৫০% নয়, শতভাগ বেসিক চাই: ১৩তম গ্রেডের বেতন বৈষম্যের হিসেবে কর্মচারীদের তীব্র ক্ষোভ
সরকারি চাকুরিজীবীদের বেতন কাঠামো, বিশেষ করে ১৩তম গ্রেডের বেতন বৃদ্ধি এবং সম্ভাব্য নতুন পে-স্কেল নির্ধারণ নিয়ে সাধারণ কর্মচারীদের মাঝে চরম অসন্তোষ ও ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি সংগৃহীত তথ্যাদি এবং বেতন কাঠামোর চুলচেরা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, নতুন পে-স্কেল যথাযথভাবে বাস্তবায়ন না হলে আগামী জুলাই ২০২৬ শেষে কর্মচারীরা তীব্র আর্থিক বৈষম্যের শিকার হবেন। অন্যদিকে, সম্ভাব্য বেতন কাঠামোতে বর্ধিত বেসিকের মাত্র ৫০ শতাংশ কার্যকরের যে গুঞ্জন বা ফর্মুলা সাজানো হচ্ছে, তা পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করে “শতভাগ বেসিক” চালুর জোরালো দাবি তুলেছেন সংক্ষুব্ধ কর্মচারীরা।
বর্তমান চিত্র ও জুলাই ২০২৬-এর সম্ভাব্য হিসাব
প্রাপ্ত তথ্যের বিশ্লেষণে দেখা যায়, বর্তমানে ১৩তম গ্রেডের একজন কর্মচারীর মূল প্রারম্ভিক বেসিক ১১,০০০ টাকা। বিগত বছরগুলোর ইনক্রিমেন্টসহ বর্তমানে তাদের বেসিক দাঁড়িয়েছে ১৭,৯৬০ টাকায়। যদি নতুন কোনো পে-স্কেল ঘোষণা বা কার্যকর না হয়, তবে আগামী জুলাই ২০২৬-এ বার্ষিক ইনক্রিমেন্টসহ চূড়ান্ত বেসিক গিয়ে দাঁড়াবে ১৮,৮৬০ টাকায়।
এই ১৮,৮৬০ টাকা বেসিকের ওপর ভিত্তি করে জুলাই মাসের শেষে একজন কর্মচারী মোট বেতন পাবেন মাত্র ৩১,৯৩৩ টাকা। এর মধ্যে রয়েছে—
-
মূল বেসিক: ১৮,৮৬০ টাকা
-
মহার্ঘ ভাতা (১৫%): ২,৮২৯ টাকা
-
বাড়ি ভাড়া: ৭,৫৪৪ টাকা
-
চিকিৎসা ভাতা: ১,৫০০ টাকা
-
শিক্ষা ভাতা: ১,০০০ টাকা
-
টিফিন ভাতা: ২০০ টাকা
-
সর্বমোট: ৩১,৯৩৩ টাকা
সাধারণ কর্মচারীদের মতে, বর্তমান আকাশচুম্বী দ্রব্যমূল্য ও জীবনযাত্রার ব্যয়ের সাথে এই বেতন কোনোভাবেই সংগতিপূর্ণ নয়।
৫০% বর্ধিত বেসিকের হিসাব এবং শুভঙ্করের ফাঁকি
অন্য একটি সম্ভাব্য ছকে দেখা যাচ্ছে, যদি নতুন পে-স্কেলে ১৩তম গ্রেডের সম্ভাব্য প্রারম্ভিক বেসিক ২৪,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়, তবে সেখানে এক অদ্ভুত জটিলতা তৈরি করা হয়েছে।
হিসাব অনুযায়ী, সম্ভাব্য নতুন বেসিক ২৪,০০০ টাকা থেকে পূর্বের মূল বেসিক ১১,০০০ টাকা বিয়োগ করলে বর্ধিত অংশ দাঁড়ায় ১৩,০০০ টাকা। কিন্তু কর্মচারীদের অভিযোগ, এই বর্ধিত অংশের শতভাগ সুবিধা কর্মচারীদের না দিয়ে মাত্র ৫০% অর্থাৎ ৬,৫০০ টাকা কার্যকর করার একটি বৈষম্যমূলক রূপরেখা তৈরি হচ্ছে।
এই ৫০% কার্যকরের ফর্মুলা অনুযায়ী হিসাব করলে:
-
চূড়ান্ত বেসিক দাঁড়ায়: ২৪,৪৬০ টাকা (পূর্বের ইনক্রিমেন্টসহ)
-
বাড়ি ভাড়া (পূর্বের স্কেলে বহাল): ৭,১৮৪ টাকা
-
চিকিৎসা ভাতা (পূর্বের বহাল): ১,৫০০ টাকা
-
শিক্ষা ভাতা (পূর্বের বহাল): ১,০০০ টাকা
-
টিফিন ভাতা (পূর্বের বহাল): ২০০ টাকা
-
সর্বমোট নতুন বেতন: ৩৪,৩৪৪ টাকা
ফলস্বরূপ, পে-স্কেল ছাড়া জুলাইয়ের বেতন (৩১,৯৩৩ টাকা) এবং নতুন এই ৫০% ফর্মুলার বেতনের (৩৪,৩৪৪ টাকা) মধ্যে নিট প্রকৃত পার্থক্য বা বৃদ্ধি দাঁড়াচ্ছে মাত্র ২,৪১১ টাকা! মহার্ঘ ভাতা বিলুপ্ত করে এবং বাড়ি ভাড়া পুরোনো কাঠামোতে আটকে রেখে এই নামমাত্র বৃদ্ধিকে কর্মচারীরা ‘নতুন প্রহসন’ বলে অভিহিত করেছেন।
“৫০% নয়, শতভাগ বেসিক চাই” — কর্মচারীদের মূল দাবি
বঞ্চিত কর্মচারীদের পক্ষ থেকে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, “আমরা কোনো আংশিক বা ৫০% বর্ধিত বেসিকের ফর্মুলা মানব না। আমাদের দাবি অত্যন্ত স্পষ্ট— সম্ভাব্য বেসিক ২৪,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হলে তার শতভাগ (১০০%) বেসিক ধরেই নতুন বেতন কাঠামো সাজাতে হবে। কোনো অবস্থাতেই বাড়ি ভাড়া বা অন্যান্য ভাতার ওপর অন্যায্য সিলিং বসানো যাবে না।”
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরাও মনে করছেন, নতুন স্কেলে যদি বর্ধিত বেসিকের পূর্ণ সুবিধা মাঠপর্যায়ের কর্মচারীদের না দেওয়া হয়, তবে এই নামমাত্র বেতন বৃদ্ধি কর্মচারীদের অর্থনৈতিক সংকট আরও ঘনীভূত করবে।
কর্মচারী সমন্বয় পরিষদের প্রধান দাবিসমূহ:
১. প্রস্তাবিত ২৪,০০০ টাকা সম্ভাব্য বেসিকের শতভাগ (১০০%) ধরে অবিলম্বে চূড়ান্ত বেসিক নির্ধারণ করতে হবে। ২. বেসিক বৃদ্ধির সাথে সামঞ্জস্য রেখে বাড়ি ভাড়া ও অন্যান্য ভাতা আনুপাতিক হারে বাড়াতে হবে (পুরোনো ভাতার হার বহাল রাখা চলবে না)। ৩. আংশিক সুবিধা বা বৈষম্যমূলক বেতন কাঠামো বাতিল করে দ্রুত পূর্ণাঙ্গ ও মর্যাদাপূর্ণ পে-স্কেল ঘোষণা করতে হবে।

