সরকারি আপডেট নিউজ

নবম পে স্কেল ২০২৬ : প্রথম ধাপেই শতভাগ বেসিক বাস্তবায়নের দাবি সরকারি কর্মচারীদের

দীর্ঘ ১১ বছর অপেক্ষার পর নবম পে স্কেল বাস্তবায়নের সরকারি উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছে বাংলাদেশ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি। তবে এই পে স্কেল তিন ধাপে বাস্তবায়নের যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, তা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সংগঠনের নেতারা। জীবনযাত্রার আকাশচুম্বী ব্যয় এবং দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির কথা বিবেচনা করে পে স্কেল বাস্তবায়নের প্রথম ধাপেই শতভাগ বেসিক (মূল বেতন) কার্যকর করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

রবিবার (৩১ মে) সংগঠনের আহ্বায়ক আবদুল মালেক ও সদস্যসচিব আশিকুল ইসলামের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানানো হয়।

কেন শতভাগ বেসিকের দাবি?

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১১ বছরে সরকারি কর্মচারীদের বেতনে কোনো মৌলিক পরিবর্তন আনা হয়নি। অথচ এই দীর্ঘ সময়ে নিত্যপণ্যের দাম বহুগুণ বেড়েছে, যা এখন নিম্ন ও মধ্যম আয়ের কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতার বাইরে। পরিস্থিতির চাপে অনেক সরকারি কর্মচারী বাধ্য হয়ে চাকরির পাশাপাশি বাড়তি কাজ করছেন, যা তাদের জন্য অত্যন্ত সম্মানহানিকর।

নেতারা আরও জানান, বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি পে স্কেলের প্রথম ধাপে কেবল ৫০ শতাংশ বেসিক বৃদ্ধি করা হয় এবং এর বিপরীতে চলমান ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়, তবে কর্মচারীদের প্রকৃত আয় খুব একটা বাড়বে না। এতে বাজারের উচ্চমূল্যের সাথে তাল মিলিয়ে চলতে তারা চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়বেন।

পে স্কেল বাস্তবায়নে সমিতির প্রস্তাবনা

সংগঠনের নেতারা একটি ভারসাম্যপূর্ণ প্রস্তাবনা তুলে ধরেছেন:

  • প্রথম ধাপ: শতভাগ বেসিক বাস্তবায়ন করা এবং এর সাথে বর্তমানে প্রাপ্ত ১৫ শতাংশ বিশেষ ভাতা সমন্বয় করা।

  • পরবর্তী ধাপসমূহ: দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে দ্বিতীয় ধাপে বাসা ভাড়াসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ভাতা এবং তৃতীয় ধাপে অবশিষ্ট ভাতাসমূহ কার্যকর করা।

ব্যবসায়ীদের কারসাজি ও দীর্ঘমেয়াদী সংকটের আশঙ্কা

বিজ্ঞপ্তিতে অভিযোগ করা হয়েছে, তিন বছর ধরে ধাপে ধাপে পে স্কেল বাস্তবায়ন করা হলে ব্যবসায়ীরা প্রতিটি ধাপকে কেন্দ্র করে বারবার নিত্যপণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ পাবে। এতে বেতন বাড়ার হারের চেয়ে বাজারে জিনিসপত্রের দাম বেশি হারে বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। নেতারা প্রশ্ন তোলেন, “১১ বছর পর যদি একটি পে স্কেল বাস্তবায়ন করতেই তিন বছর সময় লাগে, তবে পরবর্তী পে স্কেল পেতে কত বছর অপেক্ষা করতে হবে?”

তারা আরও সতর্ক করে বলেন, প্রথম ধাপে পূর্ণাঙ্গ বেসিক কার্যকর না করে কেবল ১৫ শতাংশ ভাতা প্রত্যাহার বা সমন্বয় করা হলে তা হবে একটি ‘আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত’, যা সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ও ক্ষোভের জন্ম দেবে।

পরিশেষে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আস্থা পুনর্ব্যক্ত করে সংগঠনের নেতারা বলেন, অতীতের যেকোনো সরকারের চেয়ে সেরা পে স্কেল উপহার দেওয়ার সক্ষমতা বর্তমান সরকারের রয়েছে। তাই প্রশাসনিক ভারসাম্য রক্ষা ও কর্মচারীদের জীবনমান নিশ্চিত করতে প্রথম ধাপেই শতভাগ বেসিক বাস্তবায়নের জন্য সরকারের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী মহলের সুদৃষ্টি কামনা করেছেন তারা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *