বেস্ট দেশী বিনিয়োগ স্কীম ২০২৬ । ১ লক্ষ টাকা কোথায় রাখলে বেশি লাভ হবে?
সাধারণত সঞ্চয়পত্র এবং ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক (মেয়াদি হিসাব) থেকে সবচেয়ে বেশি নিশ্চিত এবং ভালো প্রফিট (মুনাফা) পাওয়া যায়। খাতগুলোর মুনাফার একটি তুলনামূলক ধারণা নিচে দেওয়া হলো, যা আপনাকে সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করবে:
১. সঞ্চয়পত্র (সবচেয়ে বেশি প্রফিট)
সাধারণত সরকারি সব খাতের মধ্যে সঞ্চয়পত্রেই মুনাফার হার সবচেয়ে আকর্ষণীয় হয়ে থাকে।
-
পেনশনার সঞ্চয়পত্র ও পরিবার সঞ্চয়পত্র: এগুলোতে মুনাফার হার সবচেয়ে বেশি (বিনিয়োগের পরিমাণভেদে সাধারণত ১১% থেকে ১১.৫২% পর্যন্ত হয়ে থাকে)।
-
৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র ও বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র: এগুলোর মুনাফার হারও বেশ ভালো (প্রায় ১১.০৪% থেকে ১১.২৮%)।
-
উল্লেখ্য: ১৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করলে স্ল্যাব অনুযায়ী মুনাফার হার কিছুটা কমে আসে।
২. ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক (মেয়াদি হিসাব)
-
ডাকঘরের ৩ বছর মেয়াদি হিসাবে বর্তমানে সর্বোচ্চ ১১.২৮% পর্যন্ত মুনাফা পাওয়া যায় (মেয়াদ শেষে এককালীন তুললে)। এটিও সঞ্চয়পত্রের কাছাকাছি মুনাফা দেয় এবং অত্যন্ত জনপ্রিয়।
৩. সরকারি সুকুক ও ট্রেজারি বন্ড
-
ট্রেজারি বন্ড: এগুলো দীর্ঘমেয়াদি (৫ থেকে ২০ বছর) বিনিয়োগ। বর্তমানে এগুলোর ইল্ড বা মুনাফার হার বেশ ভালো (প্রায় ৮.৫% থেকে ১০.৫%+ পর্যন্ত উঠছে মার্কেট রেট অনুযায়ী), তবে এটি সঞ্চয়পত্রের মতো প্রতি মাসে বা নির্দিষ্ট নিয়মে একদম স্থায়ী থাকে না, অকশন ও মার্কেট রেটের ওপর নির্ভর করে।
-
সরকারি সুকুক: এটি শরিয়াহভিত্তিক বিনিয়োগ। এর প্রফিট রেটও সাধারণত ৮% থেকে ৯% বা তার কাছাকাছি হয়ে থাকে।
৪. প্রবাসীদের জন্য বন্ড (প্রবাসী বন্ড)
-
আপনি যদি প্রবাসী হন, তবে ওয়েজ আর্নার কর্পোরেট বন্ড, ইউএস ডলার প্রিমিয়াম বন্ড ও ইনভেস্টমেন্ট বন্ড-এ বিনিয়োগ করতে পারেন। এগুলোতেও ডলার ও টাকার অঙ্কে বেশ ভালো এবং আকর্ষণীয় রিটার্ন পাওয়া যায়।
সারসংক্ষেপ: > আপনি যদি দেশের ভেতর থেকে সাধারণ বিনিয়োগকারী হিসেবে সবচেয়ে বেশি এবং নিশ্চিত প্রতি মাসের/৩ মাসের মুনাফা চান, তবে পরিবার সঞ্চয়পত্র (মহিলাদের জন্য ও নির্দিষ্ট পুরুষদের জন্য) বা পেনশনার সঞ্চয়পত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) অথবা ৩ বছর মেয়াদি ডাকঘর সঞ্চয় হিসাব হবে আপনার জন্য সেরা অপশন।
প্রতি লাখে কোন স্কীমে কত লাভ আসে?
২০২৬ সালের জানুয়ারি থেকে সরকার সঞ্চয়পত্রের মুনাফার হার কিছুটা পুনর্বিন্যাস করেছে। বর্তমানে কোনো গ্রাহকের মোট বিনিয়োগ ৫ লাখ টাকা বা তার নিচে থাকলে প্রফিট বা মুনাফার হার সবচেয়ে বেশি পাওয়া যায়, কারণ এই সীমার মধ্যে উৎসে কর (Source Tax) মাত্র ৫% কাটা হয়। ৫ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ করলে কর ১০% কাটায় লাভের পরিমাণ কিছুটা কমে আসে।
নিচে প্রতি ১ লাখ টাকা বিনিয়োগে প্রধান স্কিমগুলোর একদম সর্বশেষ (২০২৬ সালের) নিট লাভ বা প্রফিটের হিসাব দেওয়া হলো:
১. পরিবার সঞ্চয়পত্র (৫ বছর মেয়াদি)
এটি প্রতি মাসে মুনাফা দেয়। (১৮ বছর বা তার বেশি বয়সী নারী, ৬৫ বছরের বেশি বয়সী যেকোনো নাগরিক এবং শারীরিক প্রতিবন্ধীদের জন্য প্রযোজ্য)।
-
৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ থাকলে: প্রতি ১ লাখে মাসে নিট লাভ পাবেন প্রায় ৮৩৪ টাকা।
-
৫ লাখের বেশি কিন্তু সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে: প্রতি ১ লাখে মাসে পাবেন প্রায় ৭৯০ টাকা।
-
সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে: প্রতি ১ লাখে মাসে পাবেন প্রায় ৭৮০ টাকা।
২. পেনশনার সঞ্চয়পত্র (৫ বছর মেয়াদি)
এটিও প্রতি মাসে মুনাফা দেয় এবং বর্তমানে এতেই সবচেয়ে বেশি প্রফিট রেট (১০.৫৯%) রাখা হয়েছে। (অবসরপ্রাপ্ত সরকারি, আধাসরকারি বা স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রযোজ্য)।
-
৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ থাকলে: প্রতি ১ লাখে মাসে নিট লাভ পাবেন প্রায় ৮৩৮ টাকা।
-
৫ লাখের বেশি কিন্তু সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে: প্রতি ১ লাখে মাসে পাবেন প্রায় ৭৯৪ টাকা।
-
সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে: প্রতি ১ লাখে মাসে পাবেন প্রায় ৭৮০ টাকা।
৩. ৩ মাস অন্তর মুনাফাভিত্তিক সঞ্চয়পত্র (৩ বছর মেয়াদি)
এই স্কিমে প্রতি ৩ মাস পরপর মুনাফা অ্যাকাউন্টে জমা হয়। এটি সকল প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক কিনতে পারেন।
-
৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ থাকলে: প্রতি ১ লাখে ৩ মাস পর পর নিট লাভ পাবেন প্রায় ২,৪৮৯ টাকা।
-
৫ লাখের বেশি কিন্তু সাড়ে ৭ লাখ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে: প্রতি ১ লাখে ৩ মাস পর পর পাবেন প্রায় ২,৩৫৮ টাকা।
-
সাড়ে ৭ লাখ টাকার বেশি বিনিয়োগ থাকলে: প্রতি ১ লাখে ৩ মাস পর পর পাবেন প্রায় ২,৩৪৬ টাকা।
৪. ডাকঘর সঞ্চয় ব্যাংক (মেয়াদি হিসাব – ৩ বছর)
ডাকঘরের মেয়াদি হিসাবে মুনাফা প্রতি মাসে দেওয়া হয় না, মেয়াদ শেষ হলে এককালীন আসল টাকার সাথে তোলা যায়।
-
৩ বছর মেয়াদ পূর্ণ হলে: প্রতি ১ লাখে ৩ বছর শেষে মোট মুনাফা পাওয়া যায় প্রায় ২৭,০০০ টাকা থেকে ৩৩,০০০ টাকার মতো (আপনার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ ও স্ল্যাবের ওপর ভিত্তি করে)।
জরুরি নোট: > ১. আপনার যদি আগের (২০২৬ সালের জানুয়ারির আগে) কেনা কোনো সঞ্চয়পত্র থাকে, তবে সেটির মেয়াদ পূর্ণ হওয়া পর্যন্ত আপনি আগের পুরোনো রেটেই (যা প্রায় ৯১২ টাকা বা ৮৬৪ টাকা ছিল) লাভ পেতে থাকবেন। নতুন নিয়মটি শুধুমাত্র ১ জানুয়ারি, ২০২৬ বা তারপরে কেনা নতুন সঞ্চয়পত্রের জন্য কার্যকর। ২. সরকারের নিয়ম অনুযায়ী কোনো ব্যক্তির সব স্কিম মিলিয়ে মোট সঞ্চয়পত্র বিনিয়োগ যদি ৫০ লক্ষ টাকার বেশি হয়, তবে মুনাফার হার আরও কিছুটা কমে আসে।

