জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি ও স্বাক্ষর পরিবর্তন করবেন যেভাবে, লাগবে ২৩০ টাকা
জাতীয় পরিচয়পত্র বা NID কার্ডে থাকা ছবি অস্পষ্ট, পুরোনো কিংবা পরিচয় শনাক্তে সমস্যা হচ্ছে—এমন ক্ষেত্রে নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ছবি পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে। একইভাবে প্রয়োজন হলে NID-তে থাকা স্বাক্ষরও পরিবর্তন করা যায়। তবে এ কাজটি সাধারণ অনলাইন সংশোধন আবেদনের মতো নয়; সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে সরাসরি উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হয়।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের NID-সংক্রান্ত তথ্য অনুযায়ী, জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্য প্রয়োজন অনুযায়ী নির্ধারিত পদ্ধতিতে ও নির্ধারিত ফি পরিশোধের মাধ্যমে সংশোধনের সুযোগ রয়েছে।
কোথায় আবেদন করতে হবে?
NID-এর ছবি ও স্বাক্ষর পরিবর্তনের জন্য আবেদনকারীকে যে এলাকার ভোটার, সেই এলাকার সংশ্লিষ্ট উপজেলা বা থানা নির্বাচন অফিসে সশরীরে উপস্থিত হতে হবে। ছবি ও স্বাক্ষর পরিবর্তনের জন্য প্রচলিত প্রক্রিয়ায় সংশোধন ফরম-২ ব্যবহার করা হয়। জেলা নির্বাচন অফিসের সেবা নির্দেশনাতেও ছবি/স্বাক্ষর পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সংশোধন ফরম-২ এবং AFIS রিপোর্টের কথা উল্লেখ রয়েছে।
এ ধরনের আবেদন অনলাইনে সম্পন্ন করার পরিবর্তে সরাসরি নির্বাচন অফিসে গিয়ে প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করতে হয়—সাম্প্রতিক তথ্যেও বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
AFIS রিপোর্ট লাগবে, করা যায় বিনামূল্যে
ছবি ও স্বাক্ষর পরিবর্তনের আবেদনের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ একটি বিষয় হলো AFIS (Automated Fingerprint Identification System) রিপোর্ট। সংশোধন ফরম-২ জমা দেওয়ার সময় আবেদনকারীর AFIS রিপোর্ট সংযুক্ত করার তথ্য পাওয়া যায়। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন জেলা নির্বাচন অফিসে AFIS রিপোর্ট করার ব্যবস্থা রয়েছে এবং এ রিপোর্টের জন্য কোনো ফি নেওয়া হয় না বলে সংশ্লিষ্ট তথ্যসূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া উপজেলা ও থানা পর্যায়েও AFIS করার সুবিধা সম্প্রসারণের উদ্যোগের কথা সাম্প্রতিক প্রকাশিত তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে স্থানীয় অফিসে এই সুবিধা চালু হয়েছে কি না, যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে নিশ্চিত হওয়া ভালো।
ছবি ও স্বাক্ষর পরিবর্তনের সরকারি ফি কত?
জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবি ও স্বাক্ষর পরিবর্তনের জন্য সরকারি ফি ২৩০ টাকা বলে প্রকাশিত নির্দেশনাগুলোতে উল্লেখ রয়েছে। এই ফি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হয়।
প্রচলিত পদ্ধতিতে বিকাশ বা রকেটের মাধ্যমে ‘NID Info Correction’ ধরনের আবেদন নির্বাচন করে ফি পরিশোধ করা যায় বলে তথ্যসূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে। ফি দেওয়ার পর পাওয়া ট্রানজেকশন নম্বর সংরক্ষণ করে আবেদনপত্রে প্রয়োজন অনুযায়ী উল্লেখ করতে হবে।
গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
NID সেবার ফি পরিশোধের বর্তমান পদ্ধতি সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট অফিস বা সরকারি NID সেবা পোর্টালের নির্দেশনা অনুসরণ করা উচিত। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের NID ওয়েবসাইটে বিকাশের মাধ্যমে NID ফি প্রদানের আলাদা নির্দেশনাও রয়েছে।
আবেদন করার ধাপগুলো কী?
ছবি ও স্বাক্ষর পরিবর্তনের পুরো প্রক্রিয়াটি মোটামুটি কয়েকটি ধাপে সম্পন্ন করতে হয়—
প্রথম ধাপ: সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় সংশোধন ফরম-২ সংগ্রহ ও পূরণ করতে হবে।
দ্বিতীয় ধাপ: নির্ধারিত ২৩০ টাকা সরকারি ফি মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে।
তৃতীয় ধাপ: প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সঙ্গে AFIS রিপোর্ট সংযুক্ত করতে হবে।
চতুর্থ ধাপ: পূরণ করা আবেদনপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে সরাসরি জমা দিতে হবে।
পঞ্চম ধাপ: যাচাই-বাছাইয়ের পর আবেদন গ্রহণ করা হলে নির্বাচন অফিসে আবেদনকারীর নতুন ছবি তোলা এবং স্বাক্ষর নেওয়া হবে।
ষষ্ঠ ধাপ: ছবি ও স্বাক্ষরের তথ্য সার্ভারে পাঠানোর পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনটি যাচাই ও অনুমোদনের প্রক্রিয়া সম্পন্ন করবে।
সপ্তম ধাপ: আবেদন অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট মোবাইল নম্বরে SMS-এর মাধ্যমে জানানো হতে পারে। এরপর অনলাইন থেকে সংশোধিত NID-এর কপি ডাউনলোড করা যায় এবং প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিস থেকে কার্ড সংগ্রহ করা যায়।
নতুন ছবি কীভাবে তোলা হবে?
আবেদনকারীর নিজের উপস্থিতি এই প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নির্বাচন অফিসে আবেদন গ্রহণ ও যাচাইয়ের পর নতুন ছবি তোলা এবং স্বাক্ষর নেওয়া হয়। ফলে আগে থেকে তোলা ছবি জমা দিয়ে NID-এর ছবি পরিবর্তন করার সুযোগ নেই; সংশ্লিষ্ট অফিসের প্রক্রিয়াতেই নতুন ছবি ধারণ করা হয়। নির্বাচন কমিশনের NID নিবন্ধন ব্যবস্থাতেও ছবি ও বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহের জন্য নাগরিকের উপস্থিতির বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।
আবেদন অনুমোদনের পর কী হবে?
আবেদন অনুমোদিত হলে সংশোধিত তথ্য NID ডাটাবেজে হালনাগাদ করা হয়। এরপর সংশোধিত NID-এর কপি অনলাইন থেকে সংগ্রহের সুযোগ থাকতে পারে। সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিস থেকেও প্রয়োজন অনুযায়ী সংশোধিত লেমিনেটেড কার্ড সংগ্রহ করা যায় বলে প্রকাশিত নির্দেশনায় উল্লেখ রয়েছে।
তবে আবেদন অনুমোদনের সময় সবার ক্ষেত্রে একই হবে—এমন নির্দিষ্ট নিশ্চয়তা নেই। যাচাই-বাছাই, অফিসের কার্যক্রম এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদনের ওপর সময় নির্ভর করতে পারে।
কোন কারণে ছবি বা স্বাক্ষর পরিবর্তন করতে পারেন?
NID-এর ছবি ও স্বাক্ষর পরিবর্তনের প্রয়োজন হতে পারে বিভিন্ন কারণে। যেমন—
- পুরোনো ছবি অস্পষ্ট বা নিম্নমানের হলে;
- ছবিতে বর্তমান চেহারার সঙ্গে বড় ধরনের পার্থক্য থাকলে;
- ছবি দিয়ে পরিচয় শনাক্ত করতে অসুবিধা হলে;
- পুরোনো স্বাক্ষর বর্তমানে ব্যবহৃত স্বাক্ষরের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ না হলে;
- সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন সেবায় পরিচয় যাচাইয়ের সুবিধার্থে ছবি বা স্বাক্ষর হালনাগাদ প্রয়োজন হলে।
তবে শুধু ইচ্ছা করলেই যেকোনো তথ্য পরিবর্তনের মতো ছবি বা স্বাক্ষর পরিবর্তনও স্বয়ংক্রিয়ভাবে অনুমোদিত হবে—এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক নয়। নির্বাচন অফিস আবেদন যাচাই করে নির্ধারিত নিয়মে সিদ্ধান্ত নেয়।
অনলাইনে কি ছবি ও স্বাক্ষর পরিবর্তন করা যায়?
সাধারণ NID তথ্য সংশোধনের কিছু সেবা অনলাইনে থাকলেও ছবি ও স্বাক্ষর পরিবর্তনের ক্ষেত্রে সরাসরি নির্বাচন অফিসে উপস্থিত হওয়ার প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। কারণ নতুন ছবি ধারণ ও স্বাক্ষর সংগ্রহের জন্য আবেদনকারীর উপস্থিতি প্রয়োজন।
বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের NID ওয়েবসাইটে বিভিন্ন ধরনের সংশোধন ও প্রয়োজনীয় ফরমের তথ্য দেওয়া আছে।
আবেদন করার আগে যা মনে রাখবেন
ছবি ও স্বাক্ষর পরিবর্তনের জন্য যাওয়ার আগে মূল NID/প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, আবেদনপত্র এবং ফি পরিশোধের প্রমাণ সঙ্গে রাখা ভালো। একই সঙ্গে AFIS রিপোর্টের প্রয়োজনীয়তাও নিশ্চিত করতে হবে।
এ ছাড়া স্থানীয় নির্বাচন অফিসে যাওয়ার আগে ফোনে যোগাযোগ করে ওই অফিসে AFIS সেবা, আবেদন গ্রহণের সময় এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পর্কে জেনে নিলে অপ্রয়োজনীয় ভোগান্তি কমবে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের NID কল সেন্টারের নম্বর ১০৫।
এক নজরে
| বিষয় | তথ্য |
|---|---|
| আবেদন কোথায় | সংশ্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিস |
| আবেদন পদ্ধতি | সরাসরি উপস্থিত হয়ে |
| ফরম | সংশোধন ফরম-২ |
| সরকারি ফি | ২৩০ টাকা |
| ফি প্রদানের মাধ্যম | মোবাইল ব্যাংকিং |
| AFIS রিপোর্ট | প্রয়োজনীয় সংযুক্তি হিসেবে উল্লেখ আছে |
| AFIS ফি | জেলা নির্বাচন অফিসে বিনামূল্যে করার তথ্য রয়েছে |
| নতুন ছবি | নির্বাচন অফিসে তোলা হবে |
| নতুন স্বাক্ষর | নির্বাচন অফিসে নেওয়া হবে |
| অনুমোদনের খবর | SMS-এর মাধ্যমে জানানো হতে পারে |
| সহায়তা | NID কল সেন্টার ১০৫ |
সবশেষে, NID-এর ছবি ও স্বাক্ষর পরিবর্তনের ক্ষেত্রে দালাল বা তৃতীয় পক্ষের ওপর নির্ভর না করে সরাসরি সংশ্লিষ্ট নির্বাচন অফিসে যোগাযোগ করাই নিরাপদ। কারণ NID একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি পরিচয়পত্র এবং ভুল বা মিথ্যা তথ্য দিয়ে সংশোধনের চেষ্টা আইনগত ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
সূত্র: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের জাতীয় পরিচয় নিবন্ধন অনুবিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট জেলা নির্বাচন অফিসের প্রকাশিত তথ্য।

