২০তম গ্রেডের পে-ফিকেশন: জুনের বেতন থেকে জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত নতুন বেসিক কত হবে, দেখুন পূর্ণ হিসাব
সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো–২০২৬ বাস্তবায়নের সময়সূচি সামনে আসার পর পে-ফিকেশন নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। বিশেষ করে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে জুন ২০২৬-এর মূল বেতন ধরে পরবর্তী ধাপে কত টাকা বেসিক হতে পারে—এ নিয়ে বিভিন্ন হিসাবের চার্ট ছড়িয়ে পড়ছে।
সম্প্রতি প্রকাশিত একটি পে-ফিকেশন চার্টে জুন ২০২৬, জুলাই ২০২৬, জানুয়ারি ২০২৭ এবং জুলাই ২০২৭—এই চারটি সময়ের জন্য ২০তম গ্রেডের বিভিন্ন বিদ্যমান বেতনধাপের বিপরীতে সম্ভাব্য মূল বেতন দেখানো হয়েছে। চার্টটি বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, জুন ২০২৬-এর মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা থেকে ২০,০১০ টাকা পর্যন্ত হলে সংশ্লিষ্ট ধাপে জুলাই ২০২৭-এর বেসিক ২২,১০০ টাকা থেকে ৩৬,০০০ টাকা পর্যন্ত দেখানো হয়েছে।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় রয়েছে। চার্টে থাকা অঙ্কগুলোকে সরাসরি সরকারি নির্ধারিত ২০তম গ্রেডের নতুন মূল বেতন হিসেবে দেখা যাবে না। অর্থ বিভাগের প্রকাশিত ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ অনুযায়ী নতুন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হয়েছে এবং ২০তম গ্রেডের নতুন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০,০০০ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
অর্থাৎ, নিচের চার্টটি মূলত পে-ফিকেশন/ধাপভিত্তিক হিসাব বোঝার একটি হিসাবচিত্র হিসেবে দেখা বেশি যুক্তিযুক্ত; ব্যক্তিগত চূড়ান্ত বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারি আদেশ ও iBAS++-এর হিসাবই প্রাধান্য পাবে।
চার্টে ২০তম গ্রেডের পে-ফিকেশনের যে হিসাব দেখানো হয়েছে
সরবরাহ করা চার্ট অনুযায়ী হিসাবটি হলো—
| জুন ২০২৬ মূল বেতন | জুলাই | ২০২৬ | জানুয়ারি | ২০২৭ | জুলাই | ২০২৭ | |||||||||
|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|---|
| ৮,২৫০ | ১৫,১২৫ | ১৮,০৬৩ | ২২,১০০ | ||||||||||||
| ৮,৬৭০ | ১৫,৯৩৫ | ১৯,০১৮ | ২৩,২০০ | ||||||||||||
| ৯,১১০ | ১৬,১৫৫ | ১৯,১২৮ | ২৩,২০০ | ||||||||||||
| ৯,৫৭০ | ১৬,৯৩৫ | ২০,০৬৮ | ২৪,৪০০ | ||||||||||||
| ১০,০৫০ | ১৭,১৭৫ | ২০,১৮৮ | ২৪,৪০০ | ||||||||||||
| ১০,৫৬০ | ১৮,০৮০ | ২১,২৪০ | ২৫,৬০০ | ||||||||||||
| ১১,০৯০ | ১৮,৩৪৫ | ২১,৩৭৩ | ২৫,৬০০ | ||||||||||||
| ১১,৬৫০ | ১৯,২২৫ | ২২,৪১৩ | ২৬,৯০০ | ||||||||||||
| ১২,২৪০ | ১৯,৫২০ | ২২,৫৬০ | ২৬,৯০০ | ||||||||||||
| ১২,৮৬০ | ২০,৫৩০ | ২৩,৭১৫ | ২৮,২০০ | ||||||||||||
| ১৩,৫১০ | ২০,৮৫৫ | ২৩,৮৭৮ | ২৮,২০০ | ||||||||||||
| ১৪,১৯০ | ২১,৮৪৫ | ২৫,০২৩ | ২৯,৬০০ | ||||||||||||
| ১৪,৯০০ | ২২,২০০ | ২৫,২০০ | ২৯,৬০০ | ||||||||||||
| ১৫,৬৫০ | ২৩,৩২৫ | ২৬,৪৬৩ | ৩১,১০০ | ||||||||||||
| ১৬,৪৪০ | ২৩,৭২০ | ২৬,৬৬০ | ৩১,১০০ | ||||||||||||
| ১৭,২৭০ | ২৪,৯৩৫ | ২৮,০১৮ | ৩২,৬০০ | ||||||||||||
| ১৮,১৪০ | ২৬,১২০ | ২৯,৩৬০ | ৩৪,৩০০ | ||||||||||||
| ১৯,০৫০ | ২৬,৫৭৫ | ২৯,৫৮৮ | ৩৪,৩০০ | ||||||||||||
| ২০,০১০ | ২৮,০০৫ | ৩১,১৫৩ | ৩৬,০০০ | ||||||||||||
চার্টের তথ্য অনুযায়ী একজন কর্মচারী নিজের জুন ২০২৬-এর মূল বেতনটি খুঁজে সংশ্লিষ্ট সারি ধরে জুলাই ২০২৬, জানুয়ারি ২০২৭ এবং জুলাই ২০২৭-এর অঙ্ক দেখতে পারবেন।
৮,২৫০ টাকা বেসিক হলে চার্টে কী হিসাব দেখানো হয়েছে?
চার্টের প্রথম সারিটি সবচেয়ে সহজ উদাহরণ।
জুন ২০২৬-এ মূল বেতন ৮,২৫০ টাকা হলে চার্টে পরবর্তী ধাপ দেখানো হয়েছে—
৮,২৫০ → ১৫,১২৫ → ১৮,০৬৩ → ২২,১০০ টাকা।
অর্থাৎ চার্ট অনুযায়ী জুন ২০২৬ থেকে জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত মূল বেতন দাঁড়াচ্ছে ২২,১০০ টাকা।
এখানে জুন ২০২৬-এর তুলনায় জুলাই ২০২৭-এর পার্থক্য:
২২,১০০ − ৮,২৫০ = ১৩,৮৫০ টাকা।
তবে এই অঙ্ককে সরাসরি ‘নতুন পে স্কেলের ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন’ বলা যাবে না। কারণ সরকারি নতুন কাঠামোয় ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০,০০০ টাকা।
২০,০১০ টাকা বেসিক হলে জুলাই ২০২৭-এ ৩৬ হাজার টাকা?
চার্টের সর্বশেষ সারিতে জুন ২০২৬-এর মূল বেতন ২০,০১০ টাকা দেখানো হয়েছে। এর বিপরীতে—
- জুলাই ২০২৬: ২৮,০০৫ টাকা
- জানুয়ারি ২০২৭: ৩১,১৫৩ টাকা
- জুলাই ২০২৭: ৩৬,০০০ টাকা
অর্থাৎ চার্টের হিসাবে জুন ২০২৬ থেকে জুলাই ২০২৭ পর্যন্ত বৃদ্ধি:
৩৬,০০০ − ২০,০১০ = ১৫,৯৯০ টাকা।
এখানেও ৩৬,০০০ টাকা হলো চার্টে প্রদর্শিত হিসাব; এটি সরকারি আদেশে ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন হিসেবে নির্ধারিত অঙ্ক নয়।
কেন জুলাই ২০২৬, জানুয়ারি ২০২৭ ও জুলাই ২০২৭—তিনটি ধাপ?
নতুন বেতন কাঠামো একদিনে পুরোপুরি কার্যকর করা হয়নি। সরকারি আদেশ অনুযায়ী বর্ধিত মূল বেতন ধাপে ধাপে কার্যকর করার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে বর্ধিত অংশ—
- ১ জুলাই ২০২৬ থেকে: ৫০ শতাংশ
- ১ জানুয়ারি ২০২৭ থেকে: মোট ৭৫ শতাংশ
- ১ জুলাই ২০২৭ থেকে: মোট ১০০ শতাংশ
কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
নতুন পে-ফিকেশনের ক্ষেত্রে একজন কর্মচারীর আগের স্কেলে ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে আহরিত মূল বেতন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এরপর তাঁর গ্রেড, বেতনধাপ, প্রাপ্য ইনক্রিমেন্ট, পূর্ববর্তী পে-ফিকেশন, পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেডের তথ্যসহ প্রযোজ্য বিধি বিবেচনা করতে হবে।
ফলে একই ২০তম গ্রেডে কর্মরত হলেও দুই কর্মচারীর জুনের মূল বেতন ভিন্ন হলে তাঁদের নতুন বেসিকও একই নাও হতে পারে।
এ কারণেই শুধু ‘২০তম গ্রেডের নতুন বেতন কত’—এই প্রশ্নের একটি অঙ্ক দিয়ে প্রত্যেক কর্মচারীর ব্যক্তিগত বেতন নির্ধারণ করা সম্ভব নয়।
১ জুলাইয়ের ইনক্রিমেন্টও গুরুত্বপূর্ণ
পে-ফিকেশনের সঙ্গে বার্ষিক ইনক্রিমেন্টের বিষয়টি আলাদাভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নতুন কাঠামো কার্যকর হওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর প্রাপ্য বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি কীভাবে সমন্বয় হবে, তা নির্ধারণের জন্য তাঁর বিদ্যমান বেতন ও প্রযোজ্য বিধান দেখতে হবে।
তাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত কোনো সহজ সূত্র—যেমন ‘পুরোনো বেসিকের সঙ্গে একটি নির্দিষ্ট শতাংশ যোগ করলেই নতুন বেতন’—দিয়ে সবার পে-ফিকেশন করা নিরাপদ নয়।
পে-ফিকেশন হবে ব্যক্তির নিজস্ব বেতন ইতিহাস ও প্রযোজ্য সরকারি বিধির ভিত্তিতে।
জুলাই ২০২৭ কেন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ?
নতুন কাঠামোর বাস্তবায়ন সূচি অনুযায়ী ১ জুলাই ২০২৭ থেকে ১০ম–২০তম গ্রেডের জন্য নতুন মূল বেতনের ১০০ শতাংশ কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
অর্থাৎ ১ জুলাই ২০২৭ হচ্ছে ধাপে ধাপে বর্ধিত মূল বেতন কার্যকরের শেষ পর্যায়।
তবে এর অর্থ এই নয় যে একই দিনে সব ধরনের ভাতা নতুন হারে পাওয়া শুরু হবে। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী বিভিন্ন নতুন/বর্ধিত ভাতা ১ জানুয়ারি ২০২৮ থেকে কার্যকর হওয়ার বিধান রয়েছে।
এখানে তাই তিনটি বিষয় আলাদা করে দেখা জরুরি—
মূল বেতন → ইনক্রিমেন্ট → ভাতা।
তিনটির কার্যকর হওয়ার সময় ও হিসাবের নিয়ম এক নয়।
২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা কীভাবে নিজের হিসাব মিলিয়ে দেখবেন?
নিজের পে-ফিকেশন বোঝার জন্য প্রথমে নিচের তথ্যগুলো হাতে রাখতে হবে—
১. ৩০ জুন ২০২৬-এর মূল বেতন
২. বর্তমান গ্রেড—২০তম গ্রেড কি না
৩. বর্তমান বেতনধাপ
৪. ১ জুলাই ২০২৬-এর প্রাপ্য ইনক্রিমেন্ট
৫. আগের পে-ফিকেশনের তথ্য
৬. পদোন্নতি বা উচ্চতর গ্রেডের তথ্য থাকলে তা
৭. নতুন বেতন আদেশের প্রযোজ্য বিধান
এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে iBAS++-এ নির্ধারিত পে-ফিকেশন মিলিয়ে দেখতে হবে।
চার্টটি নিয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
এখানেই বিষয়টির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক।
সরবরাহ করা ছবিতে জুন ২০২৬-এর ৮,২৫০ টাকা থেকে জুলাই ২০২৭-এ ২২,১০০ টাকা এবং ২০,০১০ টাকা থেকে ৩৬,০০০ টাকা পর্যন্ত বিভিন্ন অঙ্ক দেখানো হয়েছে। এগুলোকে সরাসরি সরকারি ‘নতুন ২০তম গ্রেডের বেতন স্কেল’ হিসেবে প্রকাশ করা বিভ্রান্তিকর হতে পারে।
কারণ সরকারি অনুমোদিত কাঠামোতে ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০,০০০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ২০তম গ্রেডের পুরোনো স্কেলের প্রারম্ভিক মূল বেতন ছিল ৮,২৫০ টাকা। নতুন কাঠামোর সঙ্গে পুরোনো বেতনের পার্থক্য এবং ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের নিয়ম থেকেই বিভিন্ন পে-ফিকেশন হিসাব তৈরি হচ্ছে। সরকারি গেজেট অনুযায়ী নতুন কাঠামো ১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর এবং ১০ম–২০তম গ্রেডে বর্ধিত অংশ ৫০%, ২৫% ও ২৫% ধাপে কার্যকর হওয়ার ব্যবস্থা রয়েছে।
শেষ কথা
২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জন্য নতুন পে-ফিকেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—নিজের জুন ২০২৬-এর মূল বেতন দিয়ে হিসাব শুরু করা। সরবরাহ করা চার্টে সেই বেতন অনুযায়ী জুলাই ২০২৬, জানুয়ারি ২০২৭ এবং জুলাই ২০২৭-এর সম্ভাব্য বেসিক দেখানো হয়েছে।
চার্ট অনুযায়ী, উদাহরণ হিসেবে—
৮,২৫০ → ১৫,১২৫ → ১৮,০৬৩ → ২২,১০০ টাকা
অথবা,
২০,০১০ → ২৮,০০৫ → ৩১,১৫৩ → ৩৬,০০০ টাকা।
তবে এগুলোকে চার্টভিত্তিক পে-ফিকেশন হিসাব হিসেবে দেখা উচিত। ব্যক্তিগত কর্মচারীর চূড়ান্ত মূল বেতন নির্ধারণে সরকারি ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’, সংশ্লিষ্ট পে-ফিকেশন বিধান এবং iBAS++-এর নির্ধারিত হিসাবই চূড়ান্ত ভিত্তি হবে। অর্থ বিভাগ ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এই আদেশ প্রকাশ করেছে।
অতএব, ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা শুধু নতুন স্কেলের একটি অঙ্ক না দেখে—জুন ২০২৬-এর নিজের বেসিক, ইনক্রিমেন্ট এবং পে-ফিকেশনের ধাপ মিলিয়ে হিসাব করলেই প্রকৃত প্রাপ্য বেতন সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা পাবেন।

