১ জুলাই থেকেই পে-স্কেলের সুবিধা কার্যকর, গেজেট দেরি হলেও মিলবে বকেয়া—গুজবে কান না দেওয়ার আহ্বান
নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে নানা ধরনের আলোচনা ও গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, বিভিন্ন অনলাইন পোর্টাল ও অনানুষ্ঠানিক সূত্রে প্রকাশিত খবরে বিভ্রান্ত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট মহলের অনেকে। তাদের বক্তব্য, সরকার ইতোমধ্যে ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকরের নীতিগত ঘোষণা দিয়েছে। ফলে প্রশাসনিক কারণে গেজেট প্রকাশে কিছুটা বিলম্ব হলেও কার্যকর হওয়ার নির্ধারিত তারিখ থেকে প্রাপ্য বেতন-ভাতার বকেয়া পরিশোধ করা হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, নতুন পে-স্কেলের ক্ষেত্রে মূল বেতন বৃদ্ধিই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিভিন্ন পর্যায়ে আলোচনায় এসেছে, ১ জুলাই থেকেই নতুন মূল বেতন কার্যকর করার পরিকল্পনা রয়েছে। তবে প্রজ্ঞাপন, সফটওয়্যার হালনাগাদ এবং প্রশাসনিক আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। সে ক্ষেত্রে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক ক্ষতি না করে কার্যকর হওয়ার তারিখ থেকে বেতন পার্থক্যের অর্থ বকেয়া হিসেবে পরিশোধের বিষয়টি বিবেচনায় রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এদিকে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন পত্রিকা, অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পে-স্কেল বাস্তবায়নের সময়সূচি, শতভাগ মূল বেতন এবং গেজেট প্রকাশের সম্ভাব্য তারিখ নিয়ে নানা ধরনের তথ্য প্রচার হচ্ছে। তবে এসব তথ্যের অনেকগুলোই আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত নয়। তাই কেবল সরকারি গেজেট, অর্থ বিভাগ বা সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনকেই চূড়ান্ত তথ্য হিসেবে বিবেচনা করার পরামর্শ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
পে কমিশনের সুপারিশে অধিকাংশ গ্রেডে মূল বেতন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধির প্রস্তাব রয়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে গ্রেডভেদে মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে কোন হার চূড়ান্তভাবে কার্যকর হবে, তা নির্ধারণ করবে সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন ও বাস্তবায়ন নির্দেশনা।
চাকরিজীবীদের একটি বড় অংশের প্রত্যাশা, গেজেট প্রকাশে এক বা দুই মাস সময় লাগলেও কার্যকর হওয়ার তারিখ ১ জুলাই অপরিবর্তিত থাকবে। ফলে বর্ধিত বেতন হাতে পেতে কিছুটা বিলম্ব হলেও প্রাপ্য অর্থ বকেয়া হিসেবে পরিশোধ করা হবে এবং এতে আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কা থাকবে না।
বিশ্লেষকদের মতে, নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সরকারের আনুষ্ঠানিক প্রজ্ঞাপন। তাই গুজব বা যাচাইবিহীন তথ্যের পরিবর্তে সরকারি ঘোষণা প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরাই হবে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য সবচেয়ে যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ।

