সরকারি আপডেট নিউজ

৫০% পে-স্কেলের চেয়ে ১৫% বিশেষ ভাতা লাভজনক : আবদুল মালেক

সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন ৫০% পে-স্কেলের চেয়ে বর্তমানের ১৫% বিশেষ ভাতা বহাল রাখা অনেক বেশি লাভজনক ও যুক্তিযুক্ত বলে মন্তব্য করেছেন বিশিষ্ট কর্মচারী প্রতিনিধি আবদুল মালেক। সাধারণ সরকারি কর্মচারীদের একটি বড় অংশ যখন নতুন পে-স্কেলের দাবি তুলছেন, তখন এই হিসাবটিকে সম্পূর্ণ ‘অলাভজনক’ এবং ‘বাজারের জন্য হুমকিস্বরূপ’ বলে উল্লেখ করেছেন তিনি।

শনিবার এক বিবৃতিতে আবদুল মালেক সাধারণ কর্মচারীদের চোখ খুলে দেওয়ার মতো কিছু গাণিতিক হিসাব এবং এর পেছনের অর্থনৈতিক প্রভাব তুলে ধরেন।

গাণিতিক হিসাব: বিশেষ ভাতা বনাম পে-স্কেল

আবদুল মালেক তাঁর বক্তব্যে অত্যন্ত সহজ একটি হিসাবের মাধ্যমে দেখিয়েছেন কীভাবে নতুন পে-স্কেল সাধারণ কর্মচারীদের আর্থিক ক্ষতির মুখে ফেলবে। তিনি বলেন:

  • বর্তমান প্রাপ্তি (১৫% বিশেষ ভাতা): বর্তমানে কর্মচারীরা ১৫% বিশেষ ভাতা হিসেবে পাচ্ছেন ৬,৩০০ টাকা

  • ৫০% পে-স্কেলের হিসাব: যদি নতুন ৫০% পে-স্কেল দেওয়া হয়, তবে নিয়মানুযায়ী এই ১৫% বিশেষ ভাতা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল বা বাদ হয়ে যাবে।

  • প্রকৃত লাভ: নতুন স্কেল থেকে আগের ১৫% বাদ দিলে কার্যকরভাবে হাতে আসবে মাত্র ৫,০০০ টাকা

তিনি প্রশ্ন তোলেন, “তাহলে কোনটা ভালো? ৬,৩০০ টাকা রেখে দিয়ে মাত্র ৫,০০০ টাকার নতুন স্কেলের পেছনে দৌড়ানো কতটা যৌক্তিক?”

“মাঝখান থেকে বাড়বে পণ্যের দাম”

বিবৃতিতে আবদুল মালেক নতুন পে-স্কেলের সবচেয়ে বড় নেতিবাচক দিক হিসেবে বাজার মূল্যস্ফীতিকে চিহ্নিত করেছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, নতুন পে-স্কেল ঘোষণা হওয়া মাত্রই দেশের বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম এক লাফে কয়েক গুণ বেড়ে যাবে।

“নতুন পে-স্কেল হলে পকেটে টাকা আসার আগেই মাঝখান থেকে ফাও পণ্যের দাম বাড়বে। ফলে কর্মচারীদের প্রকৃত ক্রয়ক্ষমতা বাড়ার বদলে উল্টো কমে যাবে এবং তারা তীব্র আর্থিক সংকটে পড়বেন।”

দায় নিতে হবে ২২ লাখ কর্মচারীকে

সরকারি কর্মচারীদের একাংশ না বুঝেই এই ৫০% পে-স্কেলের জন্য আন্দোলন বা দাবি তুলছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, যদি এই ভুলের কারণে বাজারে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি পায় এবং কর্মচারীরা অর্থনৈতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হন, তবে তার জন্য অন্য কেউ দায়ী থাকবে না। এর জন্য দেশের ২২ লাখ সরকারি কর্মচারী নিজেই দায়ী থাকবেন

সাধারণ কর্মচারীদের প্রতিক্রিয়া

আবদুল মালেকের এই হিসাব ও বিশ্লেষণ সামনে আসার পর সাধারণ কর্মচারীদের মাঝে নতুন করে হিসাব-নিকাশ শুরু হয়েছে। অনেক কর্মচারীই এখন মনে করছেন, বাজারে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের কোনো কার্যকর ব্যবস্থা না করে শুধু নতুন পে-স্কেলের ঘোষণা দিলে তা হিতে বিপরীত হতে পারে। তার চেয়ে বর্তমান বিশেষ ভাতা এবং বাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখাই সাধারণ চাকুরিজীবীদের জন্য বেশি স্বস্তিদায়ক।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *