নির্বাচন ঘিরে টানা ৪ দিনের ছুটিতে দেশ: ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি সাধারণ ছুটি ঘোষণা
আসন্ন ১৩তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং ‘জুলাই চার্টার’ সংক্রান্ত সাংবিধানিক গণভোটে ভোটারদের নির্বিঘ্নে অংশগ্রহণ ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বড় ধরনের ছুটির ঘোষণা দিয়েছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার) নির্বাচনের দিন পূর্বনির্ধারিত সাধারণ ছুটির পাশাপাশি আগের দিন ১১ ফেব্রুয়ারি (বুধবার)-কেও সাধারণ ছুটি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে।
গত ২২ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হয়। বৈঠক শেষে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এক সংবাদ ব্রিফিংয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ছুটির বিস্তারিত সময়সূচি
নির্বাচন ও সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে সরকারি-বেসরকারি চাকরিজীবীরা টানা ৪ দিন এবং শিল্পাঞ্চলের শ্রমিকরা টানা ৫ দিনের ছুটি পেতে যাচ্ছেন।
-
১০ ফেব্রুয়ারি (মঙ্গলবার): কেবল শিল্পাঞ্চল ও গার্মেন্টস কর্মীদের জন্য বিশেষ সাধারণ ছুটি।
-
১১ ফেব্রুয়ারি (বুধবার): সারা দেশে সকল সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত সংস্থা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের জন্য সাধারণ ছুটি।
-
১২ ফেব্রুয়ারি (বৃহস্পতিবার): নির্বাচনের দিন (সাধারণ ছুটি)।
-
১৩ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি (শুক্রবার ও শনিবার): নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটি।
প্রতিষ্ঠানভিত্তিক ছুটির বিন্যাস
সরকারের প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, দেশের সকল স্তরের প্রতিষ্ঠানে এই ছুটি কার্যকর হবে:
| প্রতিষ্ঠানের ধরন | ছুটির তারিখ | মোট দিন |
| সরকারি, আধা-সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত অফিস | ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি | ২ দিন (+ ২ দিন সাপ্তাহিক) |
| শিল্পাঞ্চল (গার্মেন্টস ও কলকারখানা) | ১০, ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি | ৩ দিন (+ ২ দিন সাপ্তাহিক) |
| ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও শেয়ার বাজার | ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি | ২ দিন |
| শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়) | ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি | ২ দিন |
কেন এই বাড়তি ছুটি?
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নির্বাচনের আগের দিন (১১ ফেব্রুয়ারি) ছুটি দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো যারা ঢাকা বা অন্য শিল্পাঞ্চলে কর্মরত, তারা যেন স্বাচ্ছন্দ্যে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় গিয়ে ভোট প্রদান করতে পারেন। এছাড়া নির্বাচনী এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও ভোটগ্রহণের সার্বিক প্রস্তুতির সুবিধার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
জরুরি সেবা চালু থাকবে
সাধারণ ছুটির আওতামুক্ত থাকবে জরুরি সেবা প্রদানকারী সংস্থাগুলো। হাসপাতাল, ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ, পানি ও গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান এবং গণমাধ্যম এই ছুটির মধ্যেও তাদের কার্যক্রম সীমিত পরিসরে বা শিফটিং ডিউটির মাধ্যমে সচল রাখবে। ব্যাংকগুলোর অনলাইন ও এটিএম বুথ সেবাও ২৪ ঘণ্টা চালু থাকবে।


