সরকারি কর্মচারীর পাসপোর্টে ‘Government Employee’ উল্লেখ না থাকলে ওমরাহে যেতে কি বহিঃবাংলাদেশ ছুটি মিলবে?
সরকারি চাকরিজীবীদের মধ্যে একটি প্রশ্ন প্রায়ই ঘুরে বেড়ায়—পাসপোর্টে যদি ‘Government Employee’ বা সরকারি কর্মচারীর পরিচয় উল্লেখ না থাকে, তাহলে কি ওমরাহ পালনের জন্য বহিঃবাংলাদেশ (Ex-Bangladesh) ছুটি নেওয়া যাবে? আবার অনেকের ধারণা, সরকারি চাকরি উল্লেখ না থাকলে বিদেশে যাওয়ার অনুমতি মিলবে না। বাস্তবে বিষয়টি কী—তা নিয়ে রয়েছে নানা বিভ্রান্তি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, একজন সরকারি কর্মচারী ব্যক্তিগত কারণে বিদেশ ভ্রমণ, চিকিৎসা কিংবা ওমরাহ পালনের জন্য বহিঃবাংলাদেশ ছুটি নিতে পারেন। তবে এ ক্ষেত্রে নির্ধারিত কর্তৃপক্ষের অনুমোদন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র এবং সরকারি বিধি অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। আবেদনপত্রের সঙ্গে সাধারণত পাসপোর্টের সত্যায়িত কপি, ভিসা (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে), ছুটির হিসাব এবং নির্ধারিত তথ্যাদি জমা দিতে হয়।
পাসপোর্টে সরকারি চাকরির পরিচয় না থাকলে কী হবে?
প্রচলিত প্রশাসনিক প্রক্রিয়া অনুযায়ী, সরকারি কর্মচারীদের অফিসিয়াল অনুমোদন নিয়ে পাসপোর্ট গ্রহণ করা এবং পাসপোর্টে সরকারি চাকরির তথ্য সঠিকভাবে অন্তর্ভুক্ত রাখা উত্তম। কারণ বিদেশ ভ্রমণের অনুমোদন (জিও/GO) এবং বহিঃবাংলাদেশ ছুটির আবেদন যাচাইয়ের সময় এসব তথ্য গুরুত্বপূর্ণ বিবেচিত হতে পারে। বিভিন্ন দপ্তর থেকে পাসপোর্টের অনাপত্তিপত্র (NOC), জিও এবং বহিঃবাংলাদেশ ছুটির পৃথক অফিস আদেশও জারি করা হয়।
তবে কেবল পাসপোর্টে ‘Government Employee’ লেখা নেই—এমন একটি কারণেই বহিঃবাংলাদেশ ছুটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হয়ে যাবে, এমন কোনো সাধারণ বিধান পাওয়া যায় না। বাস্তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা দপ্তরের প্রশাসনিক নির্দেশনা এবং আবেদনকারীর নথিপত্রের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
ওমরাহ বনাম সাধারণ ভ্রমণ
ওমরাহ পালনের জন্য বিদেশে যেতে হলে সরকারি কর্মচারীদের বহিঃবাংলাদেশ ছুটি গ্রহণ করতে হয় এবং যথাযথ সরকারি অনুমোদন (GO) থাকা আবশ্যক। অন্যদিকে ব্যক্তিগত ভ্রমণ, যেমন ভারত সফরের ক্ষেত্রেও সরকারি কর্মচারী হলে অফিসের অনুমোদন ছাড়া বিদেশ ভ্রমণ করা বিধিসম্মত নয়। অর্থাৎ ভ্রমণের উদ্দেশ্য যাই হোক, সরকারি কর্মচারীর ক্ষেত্রে বিদেশ যাত্রার আগে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন নেওয়াই নিরাপদ ও বিধিসম্মত পদ্ধতি।
কী করবেন?
যাদের পাসপোর্টে সরকারি চাকরির তথ্য উল্লেখ নেই, তারা ওমরাহ বা অন্য কোনো বিদেশ সফরের আগে নিজ দপ্তরের প্রশাসন শাখা, পাসপোর্ট কর্তৃপক্ষ এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সংশোধন বা করণীয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে আবেদন করবেন। এতে ভবিষ্যতে অনুমোদন বা ইমিগ্রেশন সংক্রান্ত জটিলতার ঝুঁকি কমবে।
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ হলো, সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে বিদেশ ভ্রমণের আগে বহিঃবাংলাদেশ ছুটি, সরকারি আদেশ (GO) এবং পাসপোর্টের তথ্য—এই তিনটি বিষয়ই সঠিক ও সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

