দেশের অভ্যন্তরে শুরু হলো পোস্টাল ব্যালটে ভোটদান: বিশেষ সুবিধায় ভোট দিচ্ছেন সরকারি চাকুরিজীবীরা
আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের মূল দিনের আগেই বিশেষ প্রক্রিয়ায় ভোটদান শুরু হয়েছে। যারা কর্মসংস্থান বা বিশেষ পরিস্থিতির কারণে নিজ নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে সশরীরে ভোট দিতে পারবেন না, তাদের জন্য নির্বাচন কমিশন (ইসি) ‘পোস্টাল ব্যালট’ এর মাধ্যমে ভোট দেওয়ার সুযোগ নিশ্চিত করেছে। ইতিমধ্যে দেশের অভ্যন্তরে যারা পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য নিবন্ধন করেছেন, তাদের কাছে ব্যালট পেপার পাঠানো শুরু হয়েছে।
কারা পাচ্ছেন এই সুযোগ? নির্বাচন কমিশনের নিয়ম অনুযায়ী, সরকারি চাকুরিজীবী যারা নির্বাচনের সময় আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বা ভোটের দায়িত্ব পালনে নিজ এলাকার বাইরে নিয়োজিত থাকবেন, তারা এই সুবিধা পাচ্ছেন। এছাড়া কারাবন্দী ভোটার এবং প্রবাসী বাংলাদেশিরাও নিয়ম মেনে পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারেন। এবারই প্রথম অনেক সরকারি চাকুরিজীবী কর্মস্থলে থেকে এই বিশেষ পদ্ধতিতে জাতীয় নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাচ্ছেন।
ভোটদানের প্রক্রিয়া ও সময়সীমা: ইসি সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, যারা নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পোস্টাল ব্যালটের জন্য আবেদন করেছিলেন, তাদের বর্তমান ঠিকানায় ব্যালট পেপার পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে। ব্যালট পেপার পাওয়ার পর ভোটার তার পছন্দের প্রতীকে ভোট দিয়ে তা দ্রুত ফেরত পাঠাবেন। নিয়ম অনুযায়ী, ভোটের দিন অর্থাৎ নির্বাচনের দিন বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে এই ব্যালট সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে পৌঁছাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর প্রাপ্ত ব্যালটগুলো গণনা করা হবে না।
ব্যালট পেপারের বৈশিষ্ট্য: ইসি সচিব জানিয়েছেন, স্বচ্ছতা বজায় রাখতে এবারের পোস্টাল ব্যালটে প্রতীকের পাশাপাশি প্রার্থীর নামও উল্লেখ করা হয়েছে। এতে ভোটাররা সহজেই তাদের পছন্দের প্রার্থীকে শনাক্ত করে ভোট দিতে পারছেন।
ভোটারদের প্রতিক্রিয়া: কর্মস্থলে থেকে ভোট দেওয়ার সুযোগ পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন অনেক চাকুরিজীবী। তারা মনে করছেন, এই ব্যবস্থার মাধ্যমে তাদের নাগরিক অধিকার নিশ্চিত হয়েছে। বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও ভোট গ্রহণ কর্মকর্তারা, যারা নির্বাচনের দিন অত্যন্ত ব্যস্ত থাকেন, তারা এই আগাম সুযোগের ফলে স্বাচ্ছন্দ্যে নিজের মত প্রকাশ করতে পারছেন।
সরকারের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে সংশ্লিষ্টরা বলছেন, পোস্টাল ব্যালট ব্যবস্থা আরও জনপ্রিয় ও সহজতর হলে আগামীতে ভোটার উপস্থিতির হার আরও বৃদ্ধি পাবে।
অন্য জেলায় অবস্থান করছেন এমন সরকারি চাকরিজীবীও কি পোস্টাল ব্যালটে ভোট দিতে পারবেন?
হ্যাঁ, অন্য জেলায় কর্মরত সরকারি চাকুরিজীবীরা অবশ্যই পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দিতে পারবেন। মূলত তাদের সুবিধার্থেই এই নিয়ম করা হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের বিধি অনুযায়ী, পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়াটি নিচে সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
১. কারা যোগ্য: যারা নির্বাচনের সময় নিজ নির্বাচনী এলাকার বাইরে পেশাগত দায়িত্ব পালন করবেন (যেমন: ভোট গ্রহণ কর্মকর্তা, পুলিশ বা অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য) অথবা অন্য জেলায় চাকুরিরত আছেন, তারা এই সুযোগ পাবেন।
২. আবেদন প্রক্রিয়া: পোস্টাল ব্যালটে ভোট দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে আগে থেকে আবেদন করতে হয়। আপনার ভোটার এলাকা যে জেলায়, সেই জেলার রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে এই আবেদন পৌঁছাতে হয়।
৩. ভোট প্রদান: রিটার্নিং কর্মকর্তা আপনার আবেদন গ্রহণ করলে আপনার বর্তমান ঠিকানায় একটি ব্যালট পেপার পাঠাবেন। সেটি পাওয়ার পর আপনি আপনার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিয়ে তা পুনরায় ডাকযোগে বা পোস্টাল সার্ভিসের মাধ্যমে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়ে দেবেন।
৪. সময়সীমা: মনে রাখতে হবে, আপনার ভোট সম্বলিত ব্যালটটি অবশ্যই নির্বাচনের দিন বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটের মধ্যে সংশ্লিষ্ট রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে পৌঁছাতে হবে। এর পরে পৌঁছালে সেই ভোট গণনা করা হয় না।
৫. সুবিধা: যেহেতু নির্বাচনের দিন আপনি অন্য জেলায় সরকারি দায়িত্বে ব্যস্ত থাকবেন বা যাতায়াত করা সম্ভব হবে না, তাই পোস্টাল ব্যালটই আপনার ভোটাধিকার প্রয়োগের একমাত্র ও বৈধ মাধ্যম।
সংক্ষেপে, অন্য জেলায় অবস্থানরত সরকারি চাকুরিজীবীদের জন্য এটি একটি বিশেষ নাগরিক অধিকার, যার মাধ্যমে তারা কর্মস্থলে থেকেই দেশের জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারেন।

