গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রকৌশলীদের আর্থিক ক্ষমতা পুন : অর্পণ: উন্নয়ন বাজেটে ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত অনুমোদনের সুযোগ
গণপূর্ত অধিদপ্তরের বিভিন্ন পর্যায়ের প্রকৌশলীদের কাজের গতিশীলতা বৃদ্ধি ও প্রশাসনিক বিকেন্দ্রীকরণের লক্ষ্যে তাদের আর্থিক ক্ষমতা পুন:অর্পণ করা হয়েছে। ১৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে প্রধান প্রকৌশলী মো: খালেকুজ্জামান চৌধুরী স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে এই নতুন আর্থিক সীমা নির্ধারণ করা হয়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের জারি করা সংশোধিত নীতিমালার আলোকে এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
নতুন এই আদেশ অনুযায়ী, পরিচালনা ও উন্নয়ন—উভয় খাতের বাজেটে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী এবং নির্বাহী প্রকৌশলীদের ক্রয়চুক্তি অনুমোদনের ক্ষমতা নির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
উন্নয়ন বাজেটে বড় পরিবর্তন
উন্নয়ন বাজেটের আওতায় সিভিল পূর্ত কাজের ক্ষেত্রে একজন অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী এখন থেকে সর্বোচ্চ ১০ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্রয়চুক্তি অনুমোদন করতে পারবেন। একই খাতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ৫ কোটি টাকা এবং নির্বাহী প্রকৌশলী ১ কোটি টাকা পর্যন্ত আর্থিক ক্ষমতা পেয়েছেন। ই/এম (ইলেকট্রো-মেকানিক্যাল) পূর্ত কাজের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর ক্ষমতা ৮ কোটি টাকা এবং পণ্য ও সরঞ্জামাদি ক্রয়ে ৩ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
পরিচালনা বাজেটের আর্থিক সীমা
পরিচালনা বাজেটের আওতায় সিভিল ও ই/এম কাজের জন্য অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীকে ১ কোটি টাকা পর্যন্ত ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। এই খাতে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ২৫ থেকে ৩০ লক্ষ এবং নির্বাহী প্রকৌশলী ৩ লক্ষ টাকা পর্যন্ত ব্যয় অনুমোদন করতে পারবেন। এছাড়া ভৌত সেবা ক্রয়চুক্তি অনুমোদনের ক্ষেত্রে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীর ক্ষমতা ৭৫ লক্ষ টাকা।
পরিত্যক্ত স্থাপনা ও জমি ইজারা
অফিস আদেশে ব্যবহার অযোগ্য পরিত্যক্ত ভবন বা স্থাপনা নিষ্পত্তি এবং সরকারি ভূমি বা ক্যান্টিন ইজারার বিষয়েও ক্ষমতা স্পষ্ট করা হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে জরাজীর্ণ ভবন বিক্রয় বা ইজারা চুক্তিতে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী ৪ লক্ষ, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী ২ লক্ষ এবং নির্বাহী প্রকৌশলী ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত অনুমোদনের এখতিয়ার রাখবেন।
গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনা
আদেশে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে:
-
কারিগরি মঞ্জুরী (Technical Sanction): ক্রয়চুক্তি অনুমোদনের আর্থিক সীমা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট প্রকৌশলীরা কারিগরি মঞ্জুরী ও দাপ্তরিক প্রাক্কলিত ব্যয় অনুমোদনের ক্ষমতা পাবেন। তবে অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলীদের ক্ষেত্রে কারিগরি মঞ্জুরীর কোনো ঊর্ধ্বসীমা প্রযোজ্য হবে না।
-
বিধিবিধান অনুসরণ: এই ক্ষমতা প্রয়োগের ক্ষেত্রে পিপিএ-২০০৬ এবং পিপিআর-২০০৮ এর সকল বিধিবিধান ও পরবর্তী সংশোধনীসমূহ আবশ্যিকভাবে পালন করতে হবে।
-
পূর্ববর্তী আদেশের কার্যকারিতা: নতুন এই আদেশের সাথে পূর্ববর্তী কোনো আদেশের সাংঘর্ষিক কিছু থাকলে তা বাতিল বলে গণ্য হবে।
প্রকৌশলীদের এই আর্থিক ক্ষমতা বৃদ্ধির ফলে গণপূর্তের উন্নয়ন প্রকল্পগুলো আরও দ্রুত বাস্তবায়িত হবে এবং মাঠ পর্যায়ের কাজে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

