জমির খাজনা ও ভূমি উন্নয়ন কর হার: ২০২৬-২০২৭
বংলাদেশের ভূমি ব্যবস্থাপনা আধুনিকায়ন এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে ২০২৪-২০২৫ অর্থবছরের জন্য জমির খাজনা বা ভূমি উন্নয়ন করের হালনাগাদ হার নির্ধারণ করা হয়েছে 。 জমির ধরন এবং অবস্থানের ওপর ভিত্তি করে এই করের পরিমাণ ভিন্ন হয় 。 নিচে কৃষি, আবাসিক এবং বাণিজ্যিক জমির খাজনার হার বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
জমির খাজনা ও ভূমি উন্নয়ন কর হার: ২০২৬-২০২৭
ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, জমির ব্যবহার এবং ভৌগোলিক গুরুত্ব বিবেচনায় খাজনা আদায়ের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট ধাপ অনুসরণ করা হয় 。
১. কৃষি জমির খাজনা হার
কৃষি জমির ক্ষেত্রে প্রান্তিক কৃষকদের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদান করা হয়েছে ।
-
২৫ বিঘা পর্যন্ত: কোনো ব্যক্তিকে তার মালিকানাধীন ২৫ বিঘা (৮.২৫ একর) পর্যন্ত কৃষি জমির জন্য কোনো খাজনা দিতে হবে না 。 তবে এক্ষেত্রে বার্ষিক ১০ টাকা ফি দিয়ে ‘মওকুফ দাখিলা’ সংগ্রহ করা বাধ্যতামূলক 。
-
২৫ বিঘার উর্ধ্বে: যদি মোট কৃষি জমির পরিমাণ ২৫ বিঘার বেশি হয়, তবে প্রতি শতাংশ জমির জন্য বার্ষিক ২ (দুই) টাকা হারে খাজনা প্রদান করতে হবে 。
-
প্রযোজ্যতা: কৃষি জমি গ্রামীণ বা পৌর যে এলাকাতেই হোক না কেন, এই একই হার কার্যকর হবে 。
২. অকৃষি জমির (আবাসিক ও বাণিজ্যিক) খাজনা হার
অকৃষি জমিকে সাধারণত তিনটি শ্রেণিতে (বাণিজ্যিক, শিল্প এবং আবাসিক ও অন্যান্য) ভাগ করে খাজনা নির্ধারণ করা হয় । এলাকাভেদে এই হার নিম্নরূপ:
| জমির অবস্থান | আবাসিক জমি (প্রতি শতাংশ) | বাণিজ্যিক জমি (প্রতি শতাংশ) | শিল্প জমি (প্রতি শতাংশ) |
| ইউনিয়ন পর্যায় (পৌরসভার বাইরে) |
১০ টাকা |
৪০ টাকা |
৩০ টাকা |
| উপজেলা পর্যায় (পৌরসভা এলাকা) |
১৫ টাকা |
৬০ টাকা |
৪০ টাকা |
| জেলা পর্যায় |
২০ টাকা |
১০০ টাকা |
৭৫ টাকা |
৩. নামজারি বা মিউটেশন ফি
জমি কেনা-বেচা বা উত্তরাধিকার সূত্রে মালিকানা পরিবর্তনের পর নামজারি করা অত্যাবশ্যক 。 অনলাইনে আবেদনের মাধ্যমে ২৮ দিনের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা সম্ভব 。 নামজারির জন্য সরকার নির্ধারিত ফিগুলো হলো:
-
আবেদন ফি (কোর্ট ফি): ২০ টাকা 。
-
নোটিশ জারি ফি: ৫০ টাকা 。
-
রেকর্ড সংশোধন ফি: ১,০০০ টাকা 。
-
খতিয়ান সরবরাহ ফি: ১০০ টাকা 。
-
মোট খরচ: ১,১৭০ টাকা 。
গুরুত্বপূর্ণ নোট: বর্তমানে ভূমি উন্নয়ন কর বা খাজনা প্রদানের প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ ডিজিটাল করা হয়েছে। নাগরিকরা www.land.gov.bd ওয়েবসাইটে গিয়ে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে অনলাইনে তাদের খাজনা পরিশোধ করতে পারবেন 。 শুনানির সময় মূল কাগজপত্র সাথে রাখা এবং নিয়মিত খাজনার রশিদ বা দাখিলা সংগ্রহ করা মালিকানা সুরক্ষায় অপরিহার্য 。

