Latest News

টেলিটকের আধুনিকায়ন ও সরকারি সেবা একীভূত করার প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর কাছে, ১০ দফা সুপারিশে রাজস্ব বৃদ্ধি ও ডিজিটাল সেবার রূপরেখা

রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন মোবাইল অপারেটর টেলিটক বাংলাদেশ লিমিটেডকে আরও আধুনিক, লাভজনক এবং জনবান্ধব প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরের লক্ষ্যে একটি বিস্তৃত প্রস্তাবনা প্রধানমন্ত্রীর কাছে উপস্থাপন করা হয়েছে। ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জনাব তারেক রহমানের পক্ষ থেকে দেওয়া আবেদনপত্রে টেলিটকের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি সেবা একীভূত করার ১০ দফা সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।

আবেদনপত্রে বলা হয়েছে, দেশে ডিজিটাল সেবার চাহিদা দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই বাস্তবতায় রাষ্ট্রীয় মোবাইল অপারেটর টেলিটককে কেন্দ্র করে সরকারি বিভিন্ন সেবা পরিচালিত হলে একদিকে নাগরিকরা সহজ, নিরাপদ ও স্বচ্ছ সেবা পাবেন, অন্যদিকে সরকারের রাজস্ব আয় উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে এবং রাষ্ট্রীয় ডিজিটাল অবকাঠামো আরও শক্তিশালী হবে।

ভূমি সেবা ডিজিটালাইজেশনের প্রস্তাব

প্রস্তাবে বলা হয়েছে, জমির খতিয়ান, নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর এবং ভূমি সংক্রান্ত বিভিন্ন আবেদন টেলিটক নম্বরের মাধ্যমে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করা যেতে পারে। এতে সাধারণ মানুষ সহজে সেবা পাবেন এবং দালালচক্রের প্রভাব ও অনিয়ম অনেকাংশে কমে আসবে।

পাসপোর্ট ও জাতীয় পরিচয়পত্র সেবায় টেলিটকের ব্যবহার

আবেদনপত্রে পাসপোর্ট আবেদন, ফি পরিশোধ, আবেদন সংক্রান্ত তথ্য যাচাই এবং জাতীয় পরিচয়পত্র সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সেবা টেলিটক সিমের মাধ্যমে পরিচালনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে নাগরিকদের জন্য আরও নিরাপদ ও সমন্বিত ডিজিটাল সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে উল্লেখ করা হয়।

সরকারি চাকরির আবেদন বাধ্যতামূলক করার সুপারিশ

সরকারি চাকরির আবেদন, পরীক্ষার ফি জমা এবং প্রবেশপত্র সংগ্রহের ক্ষেত্রে টেলিটক ব্যবহারের বাধ্যতামূলক ব্যবস্থা চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। এতে টেলিটকের গ্রাহক সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ার পাশাপাশি সরকারের আয়ও বাড়বে বলে দাবি করা হয়েছে।

শিক্ষা খাতে সমন্বিত ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম

স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি আবেদন, ফলাফল প্রকাশ, অনলাইন ক্লাস এবং শিক্ষা-সহায়ক বিভিন্ন সেবা টেলিটক প্ল্যাটফর্মে চালুর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে শিক্ষার্থীরা স্বল্প ব্যয়ে ডিজিটাল শিক্ষা সেবা গ্রহণ করতে পারবেন বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যসেবায় টেলিমেডিসিনের প্রস্তাব

সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রের তথ্য, চিকিৎসা সেবা এবং টেলিমেডিসিন সুবিধা টেলিটকের মাধ্যমে পরিচালনার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে রোগীরা দ্রুত স্বাস্থ্যসেবা ও প্রয়োজনীয় তথ্য পেতে পারবেন বলে মত দেওয়া হয়েছে।

কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে ডিজিটাল সংযোগ

কৃষি ভর্তুকি, কৃষিঋণ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, সার ও বীজ সংক্রান্ত তথ্য টেলিটকের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রস্তাবও রয়েছে। আবেদনকারীর মতে, এতে গ্রামীণ অর্থনীতি আরও শক্তিশালী হবে এবং কৃষকরা সরাসরি উপকৃত হবেন।

পরিবারভিত্তিক ডিজিটাল কার্ড

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, ফ্যামিলি কার্ড, বয়স্ক ভাতা এবং অন্যান্য সরকারি সহায়তা টেলিটক সিমের সঙ্গে সংযুক্ত করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে ভুয়া সুবিধাভোগী শনাক্ত করা সহজ হবে এবং সরকারি সহায়তা বিতরণে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি পাবে বলে দাবি করা হয়েছে।

সরকারি যোগাযোগ ব্যবস্থায় টেলিটক

সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অফিসিয়াল যোগাযোগ টেলিটক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালনার সুপারিশ করা হয়েছে। এতে নিরাপদ যোগাযোগ নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় ব্যয়ও কমানো সম্ভব হবে বলে আবেদনপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

ডিজিটাল ওয়ালেট ও অনলাইন পেমেন্ট

টেলিটকের মাধ্যমে ডিজিটাল ওয়ালেট, বিল পরিশোধ, টিকিট ক্রয় এবং বিভিন্ন অনলাইন পেমেন্ট সেবা চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে। এতে সাধারণ মানুষ সহজে আর্থিক লেনদেন করতে পারবেন বলে মত প্রকাশ করা হয়েছে।

সাশ্রয়ী ইন্টারনেট প্যাকেজ

শিক্ষার্থী, কৃষক এবং নিম্ন আয়ের মানুষের জন্য স্বল্পমূল্যের বিশেষ ইন্টারনেট প্যাকেজ চালুর সুপারিশ করা হয়েছে। এর মাধ্যমে টেলিটকের গ্রাহকসংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে বলে আবেদনকারী মনে করেন।

সম্ভাব্য সুফল

আবেদনপত্রে দাবি করা হয়েছে, এসব প্রস্তাব বাস্তবায়িত হলে—

  • টেলিটকের গ্রাহক ও সিম বিক্রি উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি পাবে।
  • সরকারের রাজস্ব আয় বাড়বে।
  • সরকারি ডিজিটাল সেবা আরও বিস্তৃত ও কার্যকর হবে।
  • সরকারি সেবায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বৃদ্ধি পাবে।
  • গ্রামীণ জনগোষ্ঠী সহজে আধুনিক ডিজিটাল সেবার আওতায় আসবে।
  • বিদেশি মোবাইল অপারেটরের ওপর নির্ভরশীলতা কমে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।

প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা

আবেদনপত্রে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সদয় বিবেচনার জন্য অনুরোধ জানিয়ে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় নীতিগত সিদ্ধান্ত ও উদ্যোগ গ্রহণের মাধ্যমে টেলিটককে একটি আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর, লাভজনক এবং জনগণের আস্থাভাজন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা সম্ভব।

উল্লেখ্য, এটি একটি আবেদনপত্রে উত্থাপিত প্রস্তাব ও সুপারিশের ভিত্তিতে প্রস্তুত প্রতিবেদন। আবেদনপত্রে উল্লেখিত প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের বিষয়ে সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো সিদ্ধান্ত বা ঘোষণা প্রকাশিত হয়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *