ইনক্রিমেন্ট/বেতন ধাপ চার্ট ২০২৬: ১ম থেকে ২০তম গ্রেডের পূর্ণ তালিকা
সরকারি চাকরিজীবীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর প্রজ্ঞাপন জারি হয়েছে। অর্থ বিভাগের প্রকাশিত ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’-এর মাধ্যমে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করা হয়েছে। অর্থ বিভাগের নোটিশে আদেশটি ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ প্রকাশিত হওয়ার তথ্য রয়েছে। বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের গেজেট তালিকাতেও ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে এস.আর.ও. নং ৩৪৭-আইন/২০২৬ হিসেবে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নতুন কাঠামোর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর একটি হলো—শুধু কোনো গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন জানলেই একজন কর্মচারীর নতুন বেতন নির্ধারণ করা যাবে না। সংশ্লিষ্ট কর্মচারীর ৩০ জুন ২০২৬ তারিখের মূল বেতন, গ্রেড, পূর্ববর্তী ইনক্রিমেন্ট এবং প্রজ্ঞাপনে নির্ধারিত পে-ফিক্সেশন বিধান বিবেচনা করেই নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করতে হবে।
১ম থেকে ২০তম গ্রেড—এক নজরে নতুন বেতন ধাপ
আপনার দেওয়া ২০২৬ সালের ইনক্রিমেন্ট/বেতন ধাপের চার্ট অনুযায়ী গ্রেডভিত্তিক প্রারম্ভিক বেতন হলো—
| গ্রেড | ১ম ধাপের মূল বেতন |
|---|---|
| ১ম | ১,৫৬,০০০ টাকা |
| ২য় | ১,৩২,০০০ টাকা |
| ৩য় | ১,১৩,০০০ টাকা |
| ৪র্থ | ১,০০,০০০ টাকা |
| ৫ম | ৮৬,০০০ টাকা |
| ৬ষ্ঠ | ৭১,০০০ টাকা |
| ৭ম | ৫৮,০০০ টাকা |
| ৮ম | ৪৬,০০০ টাকা |
| ৯ম | ৪৪,০০০ টাকা |
| ১০ম | ৩২,০০০ টাকা |
| ১১তম | ২৫,০০০ টাকা |
| ১২তম | ২৪,৩০০ টাকা |
| ১৩তম | ২৪,০০০ টাকা |
| ১৪তম | ২৩,৫০০ টাকা |
| ১৫তম | ২২,৮০০ টাকা |
| ১৬তম | ২১,৯০০ টাকা |
| ১৭তম | ২১,৪০০ টাকা |
| ১৮তম | ২১,০০০ টাকা |
| ১৯তম | ২০,৫০০ টাকা |
| ২০তম | ২০,০০০ টাকা |
অর্থাৎ চার্টে ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০ হাজার টাকা, আর ১ম গ্রেডের নির্ধারিত মূল বেতন ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা দেখানো হয়েছে। প্রকাশিত প্রতিবেদনেও ২০তম গ্রেডে ২০ হাজার এবং গ্রেড-১-এ ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে।
ইনক্রিমেন্টের পর বেতন কীভাবে বাড়বে?
নতুন বেতনস্কেলে প্রতিটি গ্রেডে একাধিক বেতন ধাপ রাখা হয়েছে। কর্মচারী নিয়মিত বার্ষিক বেতনবৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট গ্রেডের পরবর্তী ধাপে যাবেন।
গেজেটভিত্তিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬ অনুযায়ী বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির তারিখ প্রতি অর্থবছরের প্রথম দিন অর্থাৎ ১ জুলাই নির্ধারণ করা হয়েছে। নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারীর ক্ষেত্রে কোয়ালিফাইং চাকরির মেয়াদ কমপক্ষে ছয় মাস হলে বার্ষিক বেতনবৃদ্ধির সুবিধা প্রযোজ্য হবে।
তাই চার্টে থাকা ধাপগুলোকে শুধু একটি স্থির বেতন তালিকা হিসেবে দেখলে ভুল হতে পারে। এগুলো মূলত সংশ্লিষ্ট গ্রেডে কর্মচারীর বেতন অগ্রগতির ধাপ নির্দেশ করে।
২০তম গ্রেডে বেতন ধাপের উদাহরণ
আপনার দেওয়া চার্টে ২০তম গ্রেডের বেতন ধাপগুলো ধারাবাহিকভাবে দেখানো হয়েছে—
২০,০০০ → ২১,০০০ → ২২,১০০ → ২৩,২০০ → ২৪,৪০০ → ২৫,৬০০ → ২৬,৯০০ → ২৮,২০০ → ২৯,৬০০ → ৩১,১০০ → ৩২,৬০০ → ৩৪,৩০০ → ৩৬,০০০ → ৩৭,৮০০ → ৩৯,৬০০ → ৪১,৬০০ → ৪৩,৭০০ → ৪৫,৯০০ → ৪৮,৪০০ টাকা।
অর্থাৎ একজন কর্মচারী ২০তম গ্রেডে প্রারম্ভিক ধাপে ২০ হাজার টাকা মূল বেতন দিয়ে শুরু করলে নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী বেতনবৃদ্ধির মাধ্যমে ধাপে ধাপে উচ্চতর মূল বেতনে যেতে পারবেন।
একইভাবে ১৯তম, ১৮তম, ১৭তম, ১৬তমসহ অন্যান্য গ্রেডেও আলাদা বেতনক্রম রয়েছে।
১৬তম গ্রেডের ক্ষেত্রে কী দেখা যাচ্ছে?
চার্ট অনুযায়ী ১৬তম গ্রেডের শুরু ২১,৯০০ টাকা দিয়ে। পরবর্তী ধাপগুলোতে—
২১,৯০০ → ২৩,০০০ → ২৪,২০০ → ২৫,৪০০ → ২৬,৭০০ → ২৮,০০০ → ২৯,৪০০ → ৩০,৯০০ → ৩২,৪০০ → ৩৪,০০০ → ৩৫,৭০০ → ৩৭,৫০০ → ৩৯,৪০০ → ৪১,৩০০ → ৪৩,৪০০ → ৪৫,৬০০ → ৪৭,৯০০ → ৫০,২০০ → ৫২,৯০০ টাকা।
এখান থেকে বোঝা যায়, কোনো কর্মচারী শুধু ১৬তম গ্রেডে আছেন বলেই তাঁর নতুন মূল বেতন ২১,৯০০ টাকা হবে—এমন নয়। তিনি ওই গ্রেডের কোন ধাপে আছেন, সেটিই চূড়ান্ত মূল বেতন নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ।
৯ম গ্রেডে প্রারম্ভিক বেতন ৪৪ হাজার টাকা
চার্টে ৯ম গ্রেডের প্রারম্ভিক বেতন ৪৪,০০০ টাকা। এরপর ধাপে ধাপে তা—
৪৪,০০০ → ৪৬,২০০ → ৪৮,৬০০ → ৫১,০০০ → ৫৩,৫০০ → ৫৬,২০০ → ৫৯,০০০ → ৬২,০০০ → ৬৫,১০০ → ৬৮,৩০০ → ৭১,৭০০ → ৭৫,৩০০ → ৭৯,১০০ → ৮৩,০০০ → ৮৭,২০০ → ৯১,৫০০ → ৯৬,১০০ → ১,০০,৯০০ → ১,০৫,৯০০ টাকা পর্যন্ত দেখানো হয়েছে।
প্রকাশিত জাতীয় বেতনস্কেল-সংক্রান্ত তথ্যেও ৯ম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন ৪৪ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে।
১০ম গ্রেড থেকে নিচের গ্রেডে আলাদা হিসাব গুরুত্বপূর্ণ
নতুন স্কেলে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির কাঠামো ৯ম ও তদূর্ধ্ব গ্রেডের তুলনায় আলাদাভাবে নির্ধারিত হয়েছে। গেজেটভিত্তিক প্রতিবেদনে এই দুই শ্রেণির জন্য বাস্তবায়নের হারও পৃথক হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
এ কারণে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের ক্ষেত্রে পুরোনো মূল বেতন থেকে নতুন বেতন নির্ধারণের সময় সংশ্লিষ্ট ফিক্সেশন রুল অনুসরণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়—চার্টের প্রথম ধাপই সবার নতুন বেতন নয়
নতুন পে-স্কেল নিয়ে সবচেয়ে বেশি বিভ্রান্তির জায়গা হতে পারে এটি।
ধরা যাক, একজন কর্মচারী ১৬তম গ্রেডে আছেন। চার্টে ১৬তম গ্রেডের শুরু ২১,৯০০ টাকা দেখে ধরে নেওয়া যাবে না যে ওই কর্মচারীর নতুন মূল বেতনও ২১,৯০০ টাকা হবে।
কারণ একই গ্রেডে কর্মরত একজন কর্মচারী কয়েক বছর ধরে একাধিক ইনক্রিমেন্ট পেয়ে থাকতে পারেন। অন্যদিকে একই গ্রেডে সদ্য আসা কর্মচারীর বেতন তুলনামূলকভাবে কম ধাপে থাকতে পারে। তাই দুজনের নতুন মূল বেতন একই হওয়া বাধ্যতামূলক নয়। পে-ফিক্সেশন বিধান অনুযায়ী ৩০ জুন ২০২৬-এর বেতন ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক তথ্য বিবেচনায় নিয়ে নতুন বেতন নির্ধারণ করতে হবে।
১ জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর নতুন স্কেল
জাতীয় বেতনস্কেল ২০২৬-এর কার্যকারিতা ১ জুলাই ২০২৬ থেকে ধরা হয়েছে। গেজেট সেপ্টেম্বর মাসে প্রকাশিত হলেও কার্যকর তারিখ জুলাই হওয়ায় ১ জুলাই থেকে গেজেট প্রকাশ পর্যন্ত সময়ের প্রাপ্য বেতন পার্থক্য বা বকেয়া নিয়ে সরকারি কর্মচারীদের মধ্যে বিশেষ আগ্রহ তৈরি হয়েছে। গেজেটভিত্তিক সংবাদ প্রতিবেদনে ওই সময়ের বকেয়া পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বকেয়া কীভাবে, কোন মাসে এবং কোন প্রক্রিয়ায় পরিশোধ হবে—সেটি সংশ্লিষ্ট বাস্তবায়ন নির্দেশনা ও হিসাবরক্ষণ প্রক্রিয়ার ওপর নির্ভর করবে।
নতুন পে-স্কেলে ২০টি গ্রেড বহাল
নতুন বেতন কাঠামোতে বিদ্যমান ২০টি গ্রেডই রাখা হয়েছে। প্রারম্ভিক বেতনের ক্ষেত্রে গ্রেডভেদে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রকাশিত বিশ্লেষণ অনুযায়ী, নতুন স্কেলে গ্রেডভেদে প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধির হার ১০০ শতাংশ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত হয়েছে। ১ম থেকে ১১তম গ্রেডে প্রারম্ভিক মূল বেতন ১০০ শতাংশ এবং ১২তম থেকে ২০তম গ্রেডে তুলনামূলক বেশি হারে বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে।
পে-ফিক্সেশনের আগে যে তথ্যগুলো হাতে রাখতে হবে
নতুন বেতন নির্ধারণের সময় সরকারি কর্মচারীদের কয়েকটি বিষয় বিশেষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন—
প্রথমত: ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে নিজের মূল বেতন কত ছিল।
দ্বিতীয়ত: ৩০ জুন ২০২৬ তারিখে কোন গ্রেডে কর্মরত ছিলেন।
তৃতীয়ত: সংশ্লিষ্ট গ্রেডের ২০২৬ সালের নতুন বেতনক্রম।
চতুর্থত: পূর্ববর্তী ইনক্রিমেন্ট ও বেতন নির্ধারণের তথ্য।
পঞ্চমত: গেজেটে নির্ধারিত পে-ফিক্সেশন পদ্ধতি।
এরপর সংশ্লিষ্ট বিধান অনুসরণ করে নতুন মূল বেতন নির্ধারণ করতে হবে।
২০২৬ সালের বেতন ধাপ চার্ট কেন গুরুত্বপূর্ণ?
এই চার্টের মূল গুরুত্ব হলো—এক নজরে একজন সরকারি কর্মচারী তাঁর গ্রেডের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত সম্ভাব্য বেতন ধাপের অবস্থান বুঝতে পারবেন।
বিশেষ করে—
- নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কর্মচারী;
- দীর্ঘদিন একই গ্রেডে কর্মরত কর্মচারী;
- পদোন্নতি পাওয়া কর্মচারী;
- উচ্চতর গ্রেডপ্রাপ্ত কর্মচারী;
- পে-ফিক্সেশন করতে যাওয়া কর্মচারী;
- ইনক্রিমেন্টের পর নতুন মূল বেতন যাচাই করতে আগ্রহী কর্মচারী—
সবার জন্য গ্রেডভিত্তিক বেতন ধাপের তালিকাটি গুরুত্বপূর্ণ।
তবে ব্যক্তিগত বেতন নির্ধারণের ক্ষেত্রে চার্টের কোনো একটি অঙ্ক সরাসরি প্রয়োগ না করে ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ এবং সংশ্লিষ্ট পে-ফিক্সেশন বিধান অনুসরণ করতে হবে। অর্থ বিভাগের সরকারি নোটিশে আদেশটি প্রকাশিত হয়েছে এবং সরকারি গেজেট তালিকাতেও সংশ্লিষ্ট আদেশ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
শেষ কথা
২০২৬ সালের নতুন বেতনস্কেলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন শুধু প্রারম্ভিক মূল বেতন বৃদ্ধি নয়; বরং প্রতিটি গ্রেডে নতুন বেতনক্রম, বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, পে-ফিক্সেশন এবং ধাপে ধাপে বেতন বৃদ্ধির সমন্বিত কাঠামো।
আপনার দেওয়া চার্টে ১ম থেকে ২০তম গ্রেড পর্যন্ত প্রতিটি গ্রেডের ধাপ বিস্তারিতভাবে দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে সর্বনিম্ন প্রারম্ভিক মূল বেতন ২০তম গ্রেডে ২০,০০০ টাকা এবং সর্বোচ্চ নির্ধারিত মূল বেতন ১ম গ্রেডে ১,৫৬,০০০ টাকা। কিন্তু কোনো কর্মচারী বাস্তবে কোন ধাপে বেতন পাবেন, সেটি নির্ভর করবে তাঁর পূর্ববর্তী মূল বেতন ও গেজেটে নির্ধারিত পে-ফিক্সেশন বিধানের ওপর।
অফিসিয়াল উৎস: অর্থ বিভাগের ‘চাকরি (বেতন ও ভাতাদি) আদেশ, ২০২৬’ | বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরের গেজেট তালিকা


