শিক্ষা ও উপবৃত্তি ২০২৬

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসা অনুদান: আবেদন ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত অসচ্ছল ও মেধাবী শিক্ষার্থীদের এককালীন চিকিৎসা অনুদান দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট। এ লক্ষ্যে ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক ও সমমান পর্যায়ে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে সেপ্টেম্বর–অক্টোবর ২০২৬ পর্যায়ের অনলাইন আবেদন আহ্বান করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের উপবৃত্তি শাখা থেকে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে জারি করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে স্মারক নম্বর ৩৭.২৪.০০০০.০০০.৩৯.০০১.২০.২৫ উল্লেখ রয়েছে।

কারা এই চিকিৎসা অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন ষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক ও সমমান পর্যায়ের শিক্ষার্থীরা এককালীন চিকিৎসা অনুদানের জন্য আবেদন করতে পারবেন।

তবে শুধু দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করেই আবেদন গ্রহণ করা হবে। দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার সঙ্গে সম্পর্কিত নয়—এমন অন্য কোনো চিকিৎসা বা আর্থিক সহায়তার আবেদন এই কার্যক্রমের আওতায় গ্রহণযোগ্য হবে না।

শিক্ষার্থীকে দুর্ঘটনার কারণে গুরুতর আহত হতে হবে এবং হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের প্রমাণ থাকতে হবে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়া এবং হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহণের সময়কাল সংশ্লিষ্ট নির্দেশিকার নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে হতে হবে।

অনলাইনে আবেদন করতে হবে

চিকিৎসা অনুদানের আবেদন সম্পূর্ণভাবে অনলাইনে গ্রহণ করা হবে। এজন্য শিক্ষার্থীকে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ই-চিকিৎসা অনুদান ম্যানেজমেন্ট সিস্টেমে প্রবেশ করে আবেদন করতে হবে।

আবেদনের জন্য বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া লিংক:

ই-চিকিৎসা অনুদান আবেদন সিস্টেম

হার্ড কপি ট্রাস্টে পাঠানোর প্রয়োজন নেই। অর্থাৎ আবেদনকারী অনলাইনে প্রয়োজনীয় তথ্য ও কাগজপত্র সঠিকভাবে আপলোড করলেই আবেদন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হবে।

আবেদনের জন্য মেধার শর্ত

বিজ্ঞপ্তিতে চিকিৎসা অনুদানের আবেদনকারীদের মেধার বিষয়েও নির্দিষ্ট শর্ত দেওয়া হয়েছে।

মেধাবী শিক্ষার্থী হিসেবে আবেদন করতে হলে—

  • পূর্ববর্তী শ্রেণিতে ন্যূনতম ৬০ শতাংশ নম্বর থাকতে হবে; অথবা
  • এসএসসি ও এইচএসসি বা সমমান পর্যায়ে জিপিএ ৫.০০-এর ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৩.৫০ অর্জন করতে হবে;
  • স্নাতক ও সমমান পর্যায়ে জিপিএ ৪.০০-এর ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৩.০০ অর্জনের প্রমাণ দিতে হবে।

প্রযোজ্য ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষার ফলাফল বা নম্বরপত্রের কপি অনলাইনে আপলোড করতে হবে।

অসচ্ছলতার প্রমাণও দিতে হবে

শুধু মেধার শর্ত পূরণ করলেই হবে না; শিক্ষার্থীকে অসচ্ছল পরিবারের সদস্য হওয়াও প্রমাণ করতে হবে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি-বেসরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত দপ্তর বা সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত জাতীয় বেতন স্কেল ২০১৫ অনুযায়ী ১৩ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের সন্তান হলে আবেদনপত্রের সঙ্গে অফিসপ্রধান কর্তৃক দেওয়া বাবা/মা/অভিভাবকের বেতন গ্রেড সংক্রান্ত প্রত্যয়নপত্রের কপি আপলোড করতে হবে।

অন্য শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান কর্তৃক দেওয়া বাবা, মা বা অভিভাবকের ‘দরিদ্র/অসচ্ছল’ মর্মে প্রত্যয়নপত্র জমা দিতে হবে।

এ ছাড়া বিজ্ঞপ্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ আর্থিক শর্ত উল্লেখ করা হয়েছে—অন্যান্য ক্ষেত্রে আবেদনকারীর বাবা, মা বা অভিভাবকের বার্ষিক আয় ২ লাখ টাকার কম হতে হবে।

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হওয়ার প্রমাণ বাধ্যতামূলক

চিকিৎসা অনুদানের আবেদনে দুর্ঘটনার বিষয়টি প্রমাণ করার জন্য যথাযথ চিকিৎসা সংক্রান্ত কাগজপত্র দিতে হবে।

বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দুর্ঘটনার প্রমাণ হিসেবে জেলা পর্যায়ে সিভিল সার্জন/সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক অথবা উপজেলা পর্যায়ে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা কর্তৃক ‘গুরুতর আহত’-এর সমর্থনে প্রত্যয়নকৃত শিক্ষার্থীর চিকিৎসা সনদের কপি আপলোড করতে হবে।

অর্থাৎ শুধু দুর্ঘটনার কথা উল্লেখ করলেই আবেদন সম্পূর্ণ হবে না; গুরুতর আহত হওয়ার বিষয়টি যথাযথ কর্তৃপক্ষের চিকিৎসা সনদের মাধ্যমে প্রমাণ করতে হবে।

যেসব কাগজপত্র অনলাইনে আপলোড করতে হবে

বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত ফরমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বা বিভাগীয় প্রধানের প্রত্যয়নসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র অনলাইনে আপলোড করার কথা বলা হয়েছে।

প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের মধ্যে রয়েছে—

  1. শিক্ষা প্রতিষ্ঠান/বিভাগীয় প্রধানের প্রত্যয়ন;
  2. শিক্ষার্থীর জন্মনিবন্ধন সনদের কপি;
  3. বাবা ও মায়ের এনআইডির কপি;
  4. শিক্ষার্থীর এক কপি ছবি;
  5. শিক্ষার্থীর স্বাক্ষর;
  6. মেধার যোগ্যতা প্রমাণের প্রয়োজনীয় কাগজপত্র;
  7. বাবা/মা/অভিভাবকের অসচ্ছলতার প্রত্যয়ন;
  8. গুরুতর আহত হওয়ার সমর্থনে চিকিৎসা সনদ;
  9. অনলাইন ব্যাংক হিসাবের প্রয়োজনীয় তথ্য।

প্রতিটি কাগজপত্রের স্পষ্ট ও সম্পূর্ণ কপি আপলোড করতে হবে। অস্পষ্ট, অসম্পূর্ণ বা প্রয়োজনীয় তথ্যবিহীন কাগজপত্র দিলে আবেদন গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।

ব্যাংক হিসাবের তথ্য দেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা

চিকিৎসা অনুদানের টাকা পাওয়ার ক্ষেত্রে ব্যাংক হিসাবের তথ্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, আবেদনকারী শিক্ষার্থী অথবা তার বাবা/মায়ের নিজস্ব অনলাইন ব্যাংক অ্যাকাউন্টের পূর্ণাঙ্গ নম্বর এবং ব্যবহৃত মোবাইল নম্বর উল্লেখ করতে হবে।

ব্যাংক হিসাবের প্রমাণ হিসেবে চেকের ভিতরের পাতা বা ব্যাংক স্টেটমেন্টের তথ্য অনলাইনে আপলোড করতে হবে।

তবে শিক্ষার্থী বা বাবা-মায়ের ব্যাংক হিসাব ছাড়া অন্য কারও ব্যাংক হিসাব গ্রহণ করা হবে না। বাবা-মা মৃত্যুবরণ করলে অথবা অন্য কোনো কারণে শিক্ষার্থী সম্পূর্ণভাবে যার ওপর নির্ভরশীল, সেই অভিভাবকের ব্যাংক হিসাব বিবেচনা করা যেতে পারে।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ব্যাংক হিসাব নম্বর ভুল বা অসম্পূর্ণ হলে অনুদানের অর্থ ফেরত চলে যেতে পারে এবং পরবর্তীতে ওই অর্থ পুনরায় পাঠানো সম্ভব নাও হতে পারে। তাই আবেদন করার সময় ব্যাংক হিসাবের তথ্য বিশেষভাবে যাচাই করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সিস্টেমে না থাকলে কী করতে হবে

অনলাইনে আবেদন করার সময় কোনো শিক্ষার্থী তার শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্বাচন করার ক্ষেত্রে সমস্যায় পড়লে বিষয়টি সমাধানের ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, অনলাইন আবেদনের সময় কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান তালিকায় পাওয়া না গেলে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রধান বা বিভাগীয় প্রধানকে প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব EIIN নম্বরসহ প্রয়োজনীয় তথ্য প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবর পাঠাতে হবে।

প্রয়োজনে নির্ধারিত ঠিকানায় আবেদন পাঠানো যাবে অথবা বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া ad.stipend@pmeat.gov.bd ই-মেইলের মাধ্যমে তথ্য পাঠানোর জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।

আবেদন করার শেষ সময় ৩১ অক্টোবর

সেপ্টেম্বর–অক্টোবর ২০২৬ পর্যায়ের এই এককালীন চিকিৎসা অনুদানের জন্য অনলাইন আবেদন ৩১ অক্টোবর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত করা যাবে।

অর্থাৎ নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার আগেই আবেদন সম্পন্ন করতে হবে। শেষ মুহূর্তে সার্ভারে চাপ বা কাগজপত্রের সমস্যার কারণে আবেদন আটকে যাওয়ার ঝুঁকি এড়াতে যোগ্য শিক্ষার্থীদের আগে থেকেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র প্রস্তুত করে আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য এক নজরে

বিষয়তথ্য
অনুদানের ধরনএককালীন চিকিৎসা অনুদান
প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানপ্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা সহায়তা ট্রাস্ট
যোগ্য শিক্ষার্থীষষ্ঠ শ্রেণি থেকে স্নাতক ও সমমান
আহতের ধরনদুর্ঘটনায় গুরুতর আহত
আবেদনের পদ্ধতিসম্পূর্ণ অনলাইন
আবেদনের পর্যায়সেপ্টেম্বর–অক্টোবর ২০২৬
আবেদনের শেষ সময়৩১ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:৫৯ মিনিট
হার্ড কপিট্রাস্টে পাঠানোর প্রয়োজন নেই
আবেদন লিংকই-চিকিৎসা অনুদান ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম
আয় সংক্রান্ত শর্তঅন্যান্য ক্ষেত্রে বাবা/মা/অভিভাবকের বার্ষিক আয় ২ লাখ টাকার কম
ব্যাংক হিসাবআবেদনকারী শিক্ষার্থী/বাবা/মা বা প্রযোজ্য অভিভাবকের নিজস্ব হিসাব

আবেদনকারীদের জন্য বিশেষ সতর্কতা

এই অনুদানটি সাধারণ চিকিৎসা সহায়তার জন্য নয়; দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দিষ্ট এককালীন চিকিৎসা অনুদান। তাই আবেদন করার আগে যোগ্যতার প্রতিটি শর্ত মিলিয়ে দেখা জরুরি।

বিশেষ করে মেধার যোগ্যতা, অসচ্ছলতার প্রত্যয়ন, গুরুতর আহত হওয়ার চিকিৎসা সনদ, জন্মনিবন্ধন, এনআইডি এবং ব্যাংক হিসাবের তথ্য সঠিকভাবে প্রস্তুত করতে হবে। কোনো কাগজের কপি অস্পষ্ট হলে বা প্রয়োজনীয় তথ্য অসম্পূর্ণ থাকলে আবেদন গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে।

সবশেষে, ৩১ অক্টোবর ২০২৬ রাত ১১টা ৫৯ মিনিটের পর সেপ্টেম্বর–অক্টোবর ২০২৬ পর্যায়ের আবেদন গ্রহণ করা হবে না—বিজ্ঞপ্তিতে নির্ধারিত সময়সীমা মেনে অনলাইনে আবেদন সম্পন্ন করাই হবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।

সোর্স

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *