শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কঠোর নীতিমালা জারি: অমান্য করলে এমপিও বাতিল ও বরখাস্তের বিধান - Technical Alamin
Latest News

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধে কঠোর নীতিমালা জারি: অমান্য করলে এমপিও বাতিল ও বরখাস্তের বিধান

শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পাঠদান বাদ দিয়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কোচিং পরিচালনা বন্ধে ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কোচিং বাণিজ্য বন্ধ নীতিমালা-২০১২’ পূর্ণাঙ্গ আকারে প্রকাশ করা হয়েছে সরকারের এই নীতিমালায় কোচিং বাণিজ্যে জড়িত শিক্ষকদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার বিধান রাখা হয়েছে, যার মধ্যে এমপিও বাতিল থেকে শুরু করে চূড়ান্ত বরখাস্তের বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে

নীতিমালার প্রেক্ষাপট ও লক্ষ্য দীর্ঘদিন ধরে এক শ্রেণির শিক্ষক বাণিজ্যিক ভিত্তিতে কোচিং পরিচালনা করে আসছিলেন, যার ফলে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ জিম্মি হয়ে পড়ছিলেন এতে পরিবারের ওপর আর্থিক চাপ বাড়ছিল এবং শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছিল মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশন নং-৭৩৬৬/২০১১-এর আদেশের প্রেক্ষিতে সরকার এই নীতিমালা কার্যকর করার উদ্যোগ নেয়

অতিরিক্ত ক্লাসের নিয়ম ও ফি নির্ধারণ শ্রেণি সময়ের বাইরে আগ্রহী শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে অতিরিক্ত ক্লাসের সুযোগ রাখা হয়েছে, তবে তা কঠোর নিয়মের অধীন:

  • ফি নির্ধারণ: মেট্রোপলিটন শহরে মাসিক সর্বোচ্চ ৩০০ টাকা, জেলা শহরে ২০০ টাকা এবং উপজেলা পর্যায়ে ১৫০ টাকা ফি গ্রহণ করা যাবে

  • ক্লাসের সংখ্যা: প্রতি বিষয়ে মাসে সর্বনিম্ন ১২টি ক্লাস নিতে হবে

  • শিক্ষার্থী সংখ্যা: প্রতিটি ক্লাসে সর্বোচ্চ ৪০ জন শিক্ষার্থী অংশ নিতে পারবে

  • তহবিল বণ্টন: সংগৃহীত ফির ১০% প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ, গ্যাস ও কর্মচারীদের ব্যয় বাবদ রেখে বাকি ৯০% শিক্ষক ও সংশ্লিষ্টদের মধ্যে বণ্টন করা হবে

নিষেধাজ্ঞা ও সীমাবদ্ধতা * কোনো শিক্ষক নিজ প্রতিষ্ঠানের কোনো শিক্ষার্থীকে প্রাইভেট পড়াতে পারবেন না

  • তবে প্রতিষ্ঠান প্রধানের অনুমতি সাপেক্ষে অন্য প্রতিষ্ঠানের অনধিক ১০ জন শিক্ষার্থীকে নিজ গৃহে পড়ানো যাবে

  • বাণিজ্যিক কোচিং সেন্টারের মালিকানা গ্রহণ বা সেখানে প্রত্যক্ষ/পরোক্ষভাবে যুক্ত হওয়া সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ

  • বিজ্ঞাপন, পোস্টার বা প্রচারণার মাধ্যমে শিক্ষার্থী ভর্তি করাকে ‘কোচিং বাণিজ্য’ হিসেবে গণ্য করা হবে

শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নীতিমালা লঙ্ঘনকারী শিক্ষকদের বিরুদ্ধে অপরাধের মাত্রা অনুযায়ী নিম্নোক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হবে:

  1. এমপিওভুক্ত শিক্ষক: বেতন-ভাতা স্থগিত বা বাতিল, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট স্থগিত, পদাবনতি অথবা সাময়িক/চূড়ান্ত বরখাস্ত

  2. সরকারি শিক্ষক: সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপীল) বিধিমালা অনুযায়ী ‘অসদাচরণ’ হিসেবে গণ্য করে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা

  3. প্রতিষ্ঠান পরিচালনা পর্ষদ: কোচিং বাণিজ্য বন্ধে ব্যবস্থা না নিলে পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দেওয়া এবং প্রতিষ্ঠানের পাঠদানের অনুমতি বাতিল করা হবে

মনিটরিং ও বাস্তবায়ন নীতিমালা বাস্তবায়নে বিভাগীয় পর্যায়ে অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার, জেলা পর্যায়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক এবং উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (UNO) নেতৃত্বে মনিটরিং কমিটি গঠন করা হয়েছে এই কমিটিসমূহ নিয়মিত তদারকি করবে এবং প্রতি তিন মাসে অন্তত একবার সভা আহ্বান করবে

জনস্বার্থে জারীকৃত এই নীতিমালা অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে গেজেটে উল্লেখ করা হয়েছে

সোর্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *