৯ম পে স্কেল নিউজ

পে-স্কেলের চূড়ান্ত সুপারিশের পথে সরকার, আজ সচিব কমিটির গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক

সরকারি চাকরিজীবী, বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা এবং সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের জন্য নতুন বেতন-ভাতা ও আর্থিক সুবিধা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ পর্যায়ে পৌঁছেছে জাতীয় বেতন কমিশন–২০২৫-এর কার্যক্রম। এ লক্ষ্যে আজ বুধবার সকালে সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে জাতীয় বেতন কমিশন–২০২৫ সুপারিশ প্রণয়ন কমিটির ষষ্ঠ সভা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, এ বৈঠকে নতুন বেতন কাঠামো সংক্রান্ত সুপারিশের খসড়া চূড়ান্ত করার চেষ্টা করা হবে।

জাতীয় বিভিন্ন দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সুপারিশ চূড়ান্ত হলে তা দ্রুত মন্ত্রিসভায় উপস্থাপনের প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে। এরপর সরকারের নীতিগত অনুমোদন এবং প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক কার্যক্রম শেষে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

পাঁচ দফা বৈঠকের আলোচনার ভিত্তিতে চূড়ান্ত সুপারিশ

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, এর আগে অনুষ্ঠিত পাঁচটি বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন কাঠামো, গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য, মূল্যস্ফীতির প্রভাব, বাড়িভাড়া, চিকিৎসা ও যাতায়াত ভাতা, বিভিন্ন আর্থিক সুবিধা, পেনশন এবং অবসর-পরবর্তী সুবিধাসহ নানা বিষয় নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে।

আজকের বৈঠকে এসব বিষয়ে প্রাপ্ত মতামত ও তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে একটি সমন্বিত সুপারিশমালা চূড়ান্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বর্তমান অর্থনৈতিক বাস্তবতা, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা এবং সরকারি কর্মচারীদের জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় রেখে সুপারিশ প্রণয়ন করা হতে পারে।

দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে-স্কেলের প্রত্যাশা

সরকারি চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরেই নতুন বেতন কাঠামোর দাবি জানিয়ে আসছেন। সর্বশেষ জাতীয় বেতন স্কেল কার্যকর হওয়ার পর এক দশকেরও বেশি সময় পার হয়েছে। এ সময়ে ধারাবাহিক মূল্যস্ফীতি, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের দাবি আরও জোরালো হয়েছে।

কর্মচারী সংগঠনগুলোর মতে, দীর্ঘ সময় নতুন বেতন কাঠামো না হওয়ায় প্রকৃত আয়ের সক্ষমতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। তাই নতুন বেতন কাঠামোর পাশাপাশি বিভিন্ন ভাতা ও অবসর-পরবর্তী সুবিধাও সময়োপযোগী করার দাবি জানিয়ে আসছেন তারা।

বিভিন্ন মহলের মতামত নিয়ে চলছে আলোচনা

নতুন পে-স্কেল নিয়ে অর্থনীতি ও নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে বিভিন্ন মতামত উঠে এসেছে। বিভিন্ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান, অর্থনীতিবিদ এবং আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোও এ বিষয়ে নিজ নিজ পর্যবেক্ষণ ও সুপারিশ তুলে ধরেছে। তবে সরকারি চাকরিজীবীদের একটি অংশের অভিমত, নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে আলোচনা করার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে নতুন পে-স্কেল না হওয়া এবং মূল্যস্ফীতির কারণে তাদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের বিষয়টিও সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।

মন্ত্রিসভার অনুমোদনের দিকেই নজর

সংশ্লিষ্টদের মতে, আজকের বৈঠকে সুপারিশ চূড়ান্ত হলে সেটি পরবর্তী ধাপে মন্ত্রিসভায় উপস্থাপন করা হবে। মন্ত্রিসভার নীতিগত অনুমোদনের পর প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

এদিকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের মধ্যেও আজকের বৈঠককে ঘিরে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। কারণ, এই বৈঠকের সিদ্ধান্তই নতুন জাতীয় বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পরবর্তী অগ্রগতির দিকনির্দেশনা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *