Latest News

ফিডার পদে পূর্ণ মেয়াদ শেষ না হলেও কি পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু করা যায়? বিধিমালা ও বাস্তবতা নিয়ে আলোচনা

সরকারি চাকরিতে পদোন্নতির ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন প্রায়ই সামনে আসে—ফিডার (Feeder) পদে নির্ধারিত পূর্ণকালীন চাকরির মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু করা যায় কি না। এ বিষয়ে চাকরিজীবীদের মধ্যে বিভিন্ন মত থাকলেও প্রশাসনিক বিধান ও বাস্তব প্রয়োগ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, নির্দিষ্ট কিছু ক্ষেত্রে পূর্ণ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদোন্নতির প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব।

ফিডার পদ কী?

ফিডার পদ হলো এমন একটি নিম্নপদ, যেখানে নির্ধারিত সময় সফলভাবে চাকরি সম্পন্ন করার পর কর্মকর্তা পরবর্তী উচ্চপদে পদোন্নতির জন্য যোগ্যতা অর্জন করেন। অধিকাংশ সরকারি নিয়োগ ও পদোন্নতি বিধিমালায় নির্দিষ্ট সময়ের চাকরির অভিজ্ঞতাকে পদোন্নতির অন্যতম শর্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

পূর্ণ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে কি পদোন্নতির কার্যক্রম শুরু করা যায়?

প্রশাসনিক অভিজ্ঞদের মতে, ফিডার পদে নির্ধারিত পূর্ণকালীন মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদোন্নতির প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করা যেতে পারে, যদি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা পদোন্নতির সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় যোগ্যতা অর্জন করতে সক্ষম হন।

এর কারণ হলো, সরকারি পদোন্নতির প্রক্রিয়া সাধারণত দীর্ঘ সময়ের। এতে বিভিন্ন ধাপ সম্পন্ন করতে হয়, যেমন—

  • যোগ্য কর্মকর্তাদের তালিকা প্রস্তুত;
  • এসিআর (বার্ষিক গোপনীয় প্রতিবেদন) ও অন্যান্য নথি যাচাই;
  • বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির (ডিপিসি) সভা;
  • জনপ্রশাসন বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন;
  • প্রয়োজনীয় ক্ষেত্রে সরকারি কর্ম কমিশন (যদি প্রযোজ্য হয়) বা অন্যান্য কর্তৃপক্ষের মতামত;
  • চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি।

এসব ধাপ শেষ হতে অনেক সময় লেগে যায়। ফলে প্রশাসনিক কার্যক্রম আগেভাগে শুরু করা হলেও, পদোন্নতির কার্যকর আদেশ সাধারণত তখনই জারি করা হয়, যখন কর্মকর্তা বিধিমালায় নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করেন।

রাষ্ট্রপতির প্রমার্জনের বিষয়টি কী?

আলোচনায় আরও একটি বিষয় উঠে এসেছে যে, বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয় বা প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সুপারিশ বা অনুরোধের প্রেক্ষাপটে রাষ্ট্রপতি প্রমার্জন (Relaxation) প্রদান করতে পারেন।

তবে এ ধরনের প্রমার্জন কোনো সাধারণ নিয়ম নয়। এটি কেবল বিশেষ প্রশাসনিক প্রয়োজন, জনস্বার্থ বা আইনগত ক্ষমতার আওতায় বিবেচিত হয়। প্রতিটি ক্ষেত্রে পৃথকভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয় এবং সংশ্লিষ্ট বিধিমালা ও সরকারি আদেশের ভিত্তিতেই এ ধরনের অনুমোদন দেওয়া হয়।

কী বলছে বিধিমালা?

সরকারি চাকরির পদোন্নতি মূলত সংশ্লিষ্ট ক্যাডার বা সার্ভিসের নিয়োগ বিধিমালা (Recruitment Rules) এবং পদোন্নতি সংক্রান্ত সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী পরিচালিত হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে বিধিমালায় নির্ধারিত অভিজ্ঞতা ও অন্যান্য যোগ্যতা পদোন্নতির কার্যকর তারিখের আগে অর্জন করা বাধ্যতামূলক।

তবে প্রশাসনিক কার্যক্রম শুরু করার বিষয়ে সব বিধিমালায় একই ধরনের বাধা থাকে না। ফলে সংশ্লিষ্ট সার্ভিসের নিজস্ব বিধিমালা, পদোন্নতি নীতিমালা এবং সরকারি সিদ্ধান্তই চূড়ান্তভাবে প্রযোজ্য হবে।

চাকরিজীবীদের করণীয়

বিশেষজ্ঞদের মতে, পদোন্নতি-সংক্রান্ত যেকোনো বিষয়ে গুজব বা অনানুষ্ঠানিক তথ্যের ওপর নির্ভর না করে সংশ্লিষ্ট সার্ভিসের নিয়োগ বিধিমালা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা এবং অফিসের প্রশাসনিক শাখার মতামত অনুসরণ করা উচিত। কারণ এক সার্ভিসের বিধান অন্য সার্ভিসে প্রযোজ্য নাও হতে পারে।

উপসংহার

সার্বিকভাবে বলা যায়, ফিডার পদে নির্ধারিত পূর্ণ মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই পদোন্নতির প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শুরু করা সম্ভব হতে পারে, কারণ পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে দীর্ঘ সময় লাগে। তবে পদোন্নতির কার্যকর আদেশ জারির সময় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাকে বিধিমালায় নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ করতে হয়। আর বিশেষ পরিস্থিতিতে রাষ্ট্রপতির প্রমার্জনের বিষয়টি সম্পূর্ণ ব্যতিক্রমধর্মী এবং তা সংশ্লিষ্ট আইনি ক্ষমতা ও সরকারি সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভরশীল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *