ভোটার এলাকা পরিবর্তন করার নিয়ম ২০২৫ । এনআইডি স্থানান্তরে আপনার করনীয় কি? - Technical Alamin
NID CARD INFO

ভোটার এলাকা পরিবর্তন করার নিয়ম ২০২৫ । এনআইডি স্থানান্তরে আপনার করনীয় কি?

সূচীপত্র

ভোটার এলাকা পরিবর্তন বা স্থানান্তর করার জন্য প্রথমে আপনাকে NID Form 13 ডাউনলোড প্রিন্ট করে নিতে হবে। তারপর ভোটার এলাকা পরিবর্তন ফরমটি সঠিকভাবে পূরণ করুন। সবশেষে বর্তমান ভোটার এলাকার উপজেলা নির্বাচন অফিসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ ফরমিটি জমা দিন। ১৫ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে আপনার ভোটার এলাকা পরিবর্তন হবে –ভোটার এলাকা পরিবর্তন করার নিয়ম ২০২৫

ভোটার স্থানান্তরে করনীয় কি?  নির্বাচন কমিশন এর ফরম-১৩ পূরন করে সংস্লিষ্ট উপজেলা/থানা নির্বাচন অফিসে আবেদনকারীকে স্বশরীরে উপস্থিত হয়ে আবেদন করতে হবে। ভোটার স্থানান্তর হলে নতুন কার্ড দেয়া হয় না। কেউ স্থানান্তরিত ঠিকানায় নতুন কার্ড নিতে চাইলে তাকে ২৩০/- সরকারি ফি জমা দিয়ে রিইস্যু আবেদন করে কার্ড সংগ্রহ করতে হবে।

ভোটার কার্ড কি? ভোটার কার্ড বা জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) হলো বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক ১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী নাগরিকদের জন্য ইস্যু করা একটি গুরুত্বপূর্ণ পরিচয়পত্র। এটি বাংলাদেশের নাগরিকদের পরিচয় এবং নাগরিকত্বের প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়। এই কার্ডটি নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রদান করা হয় এবং এতে নাগরিকের নাম, ছবি, জন্ম তারিখ, ঠিকানা এবং একটি অনন্য আইডি নম্বর থাকে।

জাতীয় পরিচয়পত্র কেন দরকার? জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) বাংলাদেশের নাগরিকদের জন্য একটি অপরিহার্য পরিচয়পত্র। এটি বিভিন্ন কারণে প্রয়োজন:

  • পরিচয় নিশ্চিতকরণ: জাতীয় পরিচয়পত্র একজন নাগরিকের পরিচয় নিশ্চিত করে।
  • এটি বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি কাজে ব্যবহৃত হয়।
  • ভোটাধিকার প্রয়োগ:
  • জাতীয় ও স্থানীয় নির্বাচনে ভোট দেওয়ার জন্য এটি অপরিহার্য।
  • সরকারি সেবা প্রাপ্তি: পাসপোর্ট, ড্রাইভিং লাইসেন্স, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, এবং অন্যান্য সরকারি সেবা পাওয়ার জন্য এটি প্রয়োজন।
  • আইনগত প্রমাণ: এটি নাগরিকের আইনগত প্রমাণ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
  • বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যবহার: ব্যাংক ঋণ নিতে। টিন নাম্বার পেতে। মোবাইল সিম পেতে। সরকারি অনুদান ও ভাতা পেতে। চাকরির আবেদন করতে।
সংক্ষেপে, জাতীয় পরিচয়পত্র একজন নাগরিকের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি নথি, যা বিভিন্ন সামাজিক ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রয়োজন।

বর্তমানে আপনি যে এলাকায় ভোটার আছেন, হতে পারে এটি আপনার স্থায়ী ঠিকানা বা বর্তমান ঠিকানা। সে এলাকার উপজেলা নির্বাচন অফিসে নিজে উপস্থিত হয়ে ভোটার স্থানান্তর ফরম (NID Transfer Form) পূরণ করে জমা দিতে হবে। ভোটার এলাকা পরিবর্তনে ৩ মাস সময় লাগে।

ভোটার এলাকা স্থানান্তরের আবেদন অনুমোদন হলেই, ওই এলাকার ভোটার তালিকায় আপনার নাম অর্ন্তভুক্ত হয়ে যাবেন। পরবর্তীতে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আপনি ভোট দিতে পারবেন। ভোটার এলাকা স্থানান্তরের পর আপনি কিন্তু নতুন ঠিকানা যুক্ত জাতীয় পরিচয় পত্র পাবেন না। অর্থাৎ ঠিকানা পরিবর্তনের কারণে সংশোধিত ভোটার আইডি কার্ড দেয়া হয় না। এক্ষেত্রে যদি আপনার সংশোধিত জাতীয় পরিচয় পত্র প্রয়োজন হয়, আপনাকে NID Reissue Fee পরিশোধ করে জাতীয় পরিচয় পত্র রিইস্যুর আবেদন করতে হবে। অনলাইনে ভোটার এলাকা পরিবর্তনের কোন সুযোগ নেই।

 

NID Form 13

ভোটার স্থানান্তর ডকুমেন্ট ২০২৫ । আবেদনপত্রের সাথে কি কি কাগজপত্র জমা দিতে হবে?

  • ১) আবেদনকারীর NID ফটোকপি,
  • ২) যে এলাকায় স্থানান্তর হবেন সে এলাকার নাগরিকত্ব সনদ,
  • ৩) বিদ্যুৎ/পানি বিল/ট্যাক্স রশিদ/বাড়ি ভাড়ার প্রমানপত্র/ভাড়াটিয়া তথ্য ফরম,
  • ৪) অফিস কর্তৃক চাহিত অন্যান্য কাগজপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে)
  • ৫) ফরম-১৩ এর ২য় পৃষ্ঠায় আবেদনকারীকে সনাক্তকারী হিসেবে সংশ্লিষ্ট মেয়র/চেয়ারম্যান/কাউন্সিলর/মেম্বার/ পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা/ ইউনিয়ন প্রশাসনিক কর্মকর্তা এর NID নাম্বার সহ নাম ও স্বাক্ষর, সিল থাকতে হবে।

ভোটার এলাকা বলতে কি বুঝায়?

ভোটার এলাকা বলতে সেই নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলকে বোঝায়, যেখানে কোনো ব্যক্তি ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হয়েছেন এবং নির্বাচনে ভোট দেওয়ার অধিকার রাখেন। এই এলাকা সাধারণত একটি নির্দিষ্ট নির্বাচনী এলাকার অংশ, যা গ্রাম, মহল্লা, ওয়ার্ড বা ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত হতে পারে।

ভোটার এলাকা নির্ধারণের কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে উল্লেখ করা হলো:
স্থায়ী ঠিকানা: একজন ব্যক্তির স্থায়ী ঠিকানা সাধারণত তার ভোটার এলাকা হিসেবে বিবেচিত হয়।নির্বাচনী এলাকা: ভোটার এলাকা একটি বৃহত্তর নির্বাচনী এলাকার অংশ, যা জাতীয় বা স্থানীয় নির্বাচনে প্রতিনিধিত্ব করে।ভোটার তালিকা: ভোটার তালিকায় একজন ভোটারের নাম, ঠিকানা এবং অন্যান্য তথ্য থাকে, যা তাদের ভোটার এলাকার সাথে সম্পর্কিত।
ভোট কেন্দ্র: প্রতিটি ভোটার এলাকার জন্য একটি নির্দিষ্ট ভোট কেন্দ্র থাকে, যেখানে ভোটাররা তাদের ভোট প্রদান করেন।আইনগত সংজ্ঞা: ভোটার এলাকা আইনিভাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে “ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯” এর অধীনে।এই আইনে ভোটার এলাকা বলতে পল্লী এলাকার ক্ষেত্রে এক বা একাধিক গ্রাম বা গ্রামের অংশ বিশেষ এবং শহর এলাকার ক্ষেত্রে এক বা একাধিক মহল্লা বা রাস্তা অথবা মহল্লা বা রাস্তার অংশ বিশেষকে বোঝানো হয়েছে।
   

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *