পে-স্কেলের জন্য আলাদা বরাদ্দ নয়, দরকার প্রজ্ঞাপন: বাজেট বিশ্লেষণে যা উঠে এলো
সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বিশেষ করে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য আলাদা কোনো বরাদ্দ না থাকায় অনেকের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তবে অর্থনীতি ও জনপ্রশাসন সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকদের মতে, পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য সবসময় আলাদা শিরোনামে বিশেষ বরাদ্দ দেখানো বাধ্যতামূলক নয়; মূল বিষয় হচ্ছে সরকার প্রজ্ঞাপন জারি করে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করার সিদ্ধান্ত নেয় কি না।
প্রস্তাবিত বাজেটের নথি বিশ্লেষণে দেখা যায়, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা খাতে মোট ৮৯ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে বেতন ও বিভিন্ন ভাতার জন্য উল্লেখযোগ্য অর্থ সংরক্ষিত রয়েছে। যদিও নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের জন্য আলাদা করে অতিরিক্ত কোনো বরাদ্দের কথা বাজেটে উল্লেখ করা হয়নি।
অর্থ মন্ত্রণালয়ের একাধিক সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে, নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে অর্থের সংকট হবে না। প্রয়োজন হলে বিদ্যমান বেতন-ভাতা খাত, থোক বরাদ্দ বা অপ্রত্যাশিত ব্যয়ের সংরক্ষিত তহবিল থেকেও অর্থায়নের সুযোগ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমানে যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে তার বড় অংশই “আলাদা বরাদ্দ নেই” শিরোনামকে কেন্দ্র করে। বাস্তবে বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দ থাকলে এবং সরকার আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন জারি করলে নতুন পে-স্কেল কার্যকর করা প্রশাসনিকভাবে সম্ভব। অতীতেও অনেক ক্ষেত্রে নতুন সুবিধা বা কাঠামো বাস্তবায়নের জন্য পৃথক শিরোনামে বরাদ্দ না দেখিয়ে সংশ্লিষ্ট পরিচালন ব্যয়ের মধ্য থেকেই অর্থায়ন করা হয়েছে।
বাজেট সংশ্লিষ্ট প্রকাশিত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সরকার ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরিকল্পনা নিয়ে এগোচ্ছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে আগামী ১ জুলাই থেকে নতুন কাঠামোর একটি অংশ কার্যকরের সম্ভাবনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরকারি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশের অভিমত, “পে-স্কেলের জন্য আলাদা বরাদ্দ নয়, প্রয়োজন সরকারি গেজেট বা প্রজ্ঞাপন।” তাদের দাবি, একবার প্রজ্ঞাপন জারি হলে অর্থ বরাদ্দের প্রশাসনিক ব্যবস্থা সরকার নিজেই সম্পন্ন করতে পারবে। ফলে কেবল ‘বিশেষ বরাদ্দ নেই’ শিরোনাম দেখে হতাশ হওয়ার কোনো কারণ নেই।
অর্থনীতিবিদদের মতে, বাজেটের সংখ্যা বিশ্লেষণের পাশাপাশি সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্তই এখানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে চূড়ান্ত বিষয় হলো সরকারি ঘোষণা, প্রজ্ঞাপন এবং বাস্তবায়ন পরিকল্পনা।
সব মিলিয়ে বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, বাজেটে বেতন-ভাতা খাতে বড় অঙ্কের বরাদ্দ রয়েছে। তাই নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে সরকারি প্রজ্ঞাপন ও বাস্তবায়ন নির্দেশনা। ফলে সরকারি চাকরিজীবীদের নজর এখন বাজেটের কোনো নির্দিষ্ট বরাদ্দের দিকে নয়, বরং সরকারের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার দিকেই।

