আজকের মুদ্রা বাজার ২০২৬ । বাংলাদেশি টাকায় বিভিন্ন দেশের আজকের টাকার রেট কত জানেন?
মুদ্রা বাজার হলো বিশ্বব্যাপী স্বল্পকালীন ঋণ আদান প্রদানের একটি ক্ষেত্র। বিশ্বব্যাপী আর্থিক ক্ষেত্রের প্রয়োজনে এখান থেকেই নগদ টাকার যোগান বজায় রাখা হয়। মুদ্রা বাজার হলো এমন একটি স্থান যেখানে স্বল্পমেয়াদী দায় যেমন, সম্পত্তি পত্র, ব্যবসায়ীক দলিল এবং ব্যাঙ্কের স্বীকৃতি প্রভৃতি কেনা-বেচা হয়ে থাকে-আজকের মুদ্রা বাজার ২০২৬
আজকের (২৯ মে, ২০২৬) সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী বাংলাদেশি টাকায় বিভিন্ন দেশের মুদ্রার বিনিময় হার (টাকার রেট) নিচে দেওয়া হলো। ইন্টারব্যাংক এবং অফিশিয়াল রেটের ওপর ভিত্তি করে এই তালিকাটি তৈরি করা হয়েছে:
প্রধান বৈশ্বিক ও প্রবাসী মুদ্রাগুলোর আজকের রেট
| দেশের নাম | মুদ্রার নাম | আজকের রেট (BDT) |
| ইউএস ডলার | ১ USD | ১২২.৭৬ টাকা |
| সৌদি রিয়াল | ১ SAR | ৩২.৭০ টাকা |
| ইউনাইটেড আরব আমিরাত দিরহাম | ১ AED | ৩৩.৪২ টাকা |
| মালয়েশিয়ান রিঙ্গিত | ১ MYR | ৩০.৯৬ টাকা |
| ইউরো | ১ EUR | ১৪২.৯২ টাকা |
| ব্রিটিশ পাউন্ড | ১ GBP | ১৬৪.৭০ টাকা |
| সিঙ্গাপুর ডলার | ১ SGD | ৯৬.১৪ টাকা |
| কুয়েতি দিনার | ১ KWD | ৩৯৬.৮২ টাকা |
| ভারতীয় রুপি | ১ INR | ১.২৯ টাকা |
জরুরি নোট: এটি মূলত ইন্টারব্যাংক বা মধ্যবর্তী মুদ্রা বাজারের অফিশিয়াল এক্সচেঞ্জ রেট। আপনি যখন ব্যাংক, মানি এক্সচেঞ্জ বা রেমিট্যান্স হাউজের মাধ্যমে টাকা পাঠাবেন বা ক্যাশ করবেন, তখন প্রতিষ্ঠানভেদে এবং সরকারি আড়াই শতাংশ (২.৫%) ক্যাশ ব্যাক প্রণোদনাসহ এই রেট কিছুটা কম-বেশি হতে পারে। লেনদেনের আগে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক বা রেমিট্যান্স এজেন্সির থেকে চূড়ান্ত রেটটি চেক করে নেওয়া ভালো।
সূত্র দেখুন: বাংলাদেশ ব্যাংক
ডলারের উপর কি বিশ্বের অন্যান্য মুদ্রার মান নির্ভরশীল?
হ্যাঁ, মার্কিন ডলারের মান বিশ্বের অন্যান্য মুদ্রার উপর ব্যাপকভাবে নির্ভরশীল। তবে এটি আসলে একটি দ্বিমুখী সম্পর্ক। ডলারের মূল্য বৃদ্ধি বা হ্রাস অন্যান্য দেশের অর্থনীতি এবং তাদের মুদ্রার মানের উপর সরাসরি ও গভীর প্রভাব ফেলে। একইভাবে, আন্তর্জাতিক বাজার এবং অন্যান্য বড় অর্থনীতির মুদ্রার অবস্থা, যেমন ইউরো, ইয়েন বা চীনা ইউয়ানের পরিবর্তনও ডলারের মানকে প্রভাবিত করে।
এখানে কিছু মূল কারণ তুলে ধরা হলো:
১. আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও রিজার্ভ মুদ্রা: মার্কিন ডলার বিশ্বের প্রধান রিজার্ভ মুদ্রা হিসেবে স্বীকৃত। বিশ্বের প্রায় ৯০% আন্তর্জাতিক লেনদেন ডলারে হয়ে থাকে। অধিকাংশ দেশই নিজেদের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের একটি বড় অংশ ডলারে রাখে। এর ফলে ডলারের চাহিদা সবসময় বেশি থাকে। যখন কোনো দেশ আমদানি করে, তখন তাকে সাধারণত ডলারে বিল পরিশোধ করতে হয়। ডলারের মান বাড়লে সেই দেশের আমদানি ব্যয় বেড়ে যায় এবং মুদ্রার অবমূল্যায়ন ঘটে।
২. আন্তর্জাতিক ঋণের মাধ্যম: বিশ্বের প্রায় ৪০% আন্তর্জাতিক ঋণ ডলারে অনুমোদিত হয়। ফলে, যখন ডলার শক্তিশালী হয়, তখন যেসব দেশের ডলারে ঋণ রয়েছে, তাদের ঋণ পরিশোধের খরচ অনেক বেড়ে যায়।
৩. তেলের মূল্য নির্ধারণ: আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেল এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পণ্যের মূল্য ডলারে নির্ধারিত হয়। যখন ডলারের মান বৃদ্ধি পায়, তখন অন্যান্য দেশের জন্য তেল আমদানির খরচ বেড়ে যায়, যা তাদের অর্থনীতিতে মূল্যস্ফীতি সৃষ্টি করে।
৪. মার্কিন ফেডারেল রিজার্ভের নীতি: মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক, ফেডারেল রিজার্ভ (Fed), যখন সুদের হার বাড়ায়, তখন ডলারের চাহিদা বেড়ে যায় এবং এর মান শক্তিশালী হয়। কারণ, বিনিয়োগকারীরা মার্কিন ডলারে বিনিয়োগ করে উচ্চ সুদ পেতে চায়। এর ফলে অন্যান্য দেশের মুদ্রা দুর্বল হয়ে পড়ে।
ইউরোর প্রভাব:
ইউরোর প্রচলনের পর থেকে ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্য কিছুটা কমেছে। ইউরোও একটি গুরুত্বপূর্ণ রিজার্ভ মুদ্রা এবং আন্তর্জাতিক লেনদেনের একটি প্রধান মাধ্যম। যদি ইউরোজোনের অর্থনীতি শক্তিশালী হয় এবং ইউরোর চাহিদা বাড়ে, তাহলে ডলারের উপর কিছুটা চাপ পড়ে।
সার্বিকভাবে বলা যায়: ডলারের মান কেবল যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক অবস্থার উপর নির্ভর করে না, বরং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতি, এবং অন্যান্য প্রধান মুদ্রার তুলনামূলক শক্তির উপরও নির্ভরশীল। তবে এর উল্টোটাও সত্য – ডলারের অবস্থান এতই শক্তিশালী যে, এর প্রতিটি ওঠানামা বিশ্বের প্রায় সব দেশের অর্থনীতিতে প্রভাব ফেলে।
বাংলাদেশের খোলা বাজারে ডলার রেট কত?
খোলা বাজার (কার্ব মার্কেট) সহ বেশিরভাগ ব্যাংক ও মানি এক্সচেঞ্জ প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকে। ফলে দিনের নির্দিষ্ট কোনো নতুন হার প্রকাশিত হয়নি। তবে, সাম্প্রতিক কার্যদিবসগুলোর (সাধারণত বৃহস্পতিবার বা শুক্রবার) তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশের খোলা বাজারে (কার্ব মার্কেটে) ডলারের রেট সম্পর্কে একটি আনুমানিক ধারণা দেওয়া যেতে পারে।
সাধারণত খোলা বাজারে ডলারের চাহিদা ও সরবরাহের ওপর ভিত্তি করে এর রেট দ্রুত ওঠানামা করে এবং তা ব্যাংক বা বাংলাদেশ ব্যাংকের ঘোষিত রেট থেকে বেশি থাকে।
খোলা বাজারে ডলারের আনুমানিক রেট (ক্রয় ও বিক্রয়):
- আনুমানিক রেট: এই রেটগুলো কেবল একটি আনুমানিক ধারণা এবং স্থানীয় মানি এক্সচেঞ্জ ভেদে কিছুটা কম বা বেশি হতে পারে।
- সর্বশেষ রেট: সবচেয়ে সঠিক হারের জন্য, বাজার চালু হওয়ার পর (সাধারণত রবিবার বা সোমবার) আপনাকে স্থানীয় খোলা বাজারের মানি এক্সচেঞ্জ বা পরিচিত সূত্র থেকে সরাসরি তথ্য নিতে হবে।
-
ব্যাংক রেট: এটি বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর কর্তৃক ঘোষিত হারের চেয়ে সাধারণত বেশি থাকে। ব্যাংকগুলোতে ডলারের বিক্রয় হার সাধারণত ১২২.০০ থেকে ১২৩.০০ টাকা এর কাছাকাছি থাকে।

