সরকারি আপডেট নিউজ

জুন শেষ হওয়ার আগে বিনিয়োগে কর রেয়াত : সর্বোচ্চ Tax Rebate পেতে কত টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন?

চলতি ২০২৫-২৬ আয় বছরের শেষ মাস জুন। ফলে আয়করদাতাদের জন্য কর সাশ্রয়ের সুযোগও দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। যেসব ব্যক্তির করযোগ্য আয় রয়েছে এবং কর নিরূপণের পর প্রদেয় করের পরিমাণ ৫ হাজার টাকার বেশি, তারা নির্দিষ্ট খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে আয়কর রেয়াত বা Tax Rebate সুবিধা গ্রহণ করতে পারবেন। তবে এ সুবিধা পেতে হলে জুন ২০২৬-এর মধ্যেই বিনিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে।

কর বিশেষজ্ঞদের মতে, অনেক করদাতা রেয়াত পাওয়ার আশায় প্রয়োজনের তুলনায় বেশি অর্থ বিনিয়োগ করেন। কিন্তু আয়কর আইনের নির্ধারিত সীমার কারণে অতিরিক্ত বিনিয়োগ করলেও সব ক্ষেত্রে অতিরিক্ত কর রেয়াত পাওয়া যায় না। তাই বিনিয়োগের আগে রেয়াতের সীমা সম্পর্কে সুস্পষ্ট ধারণা থাকা জরুরি।

কোন কোন খাতে বিনিয়োগে Tax Rebate পাওয়া যায়?

বর্তমান আয়কর বিধান অনুযায়ী করদাতারা বিভিন্ন অনুমোদিত খাতে বিনিয়োগ করে কর রেয়াতের সুবিধা নিতে পারেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো—

  • সঞ্চয়পত্র, ট্রেজারি বিল, ট্রেজারি বন্ড ও সরকার অনুমোদিত সিকিউরিটিজে বিনিয়োগ (সর্বোচ্চ ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত)
  • দেশের স্টক এক্সচেঞ্জে তালিকাভুক্ত কোম্পানির শেয়ার, স্টক, মিউচ্যুয়াল ফান্ড ও ডিবেঞ্চার
  • জীবন বিমার প্রিমিয়াম
  • তফসিলি ব্যাংক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠানে ডিপিএস (সর্বোচ্চ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা পর্যন্ত)
  • আইন অনুযায়ী অনুমোদিত অন্যান্য বিনিয়োগ খাত

কীভাবে নির্ধারিত হয় Tax Rebate?

আয়কর আইনের বিধান অনুযায়ী Tax Rebate নির্ধারণ করা হয় তিনটি পরিমাণের মধ্যে যেটি সর্বনিম্ন, তার ভিত্তিতে। এগুলো হলো—

১. রেয়াতযোগ্য নেট আয়ের ৩ শতাংশ
২. প্রকৃত বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ
৩. ১০ লাখ টাকা

উপরের তিনটির মধ্যে যে অঙ্কটি সবচেয়ে কম হবে, সেটিকেই কর রেয়াত হিসেবে গণনা করা হবে।

সর্বোচ্চ রেয়াত পেতে কত টাকা বিনিয়োগ প্রয়োজন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, অধিকাংশ করদাতার ক্ষেত্রে রেয়াতের হিসাব নির্ভর করে রেয়াতযোগ্য নেট আয়ের ৩ শতাংশ সীমার ওপর। ফলে রেয়াতযোগ্য নেট আয় যত বেশি হবে, সর্বোচ্চ রেয়াত পেতে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগের পরিমাণও তত বাড়বে।

উদাহরণ হিসেবে, যদি কোনো করদাতার রেয়াতযোগ্য নেট আয় ২০ লাখ টাকা হয়, তাহলে এর ৩ শতাংশ হবে ৬০ হাজার টাকা। এই ৬০ হাজার টাকা রেয়াত পুরোপুরি পেতে হলে প্রয়োজন হবে প্রায় ৪ লাখ টাকা বিনিয়োগ, কারণ বিনিয়োগের ১৫ শতাংশ হিসেবেই রেয়াত নির্ধারিত হয়।

অর্থাৎ,

প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ = রেয়াতযোগ্য নেট আয়ের ২০ শতাংশ

কারণ ২০ শতাংশ বিনিয়োগের ১৫ শতাংশই নেট আয়ের ৩ শতাংশের সমান হয়।

বিনিয়োগের আগে যা বিবেচনা করা জরুরি

কর পরামর্শকরা বলছেন, শুধুমাত্র কর রেয়াত পাওয়ার উদ্দেশ্যে অযৌক্তিকভাবে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করা উচিত নয়। বরং নিজের আর্থিক পরিকল্পনা, তারল্য প্রয়োজন এবং বিনিয়োগের ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত।

বিশেষ করে শেয়ারবাজারভিত্তিক বিনিয়োগে বাজার ঝুঁকি রয়েছে, অন্যদিকে সঞ্চয়পত্র, ট্রেজারি বন্ড বা ডিপিএস তুলনামূলকভাবে নিরাপদ বিকল্প হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে বিনিয়োগের খাত নির্বাচনেও সতর্কতা প্রয়োজন।

সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে

২০২৫-২৬ আয় বছরের জন্য Tax Rebate সুবিধা নিতে হলে জুন ২০২৬-এর মধ্যেই বিনিয়োগ সম্পন্ন করতে হবে। নির্ধারিত সময়ের পর করা বিনিয়োগ আগামী আয় বছরে গণ্য হবে এবং চলতি বছরের কর রেয়াতে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

ফলে যারা এখনো কর সাশ্রয়ের পরিকল্পনা করেননি, তাদের জন্য জুন মাসের অবশিষ্ট সময়ই শেষ সুযোগ। সঠিক পরিকল্পনায় বিনিয়োগ করলে একদিকে যেমন ভবিষ্যতের সঞ্চয় গড়ে তোলা সম্ভব, অন্যদিকে বৈধভাবে করের বোঝাও কমানো যাবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *