সঞ্চয়পত্র গ্রাহকদের ভোগান্তি চরমে: মোবাইল নম্বর পরিবর্তনের দীর্ঘসূত্রতায় বিপাকে সাধারণ মানুষ
বর্তমানে সঞ্চয়পত্র ক্রয় এবং তথ্যাদি সংশোধনের ক্ষেত্রে সাধারণ গ্রাহকগণ এক ভয়াবহ পরিস্থিতির মুখোমুখি হচ্ছেন। বিশেষ করে মোবাইল নম্বর এবং নমিনির তথ্য সংক্রান্ত জটিলতা এখন টক অব দ্য কান্ট্রি। সঞ্চয়পত্র অধিদপ্তরের ডিজিটাল এনএসডি (NSD) সার্ভারের সাথে গ্রাহকের তথ্যের মিল না থাকায় নতুন সঞ্চয়পত্র ক্রয় করা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়িয়েছে ।
সংকট ও ভোগান্তির নেপথ্যে
সঞ্চয়পত্র বিধিমালা অনুযায়ী, বর্তমানে ক্রেতা ও নমিনির নিজস্ব জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) বিপরীতে বায়োমেট্রিক পদ্ধতিতে নিবন্ধিত মোবাইল নম্বর থাকা বাধ্যতামূলক। তবে মাঠ পর্যায়ের চিত্র অত্যন্ত হতাশাজনক:
-
তথ্যের অমিল: গ্রাহকের হাতে থাকা সচল মোবাইল নম্বরের সাথে এনআইডি বা এনএসডি সার্ভারে সংরক্ষিত মোবাইল নম্বরের মিল না থাকায় আবেদনপত্র গ্রহণ করা হচ্ছে না ।
-
সঞ্চয় অধিদপ্তর বনাম বিক্রয় কেন্দ্র: গ্রাহকগণ সমাধানের আশায় সঞ্চয় অধিদপ্তরে গেলেও সেখান থেকে কোনো কার্যকর সুরাহা মিলছে না। অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে গ্রাহকদের পুনরায় সঞ্চয়পত্র বিক্রয় কেন্দ্র বা সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের শাখায় পাঠানো হচ্ছে।
-
দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ: তথ্য সংশোধনের জন্য ম্যানুয়ালি আবেদন করার পর তা কার্যকর হতে ১৫ থেকে ২০ দিন পর্যন্ত সময় লেগে যাচ্ছে, যা গ্রাহকদের জন্য চরম বিড়ম্বনার কারণ।
আবেদন প্রক্রিয়া ও প্রয়োজনীয় তথ্যাদি
বিদ্যমান সমস্যা সমাধানের জন্য বর্তমানে গ্রাহককে সরাসরি ব্যাংকের ম্যানেজারের কাছে একটি লিখিত আবেদনপত্র জমা দিতে হচ্ছে । আবেদনপত্রে যে সকল তথ্য প্রদান করতে হয়:
-
আবেদনকারীর তথ্য: গ্রাহক বা নমিনির নাম এবং বর্তমানে ব্যবহৃত সঠিক মোবাইল নম্বর ।
-
পরিবর্তনের ছক: বিদ্যমান (ভুল) মোবাইল নম্বর এবং যে পরিবর্তিত নম্বরটি নতুনভাবে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে তার বিস্তারিত বিবরণ ।
-
প্রয়োজনীয় নথি: আবেদনের সাথে অবশ্যই জাতীয় পরিচয়পত্র (NID) কার্ডের ফটোকপি সংযুক্ত করতে হবে ।
জনসাধারণের দাবি
সঞ্চয়পত্র মূলত মধ্যবিত্ত এবং অবসরপ্রাপ্ত বয়স্ক ব্যক্তিদের আয়ের একমাত্র নির্ভরযোগ্য মাধ্যম। অথচ সামান্য একটি মোবাইল নম্বর পরিবর্তনের জন্য ব্যাংকে বারবার যাতায়াত এবং ২০ দিন অপেক্ষা করাকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা হিসেবে দেখছেন সাধারণ মানুষ। গ্রাহকদের দাবি, সরকার যেন দ্রুত এই ভোগান্তি কমাতে একটি সহজ ডিজিটাল সমাধান বা অনলাইন পোর্টাল চালু করে, যেখানে গ্রাহক ঘরে বসেই তার তথ্য হালনাগাদ করতে পারবেন।

