সরকারি আপডেট নিউজ

১১ বছর ধরে অপরিবর্তিত বেতন : চরম দারিদ্র্যসীমার মুখে ২০তম গ্রেডের সরকারি কর্মচারীরা

তীব্র মূল্যস্ফীতি আর আকাশছোঁয়া জীবনযাত্রার ব্যয়ের মাঝে পিষ্ট দেশের নিম্নআয়ের সরকারি কর্মচারীরা। ২০১৫ সালের পর দীর্ঘ ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও নতুন কোনো পে-স্কেল ঘোষণা না হওয়ায় ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের জীবনযাত্রা এখন চরম সংকটে। বিশ্বব্যাংকের আন্তর্জাতিক মানদণ্ডের সাথে তুলনা করলে দেখা যায়, দেশের এই প্রান্তিক স্তরের সরকারি কর্মচারীরা কার্যত চরম দারিদ্র্যসীমার সমান্তরালে দিনাতিপাত করছেন।

বিশ্বব্যাংকের দারিদ্র্যসীমা ও ২০তম গ্রেডের বাস্তব চিত্র

বিশ্বব্যাংকের সর্বশেষ মানদণ্ড অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমা হলো দৈনিক মাথাপিছু আয় ২.১৫ ডলার (ক্রয়ক্ষমতা সমতা বা পিপিপি অনুযায়ী)। বর্তমান বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ দাঁড়ায় দৈনিক প্রায় ২৫৭ থেকে ২৬০ টাকা। এর নিচে আয় করা ব্যক্তিরা চরম দরিদ্র হিসেবে গণ্য হন।

অথচ, বাংলাদেশে বর্তমানে ২০তম গ্রেডের একজন সরকারি চাকরিজীবীর মূল (বেসিক) বেতন মাত্র ৮,২৫ো টাকা। সেই হিসাবে তাদের দৈনিক মূল বেতন দাঁড়ায় মাত্র ২৭৫ টাকা। আন্তর্জাতিক দারিদ্র্যসীমার (২৬০ টাকা) চেয়ে যা মাত্র ১৫ টাকা বেশি। এই পরিসংখ্যানই বলে দেয়, সরকারি চাকরিতে থেকেও দেশের একটি বড় অংশ কতটা অবর্ণনীয় অর্থনৈতিক কষ্টের মুখোমুখি।

স্বর্ণ ও নিত্যপণ্যের বাজারে বিশাল ব্যবধান

বিগত ১১ বছরে দেশের বাজার ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তন হলেও সরকারি কর্মচারীদের মূল বেতন এক চুলও বাড়েনি। ২০১৫ সালের অর্থনৈতিক পরিস্থিতির সাথে ২০২৬ সালের বর্তমান পরিস্থিতির তুলনা করলে এক ভয়াবহ বৈষম্য চিত্র ফুটে ওঠে:

  • স্বর্ণের মূল্য: ২০১৫ সালে দেশে প্রতি ভরি স্বর্ণের মূল্য ছিল মাত্র ৪৩,০০০ টাকা। তখন ২০তম গ্রেডের বেসিক বেতন (৮,২৫০ টাকা) দিয়ে প্রায় এক-পঞ্চমাংশ স্বর্ণ কেনা যেত। ২০২৬ সালে এসে স্বর্ণের ভরি ২ লাখ টাকা ছাড়িয়েছে। অর্থাৎ, গত ১১ বছরে স্বর্ণের দাম বেড়েছে প্রায় ৪২৫%, কিন্তু ২০তম গ্রেডের বেসিক বেতন ০.১%-ও বাড়েনি।

  • জ্বালানি ও নিত্যপণ্য: ২০১৫ সালে যে ১২ কেজির এলপিজি গ্যাস সিলিন্ডারের দাম ছিল ১০৫০ টাকা, আজ ২০২৬ সালে তা দ্বিগুণ হয়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২১০০ টাকায়।

শিক্ষা, চিকিৎসা, বাসা ভাড়া ও যাতায়াত খরচ গত এক দশকে কয়েক গুণ বাড়লেও বেতন কাঠামোর এই স্থবিরতা নিম্নস্তরের কর্মচারীদের পিঠ দেয়ালে ঠেকিয়ে দিয়েছে।

+--------------------+----------------+----------------+--------------------+
| সূচক                 | ২০১৫ সাল        | ২০২৬ সাল        | পরিবর্তনের হার     |
+--------------------+----------------+----------------+--------------------+
| ২০তম গ্রেড বেসিক     | ৮,২৫০ টাকা      | ৮,২৫০ টাকা      | ০%                 |
| প্রতি ভরি স্বর্ণ          | ৪৩,০০০ টাকা     | ২,০০,০০০+ টাকা  | +৪২৫%              |
| ১২ কেজি এলপিজি গ্যাস | ১,০৫০ টাকা      | ২,১০০ টাকা       | +১০০%              |
+--------------------+----------------+----------------+--------------------+

প্রধানমন্ত্রীর প্রতি “বাঁচতে দেওয়ার” আকুতি

ভুক্তভোগী কর্মচারীরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জনাব তারেক রহমান মহোদয়ের দৃষ্টি আকর্ষণ করে জরুরি ভিত্তিতে নতুন পে-স্কেল ঘোষণার দাবি জানিয়েছেন। তাদের স্পষ্ট দাবি—বাজারে টিকে থাকার জন্য এবং পরিবার নিয়ে ন্যূনতম সম্মানজনক জীবনযাপনের জন্য নতুন পে-স্কেলের ১ম ধাপেই বেসিক বা মূল বেতন ১০০% বৃদ্ধি করা হোক।

সংশ্লিষ্ট অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘদিন বেতন না বাড়ায় নিম্নআয়ের কর্মচারীদের ক্রয়ক্ষমতা মারাত্মকভাবে হ্রাস পেয়েছে। বাজার দরের সাথে সামঞ্জস্য রেখে অবিলম্বে বেতন কাঠামো পুনর্নির্ধারণ করা না হলে এই বিশাল জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রার মান আরও নিচে নেমে যাবে, যা সামগ্রিক অর্থনীতিতেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *