মোটরসাইকেলের ১০ বছর পূর্ণ? মাত্র ২৩ টাকায় মিলবে আরও ৫ বছরের বৈধতা!
দেশের সড়কগুলোতে চলাচলকারী পুরোনো মোটরসাইকেল মালিকদের জন্য বড় সুখবর নিয়ে এসেছে বিআরটিএ (BRTA)। সাধারণত একটি নতুন মোটরসাইকেল কেনার সময় এককালীন ১০ বছরের জন্য ট্যাক্স টোকেন সংগ্রহ করতে হয়। এই ১০ বছরের মেয়াদ শেষ হওয়ার পর অনেকেই দ্বিধায় থাকেন যে পরবর্তী প্রক্রিয়া কী হবে। ২০২৬ সালের হালনাগাদ তথ্যানুযায়ী, নামমাত্র ফি এবং নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণের মাধ্যমে আরও ৫ বছরের জন্য ট্যাক্স টোকেন নবায়ন করা সম্ভব।
২৩ টাকার বিশেষ ফি ও মেয়াদ বৃদ্ধি
বিআরটিএ-র নিয়ম অনুযায়ী, ১০ বছর মেয়াদী ট্যাক্স টোকেনের সময়সীমা পার হওয়ার পর পরবর্তী ৫ বছরের জন্য নবায়ন ফি নির্ধারণ করা হয়েছে মাত্র ২৩ টাকা। এই ২৩ টাকা মূলত সরকারি সার্ভিস চার্জ বা ফি হিসেবে গণ্য হয়। অর্থাৎ, নামমাত্র এই অর্থ জমা দিয়েই একজন চালক তার বাইকের আইনি বৈধতা আরও ৫ বছরের জন্য বর্ধিত করে নিতে পারেন।
আর্থিক সহায়তা তহবিলের বাধ্যবাধকতা
ট্যাক্স টোকেন নবায়নের ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ‘আর্থিক সহায়তা তহবিল’ (Financial Assistance Fund)। যদি কোনো বাইক মালিক ইতিপূর্বে এই তহবিলের জন্য নির্ধারিত ফি (সাধারণত ১,১৫০ টাকা) পরিশোধ না করে থাকেন, তবে নবায়নের সময় এই বকেয়া টাকা অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। ২৩ টাকা ফি-র সাথে এই বকেয়া যুক্ত হয়ে মোট অংক নির্ধারিত হবে। যারা নিয়মিত এটি পরিশোধ করেছেন, তাদের জন্য শুধু সার্ভিস চার্জটুকুই প্রযোজ্য।
নবায়ন করবেন যেভাবে
বর্তমানে ট্যাক্স টোকেন নবায়নের প্রক্রিয়াটি আগের চেয়ে অনেক বেশি সহজ ও প্রযুক্তিনির্ভর করা হয়েছে:
-
ব্যাংকের মাধ্যমে: বিআরটিএ কর্তৃক অনুমোদিত ব্যাংকের (যেমন- এনআরবিসি ব্যাংক বা এনসিসি ব্যাংক) যেকোনো বুথে গিয়ে পুরাতন ট্যাক্স টোকেনের কপি জমা দিয়ে আবেদন করা যাবে।
-
অনলাইন পেমেন্ট: বিআরটিএ সার্ভিস পোর্টাল (BSP) ব্যবহার করে বিকাশ, নগদ বা অন্যান্য অনলাইন গেটওয়ের মাধ্যমে ঘরে বসেই ফি জমা দেওয়া সম্ভব।
-
সংগ্রহ: ব্যাংক স্লিপ এবং মূল ট্যাক্স টোকেনের কপি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ কার্যালয় থেকে পরবর্তী ৫ বছরের জন্য নতুন ডিজিটাল বা ম্যানুয়াল ট্যাক্স টোকেন সংগ্রহ করতে হবে।
সতর্কতা ও আইনি ঝুঁকি
১০ বছর পূর্ণ হওয়ার পর অনেক সময় মালিকরা অবহেলাবশত নবায়ন করেন না। মনে রাখা জরুরি, মেয়াদোত্তীর্ণ ট্যাক্স টোকেন নিয়ে সড়কে চলাচল করা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। এর ফলে ট্রাফিক পুলিশের মামলা, জরিমানা এমনকি গাড়ি জব্দ হওয়ার মতো আইনি জটিলতা তৈরি হতে পারে। তাই বড় ধরনের জরিমানা এড়াতে মেয়াদ শেষ হওয়ার দ্রুততম সময়ের মধ্যেই এই নামমাত্র ফিতে নবায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

