নিরাপদ বিনিয়োগে ঝুঁকছে মানুষ: ব্যাংক ডিপোজিটের চেয়েও আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে ট্রেজারি বন্ড
বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে সাধারণ বিনিয়োগকারীদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয় ও নিরাপদ বিনিয়োগের মাধ্যম হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে সরকারি ‘ট্রেজারি বন্ড’। দীর্ঘমেয়াদী এই বিনিয়োগে ব্যাংক ডিপোজিটের তুলনায় বেশি মুনাফা পাওয়া যাচ্ছে, যা সঞ্চয়কারীদের নতুন করে ভাবিয়ে তুলছে। সরকারি গ্যারান্টি এবং নির্দিষ্ট সময়ে নিয়মিত মুনাফা পাওয়ার নিশ্চয়তা থাকায় দিন দিন ট্রেজারি বন্ডের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি পাচ্ছে।
বন্ডের বর্তমান সুদের হার: সাম্প্রতিক তথ্যানুযায়ী, বিভিন্ন মেয়াদে ট্রেজারি বন্ডের সুদের হার বিনিয়োগকারীদের জন্য বেশ লাভজনক। বর্তমানে ২ বছর মেয়াদী বন্ডে সুদের হার ১০.২৩ শতাংশ এবং ৫ বছর মেয়াদী বন্ডে ১০.৭৯ শতাংশ। তবে দীর্ঘমেয়াদী বন্ডগুলোতে মুনাফার হার আরও বেশি। ১০ বছর মেয়াদী বন্ডে ১০.২৭ শতাংশ সুদ পাওয়া গেলেও ১৫ বছর ও ২০ বছর মেয়াদী বন্ডে সুদের হার যথাক্রমে ১১.১৬ শতাংশ এবং ১১.২৪ শতাংশ পর্যন্ত পৌঁছেছে।
কেন ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করবেন? বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এর নিরাপত্তা। যেহেতু এটি সরকার কর্তৃক গ্যারান্টিযুক্ত, তাই এখানে মূলধন হারানোর কোনো ভয় নেই। এছাড়া নিয়মিত বিরতিতে সুদের টাকা সরাসরি বিনিয়োগকারীর অ্যাকাউন্টে জমা হয়। শুধু তাই নয়, যদি কোনো বিনিয়োগকারী মেয়াদের আগেই টাকা উত্তোলন করতে চান, তবে সেকেন্ডারি মার্কেটে বন্ডটি বিক্রির সুযোগও রয়েছে।
বিনিয়োগ করার সহজ পদ্ধতি: সাধারণ মানুষ এখন খুব সহজেই ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারছেন। বিনিয়োগের প্রধান দুটি মাধ্যম হলো: ১. ব্যাংক অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে: যেকোনো তফসিলি ব্যাংকের মাধ্যমে বিপি (Bangladesh Bank Portal) আইডি ব্যবহার করে সরাসরি বন্ড কেনা সম্ভব। ২. শেয়ার মার্কেটের মাধ্যমে: পুঁজিবাজারের বিনিয়োগকারীরা তাদের বিও (Beneficiary Owner) আইডি ব্যবহার করেও বন্ডে বিনিয়োগ করতে পারেন।
বাজার বিশ্লেষণ: বর্তমানে ব্যাংকগুলো আমানতের ওপর যে সুদ দিচ্ছে, তার তুলনায় সরকারি এই বন্ডের সুদের হার অনেক ক্ষেত্রেই বেশি এবং ঝুঁকিমুক্ত। উচ্চ মূল্যস্ফীতির এই সময়ে যেখানে সাধারণ মানুষ তাদের জমানো টাকার সঠিক ব্যবহার নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকেন, সেখানে ১১ শতাংশের বেশি মুনাফা নিশ্চিত করা ট্রেজারি বন্ড একটি শক্তিশালী বিকল্প হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, সরকারি সিকিউরিটিজে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়লে দীর্ঘমেয়াদে দেশের অভ্যন্তরীণ ঋণ ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং বিনিয়োগকারীরাও একটি নিরাপদ আয়ের উৎস খুঁজে পাবেন।

