৯ম পে স্কেল নিউজ

আগস্টের মধ্যেই নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের দাবি, জানুয়ারি-জুনে অবসরপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্তিরও আহ্বান

নবম জাতীয় পে-স্কেলের গেজেট দ্রুত প্রকাশের দাবির পাশাপাশি ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাসের মধ্যে সরকারি চাকরি থেকে পূর্ণ অবসরে যাওয়া কর্মকর্তা-কর্মচারীদেরও নতুন পে-স্কেলের আওতায় আনার দাবি জোরালো হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, এটি বাস্তবায়িত না হলে ওই সময়ে অবসরে যাওয়া হাজারো অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী চরম বৈষম্যের শিকার হবেন।

সম্প্রতি সরকারি চাকরিজীবীদের বিভিন্ন সংগঠন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে আলোচনা বাড়তে দেখা গেছে। সেখানে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত নেতৃবৃন্দকে অভিনন্দন জানিয়ে দ্রুত গেজেট প্রকাশের দাবি জানানো হয়। একই সঙ্গে অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের স্বার্থ বিবেচনায় বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

আগস্টের মধ্যেই গেজেট প্রকাশের দাবি

দাবিদারদের মতে, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নবম পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শেষ পর্যায়ে রয়েছে। তাই আর বিলম্ব না করে আগামী আগস্ট মাসের মধ্যেই গেজেট প্রকাশ করা উচিত। এতে কর্মরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পাশাপাশি অবসর-উত্তর সুবিধা সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলোও দ্রুত নিষ্পত্তি হবে।

তাদের বক্তব্য, নতুন পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার বিষয়ে ইতোমধ্যে বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম এগিয়েছে। এখন দ্রুত গেজেট প্রকাশই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

জানুয়ারি-জুনে অবসরপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্তির দাবি

দাবির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত যারা সরকারি চাকরি থেকে পূর্ণ অবসরে গেছেন, তাদেরও নবম পে-স্কেলের আওতায় আনা।

অবসরপ্রাপ্তদের যুক্তি, নতুন পে-স্কেল কার্যকরের সময়সীমা ও গেজেট প্রকাশে প্রশাসনিক বিলম্বের কারণে তারা যেন আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন। অন্যথায় একই বছরে কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীদের মধ্যে বড় ধরনের বৈষম্য সৃষ্টি হবে।

তাদের মতে, মাত্র কয়েক মাসের ব্যবধানে অবসরে যাওয়ার কারণে যদি কেউ নতুন পে-স্কেলের সুবিধা থেকে বঞ্চিত হন, তবে তা ন্যায়সঙ্গত হবে না। বিশেষ করে পেনশন, গ্র্যাচুইটি এবং অন্যান্য অবসর-উত্তর আর্থিক সুবিধার ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

সরকারের প্রতি বিনীত অনুরোধ

আন্দোলনের সমর্থক ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারীরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, মানবিক ও ন্যায়সংগত দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত। তারা আশা করছেন, সরকার নবম পে-স্কেলের গেজেট দ্রুত প্রকাশের পাশাপাশি ২০২৬ সালের প্রথম ছয় মাসে অবসরপ্রাপ্তদের জন্যও উপযুক্ত নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

তাদের মতে, এতে দীর্ঘদিন রাষ্ট্রের সেবা প্রদানকারী কর্মচারীদের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের পাশাপাশি সম্ভাব্য বৈষম্যও দূর হবে।

বিশ্লেষণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, নতুন পে-স্কেল কার্যকরের ক্ষেত্রে কার্যকর হওয়ার তারিখ (Effective Date) এবং গেজেট প্রকাশের তারিখ—এই দুটি বিষয় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদি সরকার কার্যকর হওয়ার তারিখ পূর্ববর্তী কোনো নির্দিষ্ট সময় থেকে নির্ধারণ করে এবং সে অনুযায়ী অবসরপ্রাপ্তদের জন্য পৃথক নির্দেশনা দেয়, তাহলে জানুয়ারি-জুন সময়কালে অবসরে যাওয়া কর্মচারীরাও সুবিধা পেতে পারেন। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণভাবে সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত এবং গেজেটের বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

এ কারণে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, নবম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশের সময় অবসরপ্রাপ্তদের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে, যাতে কোনো শ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারী বৈষম্যের শিকার না হন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *