতিকার

বর্তমানে চাহিদার তুলনায় বাজেট অপ্রতুলতা এবং স্বায়ত্তশাসিত সংস্থাগুলোর জন্য আলাদা এমপ্লয়ি ডাটাবেজ না থাকায় যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ায় কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে। তবে সেবা প্রাপ্তিতে কোনো সমস্যা হলে বা নির্দিষ্ট সেবা পেতে ব্যর্থ হলে প্রধান কার্যালয়ের পরিচালক (প্রশাসন) বা মহাপরিচালক বরাবর প্রতিকারের আবেদন করা যাবে।

বিস্তারিত তথ্যের জন্য আগ্রহীগণকে বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ডের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট নিয়মিত ভিজিট করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

সোর্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *