bd Service Rules

নতুন করদাতার ন্যূনতম কর ১,০০০ টাকা, পুরাতন করদাতার ৫,০০০ টাকা—কখন প্রযোজ্য হবে?

২০২৬-২৭ করবর্ষ থেকে ব্যক্তিশ্রেণির করদাতাদের ন্যূনতম কর নিয়ে নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে। নতুন করদাতার ক্ষেত্রে ন্যূনতম কর ১,০০০ টাকা, আর পুরাতন করদাতার ক্ষেত্রে ন্যূনতম কর ৫,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে, করমুক্ত আয়সীমা অতিক্রম করলেই নতুন করদাতাকে সবসময় ১,০০০ টাকা এবং পুরাতন করদাতাকে সবসময় ৫,০০০ টাকা কর দিতে হবে। বিষয়টি বুঝতে হলে করমুক্ত আয়সীমা, নিয়মিত করহার এবং ন্যূনতম কর—এই তিনটি বিষয় একসঙ্গে বিবেচনা করতে হবে।

করমুক্ত আয়সীমা কত?

২০২৬-২৭ করবর্ষে সাধারণ ব্যক্তিশ্রেণির করদাতার করমুক্ত মোট আয়ের সীমা ৪ লাখ টাকা। অর্থাৎ কোনো সাধারণ করদাতার মোট আয় ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে ওই আয়ের ওপর আয়কর দিতে হবে না।

কিন্তু মোট আয় ৪ লাখ টাকা অতিক্রম করলেই করের হিসাব শুরু হবে। তখন সাধারণ করহার অনুযায়ী হিসাব করা করের পরিমাণ এবং প্রযোজ্য ন্যূনতম কর—দুটির মধ্যে যেটি বেশি, সেটিই মূলত প্রদেয় কর হিসেবে বিবেচিত হবে।

নতুন করদাতার ১,০০০ টাকা ন্যূনতম কর কখন?

নতুন করদাতার মোট আয় যদি করমুক্ত সীমা অর্থাৎ ৪ লাখ টাকা অতিক্রম করে, তাহলে হিসাব করা করের পরিমাণ ১,০০০ টাকার কম হলেও ন্যূনতম ১,০০০ টাকা কর প্রযোজ্য হবে।

অর্থাৎ—

  • মোট আয় ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত → কোনো আয়কর নেই
  • মোট আয় ৪ লাখ টাকা অতিক্রম করেছে → কর হিসাব করতে হবে
  • হিসাব অনুযায়ী কর ১,০০০ টাকার কম → ন্যূনতম ১,০০০ টাকা
  • হিসাব অনুযায়ী কর ১,০০০ টাকার বেশি → হিসাব অনুযায়ী বেশি করই দিতে হবে

এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ১,০০০ টাকা কোনো নির্দিষ্ট আয়ের ওপর সরাসরি আরোপিত কর নয়; এটি ন্যূনতম করের সীমা।

পুরাতন করদাতার ক্ষেত্রে ৫,০০০ টাকা

পুরাতন করদাতার ক্ষেত্রেও একই নীতি প্রযোজ্য। মোট আয় ৪ লাখ টাকা পর্যন্ত হলে সাধারণ নিয়মে কোনো আয়কর নেই। কিন্তু মোট আয় করমুক্ত সীমা অতিক্রম করলে এবং সাধারণ করহার অনুযায়ী হিসাব করা কর ৫,০০০ টাকার কম হলে ন্যূনতম ৫,০০০ টাকা কর দিতে হবে।

অন্যদিকে সাধারণ করহার অনুযায়ী হিসাব করা কর যদি ৫,০০০ টাকার বেশি হয়, তাহলে ৫,০০০ টাকা নয়—হিসাব অনুযায়ী বেশি পরিমাণ করই পরিশোধ করতে হবে।

সহজ উদাহরণে বিষয়টি বোঝা যাক

ধরা যাক, একজন নতুন করদাতার মোট আয় ৪ লাখ ১ টাকা। করমুক্ত সীমা অতিক্রম করায় তার করের হিসাব করতে হবে। সাধারণ করহার অনুযায়ী হিসাব করা কর যদি ১,০০০ টাকার চেয়ে কম হয়, তাহলে তাকে ন্যূনতম ১,০০০ টাকা দিতে হবে।

আবার নতুন করদাতার মোট আয় বেশি হওয়ায় সাধারণ করহার অনুযায়ী যদি হিসাব করা কর ৫,০০০ টাকা হয়, তাহলে তিনি শুধু ১,০০০ টাকা দিয়ে দায় শেষ করতে পারবেন না। তাকে হিসাব অনুযায়ী ৫,০০০ টাকা দিতে হবে।

একইভাবে কোনো পুরাতন করদাতার হিসাব করা কর যদি ৩,০০০ টাকা হয়, তাহলে ন্যূনতম করের বিধানের কারণে তাকে ৫,০০০ টাকা দিতে হবে। কিন্তু হিসাব করা কর যদি ৯,০০০ টাকা হয়, তাহলে তাকে ৯,০০০ টাকাই দিতে হবে।

তাহলে ১,০০০ ও ৫,০০০ টাকার নিয়মটি আসলে কী?

বিষয়টি একটি সহজ সূত্রে বলা যায়—

করমুক্ত সীমার মধ্যে আয় → কর নেই

করমুক্ত সীমা অতিক্রম → সাধারণ করহারে কর হিসাব

হিসাব করা কর ন্যূনতম করের চেয়ে কম → ন্যূনতম কর দিতে হবে

হিসাব করা কর ন্যূনতম করের চেয়ে বেশি → হিসাব অনুযায়ী বেশি কর দিতে হবে।

জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের Finance Bill-এও বলা হয়েছে, মোট আয় করমুক্ত আয়ের সীমা অতিক্রম করলে ন্যূনতম করের পরিমাণ ৫,০০০ টাকা হবে; তবে নতুন করদাতার ক্ষেত্রে ন্যূনতম কর ১,০০০ টাকা

কারা এই সুবিধার আওতায়?

এখানে নতুন করদাতা এবং পুরাতন করদাতা—এই পার্থক্যটি গুরুত্বপূর্ণ। শুধু প্রথমবার কোনো নির্দিষ্ট আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়াই যথেষ্ট কি না, কিংবা আইনের দৃষ্টিতে কাকে ‘নতুন করদাতা’ হিসেবে গণ্য করা হবে—তা সংশ্লিষ্ট করবর্ষের আইন ও প্রযোজ্য বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত হবে। তাই শুধু নিজের ধারণার ভিত্তিতে ১,০০০ টাকার ন্যূনতম কর প্রযোজ্য ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

একই সঙ্গে মনে রাখতে হবে, ন্যূনতম করের এই হিসাব বিনিয়োগজনিত কর রেয়াত, উৎসে পরিশোধিত কর বা অন্যান্য কর সমন্বয়ের হিসাবের বিকল্প নয়। ন্যূনতম করের বিষয়টি মূলত করদাতার হিসাবকৃত করের একটি ন্যূনতম সীমা নির্ধারণ করে।

বিশেষ শ্রেণির করদাতাদের ক্ষেত্রে

সাধারণ করদাতার জন্য করমুক্ত আয়সীমা ৪ লাখ টাকা হলেও নারী করদাতা, ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী করদাতা, প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, তৃতীয় লিঙ্গের করদাতা এবং গেজেটভুক্ত যুদ্ধাহত মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পৃথক করমুক্ত আয়সীমা রয়েছে। ফলে তাদের ক্ষেত্রে ন্যূনতম কর প্রযোজ্য হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য প্রযোজ্য করমুক্ত আয়সীমা বিবেচনা করতে হবে।

শেষ কথা

নতুন করদাতার জন্য ১,০০০ টাকা এবং পুরাতন করদাতার জন্য ৫,০০০ টাকা—এই দুটি অঙ্ককে অনেকেই নির্ধারিত ‘ফ্ল্যাট কর’ হিসেবে দেখছেন। আসলে এটি সঠিক ব্যাখ্যা নয়।

৪ লাখ টাকা পর্যন্ত সাধারণ করদাতার আয় হলে কর নেই। ৪ লাখ টাকা অতিক্রম করার পর নিয়মিত কর হিসাব হবে। সেই হিসাবের কর ন্যূনতম সীমার নিচে হলে নতুন করদাতার ক্ষেত্রে ১,০০০ টাকা এবং পুরাতন করদাতার ক্ষেত্রে ৫,০০০ টাকা ন্যূনতম কর হিসেবে প্রযোজ্য হবে। আর নিয়মিত হিসাবের কর এর চেয়ে বেশি হলে সেই বেশি করই দিতে হবে।

অর্থাৎ, নতুন করদাতা মানেই শুধু ১,০০০ টাকা কর নয় এবং পুরাতন করদাতা মানেই শুধু ৫,০০০ টাকা কর নয়—এটাই নতুন নিয়মের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *